ইমরানা শারমীন ২০০৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এ ‘রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট পার্সন’ হিসেবে যোগদান করেন। এর পরের বছর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি’তে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ২০০৯ সালে সিনিয়র প্রভাষক হিসেবে ‘ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি’তে যোগদান করেন। আরো অনেক ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ থাকলেও অর্থনীতি আর শিক্ষকতার প্রতি বিশেষ ভালোলাগায় তিনি শিক্ষকতা পেশায় থেকে গেছেন।
প্রতি মুহূর্তেই ইমরানা শারমীন প্রতিযোগিতা করছেন নিজের সাথে, নিজের কাজের সাথে। কর্মজীবনে প্রবেশের আগে পড়াশোনা অবস্থায় ইমরানা শারমীন চাকরির জন্য যেমন নিয়মিত করেছেন পড়াশোনা তেমনি এখনো পড়াশোনার মধ্যেই পার করেন দিনের কিছুটা সময়।
নিজের কাজ সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ইমরানা বলেন, ‘কোনো কাজই ছোট নয়। সব কাজের গ্রহণযোগ্যতা যেমন সমান তেমনি সব পরিসরের কাজেই নিজেকে তুলে ধরার বা যোগ্যতা প্রমাণ করার সুযোগ থাকে বিস্তর। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা অবস্থায় কিংবা পারিবারিকভাবেই বেসরকারি চাকরির প্রতি আমার একটা বিশেষ টান ছিল। বিশেষভাবে শিক্ষকতা বা অর্থনীতি নিয়ে কাজ করার প্রতি। আর আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তখনই অর্থনীতি বিষয়টিকে আমার অমৃত মনে হতো। আমি এই বিষয়টিতে একটা অসাধারণ তৃপ্তি খুঁজে পেতাম যার কারণে তখন থেকেই আমার ভিতরে গ্রন্থিত হয়ে যায় এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করে যাবার। তাই পড়াশোনা শেষ করার পর অন্য কোনো পেশার প্রতি মনোযোগী না হয়ে ঝোঁক ছিল অর্থনীতিতে পড়ানো অথবা অর্থনীতি নিয়ে গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতি। তাছাড়া এ কাজে একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয়ও আছে। তত্সঙ্গে কাজের ক্ষেত্র পরিবেশ সম্মান সব মিলিয়ে মনে হয়েছে এ পেশা আমার জন্য মনোউদ্দীপক হবে। আমি আমার পছন্দের কাজ পেয়েছি; এখন এ কাজ শতভাগ উপভোগ করছি।’
কাজের পরিবেশ বলতে শারমীন মনে করেন, ‘সময় অনেক এগিয়েছে। এখন আর ছেলে বা মেয়ে বলে কোনো ভিন্ন কথা নেই কি ঘরে কি বাইরে কিংবাা কর্মক্ষেত্রে। সবাই যেমন স্বাধীন তেমনি সবাই সমান। ছেলে বা মেয়ে সে যেই হোক কাজের পরিবেশ তাকে মানিয়ে নিতে হয় অতঃপর সে পরিবেশে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে হয়। কাজ ও কাজের দক্ষতাই এগিয়ে নেয় যে কাউকে। আর অনুকূল বা প্রতিকূল সেটা সময়ের স্রোত! আমরাই অনুকূলতা তৈরি করি আবার আমরাই প্রতিকূলতা তৈরি করি। কখন কি করতে হবে তা আমাদেরই ঠিক করতে হবে এবং সে অনুযায়ী নিজের বুদ্ধি-বিবেচনা কাজে লাগিয়ে কাজ করতে হবে-করতে হয়।
নতুনদের প্রতি শারমীনের কথা, ‘একজন ছাত্রের মনে রাখতে হবে যে ছাত্র জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে ‘সময়’। সময়ের যথাযথ ব্যবহার তাকে একজন সফল মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে নিয়ে যেতে পারে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে তাকে যথাযথ ভূমিকা পালনের সুযোগ করে দিতে পারে। তাই জীবনের এই সময়ে পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। সেই সাথে নিজের সাথে বোঝাপড়া করতে হবে যে সে কি করতে বা কি হতে চায় অথবা নির্দিষ্ট একটা সময়ে সে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চায়। বিশেষ করে প্রত্যেককে ছাত্র অবস্থাই ঠিক করতে হবে সে ভবিষ্যতে কি করবে। সে মাফিক তাকে একটু একটু করে প্রস্তুতি নিতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি অতিরিক্ত পড়াশোনা বা চাকরির জন্যও প্রস্তুতি নেয়া ভালো তাতে সময় পাওয়া যায় অধিক। যে বিসিএস দিতে চায় তাকে বিসিএস এর জন্য আর যে করপোরেট লেভেলে আসতে চায় তাকে সে মাফিক মনোপ্রস্তুতি নিতে হবে অথবা যে ব্যাংকিং সেক্টরে কাজ করতে আগ্রহী তাকে এ বিষয়ে দক্ষ হতে হবে। পথ ছেড়ে বিপথের পথিক কখনো পথ পায় না: তা নিশ্চিত!
