প্রত্নতত্ত্ববিদ
বুলবুল আহমেদ
সহকারী অধ্যাপক,
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলা প্রত্নতত্ত্ব শব্দটি ‘প্রত্নপ’ ও ‘তত্ত্ব’ ধাতু দুটির সমন্বয়, যার অর্থ পুরাতন বিষয়ক জ্ঞান। প্রচলিত ধারণায়, বস্তুগত নিদর্শনের ভিত্তিতে অতীত পুনঃনির্মাণ করার বিজ্ঞানকেই প্রত্নতত্ত্ব বলে চিহ্নিত করা হয়। প্রত্নতত্ত্ববিদের কাজ হলো বিষয়কে বিশ্লেষণ করে প্রাচীনকালের মানুষ এবং পরিবেশ ও প্রকৃতির তত্কালীন চিত্র বোঝা এবং তার মাধ্যমে মানুষ ও পরিবেশ-প্রকৃতির পরিবর্তনের ধারা ব্যাখ্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের মানুষ এবং পরিবেশের রূপরেখা নির্মাণ করা। নিজেদের মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে এই সেক্টরে সফল হয়েছেন এমনই একজনের কাছে জানব এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে তার পরামর্শ।
১৯৯৪ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন বুলবুল আহমেদ। তবে কৈশোর থেকেই দানিকেন, রাকিব হাসানের লেখালেখি পড়ে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ের উপর প্রচুর আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। স্কুলের বন্ধুরা মিলে সাইকেলে চেপে মেহেরপুরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান, যেমন, আমঝুপি নীলকুঠী মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ ঘুরতে যেতেন। পুরাতন জিনিসের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল তার তখন থেকেই। গত ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে নলিনী কান্ত ভট্টশালীর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সেমিনারে ‘বাংলাদেশে প্রাপ্ত ছাপাঙ্কিত মুদ্রা :একটি পর্যালোচনা’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি। তার প্রকাশনার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো—বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত ‘The Mahasthan Hoard II of Silver Punch-Marked Coins’. ছাপাঙ্কিত মুদ্রার উপর গবেষণা করে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন ২০০৮ সালে। বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে তার ১৫টি প্রবন্ধ। আর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৬টি। বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন ইট নির্মিত প্রত্নতাত্ত্বিক ইমারতের সংরক্ষণ বিষয়ে। নতুনদের সর্ম্পকে তিনি বলেন, ‘নতুনরা যারা পেশা হিসাবে প্রত্নতত্ত্বকে গ্রহণ করার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে তারা বেশ ভালো করছে। এ প্রসঙ্গে আমি আমার নবীন সহকর্মী মিজানুর রহমান, সাবিকুন নাহারের নাম উল্লেখ করতে চাই। তবে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় আরও অনেক প্রতিভাবান শিক্ষার্থী পেশা হিসেবে প্রত্নতত্ত্বকে গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে তারা অন্য পেশাতে নিয়োজিত হচ্ছে। নতুনদের প্রতি আমার শুধু একটিই আশা তারা যেন সকল ক্ষেত্রে সত্ থাকে। পেশাগত ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হলে নিজেকে প্রশ্ন করে যেন সমাধান পেতে সচেষ্ট হয়।’
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার
এম আর জামিল
নির্বাহী পরিচালক (টেক্সটাইল)
আকিজ টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড
বিশ্বের বস্ত্র চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিনে দিনে আমাদের দেশে অসংখ্য বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানে রয়েছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক চাহিদা। তাই পেশা হিসেবে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বা বস্ত্র প্রকৌশলী যথেষ্ট সম্ভাবনাময়। শিল্প প্রতিষ্ঠানের সবক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। সুতা থেকে পোশাক বানানোর প্রযুক্তিনির্ভর পুরো প্রক্রিয়াটিই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়। তাই এবার এ পেশার সফল একজনের কাছ থেকে জানব এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে তার পরামর্শ।
পেশাগত জীবনের শুরুতে একটি ইনডেনটিং ফার্মে কাজ করার কারণে ও পারিবারিক উত্সাহে ছোটখাটো একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা করলেও তখনকার পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় ওই স্বপ্ন বাদ দিতে হয়েছিল তাকে। চাকরি জীবনের ৯ মাসের মাথায় অনেকটা দ্বিধান্বিতভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিটিএমসি টঙ্গীস্থ মুন্নু টেক্সটাইল মিলে ১৯৮৫ সালের ২০ জানুয়ারি যোগ দেন। পরবর্তী পর্যায়ে বিটিএমসির প্রধান কার্যালয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগে মোট ১০ বছর সাফল্য এবং সুনামের সাথে কাজ করার পর ১৯৯৫ সালে এ্যাপেক্স গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। আর বর্তমানে কাজ করছেন আকিজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে। তার কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে এমআর জামিল বলেন, ‘আমি কাজপ্রিয় মানুষ। কাজের মধ্যে ডুবে থাকতে ভালোবাসি। পরিবারের পিছনে খুব একটা সময় দিতে পারি না। তাই বলে বিচ্ছিন্ন মানুষ নই। শত ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের জন্য সময় খুঁজে নিতে হয়। আর নিজের কাজ সম্পর্কে বলতে গেলে এর পরিধি অনেক, তুলা থেকে শুরু করে ফিনিশড কাপড় উত্পাদন, মান বজায় রাখা, পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রকল্প এই সব নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। যেকোনো নতুন প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সৃজনশীলতার আনন্দ পাই।’ নতুনদের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নতুনরা অবশ্যই মেধাবী তবে, যেকোনো কাজে সবার আগে ধৈর্যশীল হতে হবে। স্বল্প অভিজ্ঞতা নিয়েই সুযোগ থাকার কারণে ঘন ঘন চাকরি পরিবর্তন করায় চাকরিদাতা এবং চাকরিজীবী উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যেহেতু পেশাটি সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত তাই আমি বলব এই পেশায় দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। প্রথমে দক্ষ প্রযুক্তিবিধ বা প্রকৌশলী হিসেবে নিজেকে ধৈর্যের সাথে প্রস্তুত করে তার পর প্রত্যাশা করা উচত্। নতুনরা সিনিয়রদের কাছ থেকে শিখবে এবং তাদের সম্মান করবে এটাই আশা করি।’
