আবার অভিযানে যাচ্ছেন নিশাত-মুহিত

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:০০
নিশাত মজুমদার  একবছর পর পর্বতারোহনে যাচ্ছেন অনুভূতি কেমন? নিশাত: পর্বতারোহণ আমার নেশা। তাই পর্বতারোহণে যেতে পেরে অবশ্যই ভাল লাগছে। আমি একটা চাকরি করি। সব সময় ছুটি পাই না। তাই বাধাও থাকে।  আপনি কেন এক বছর অভিযান করেননি? নিশাত: আপনারা অনেকেই জানেন, হিমালয়ে অভিযানের দু’টি মৌসুম আছে। আমরা পর্বতারোহীরা দুই মৌসুমেই পর্বতারোহণে যাওয়ার চেষ্টা করি। এটা আমাদের ভালো লাগে। আবার এর জন্য শারীরিক ফিটনেসের প্রয়োজনও আছে। কিন্তু এই অভিযানের সাথে স্পন্সরের সম্পর্ক আছে। পর্বোতারোহণ এত ব্যয়বহুল একটি খেলা যে এর ব্যয় ভার আমাদের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। মূলত স্পন্সরের অভাবে আমার যাওয়া হয়নি।  এত জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার পরও স্পন্সরের অভাব হল? নিশাত: হল তো! স্পন্সর যোগাতে পাহাড়ে ওঠার মতোই কষ্ট করতে হয় আমাদের।  আপনার এভারেস্ট জয়ের আগে ও পরে এদেশের মেয়েদের পর্বতারোহণের উপর কেমন প্রভাব পড়েছে? নিশাত: অনেক ভাল প্রভাব পড়েছে। এখন অনেক মেয়েরা যেমন আসছে, তেমনি পরিবার ও তাদের সহযোগিতা করছে। আমার শুরু করার সময় এটা ছিল না।  মেয়েদের এই ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কি? নিশাত: মেয়েদের নিজের অন্তর্নিহিত প্রতিবন্ধকতাকে দূর করা প্রধান প্রতিবন্ধকতা। তারপর সমাজ। আমরা মেয়ে, তাই আমাদের ভাবতে হয়— এই কাজ করবো কি-না কিংবা কে আমাদেরকে কিভাবে নেবে। আর সমাজ মেয়ে বলে বেড়ি দেয় পায়ে। তবে একদিন অনেক মেয়ে আসবে। পেশা হিসেবেও পর্বতারোহণকে নেয়া যাবে সেদিন। কারণ দশ বছর আগের চেয়ে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে।  আপনারা যৌথ অভিয়ানে যান। এর সুবিধা এবং অসুবিধা কি? নিশাত: আমরা অনেক দিন পরিবারের বাইরে থাকি। প্রথমত একজন দেশের চেনাজানা মানুষ থাকলে নিঃসন্দেহে ভালো লাগে। তারপর মুহিত ভাই অনেক অভিজ্ঞ ও হেলপফুল। তাছাড়া তার অভিজ্ঞতা আমার কাজে লাগে। এম এ মুহিত  স্পন্সরের অভাবে নিশাত এক বছর অভিযানে যেতে পারেনি। এটা আপনি কিভাবে দেখেন? মুহিত: এটা দুঃখজনক যে আমাদের দেশে এখনও স্পন্সরের অভাব আছে। তবে নিশাত এভারেস্ট জয়ের ঠিক পরের সিজনে ইচ্ছে করেই যায়নি।  নিশাতের এক বছর বসে থাকায় কোন প্রভাব কি তার এই অভিযানে পড়বে? মুহিত: একজন পর্বতারোহী যত বেশি অভিযান করবে ততই তার ফিটনেস থাকবে। তারপরও নিশাত শরীর চর্চা করেছে। প্রস্তুতিও নিয়েছে।  আমাদের দেশের নারীদের অবস্থা এ ক্ষেত্রে কেমন? মুহিত: নারীরা এভারেস্ট জয় করার পরে নিঃসন্দেহে ভাল হয়েছে। আমাদের টিমে যেখানে দু’জন নারী ছিল, এখন সেখানে ১৫ জন হয়েছে। পর্বতে পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিকূলতার শিকার হতে হয় নারীদের। তারপরও নারীদের এগিয়ে আসা অনেক বড় বিষয়।  আপনারা যৌথ অভিযান করেন। এই ব্যাপারটাকে কিভাবে দেখেন? মুহিত: আমি আর নিশাত দীর্ঘদিন এক সাথে পর্বতারোহণ করছি। তাই অভিযানে আমাদের মধ্যে একটা ভালো বোঝাপড়া আছে। বিভিন্ন খেলায়ও দেখবেন জুটি করে খেলে ভাল করা যায়। এটা একটা বিপজ্জনক খেলা। এখানে দুজনে বিপদের মুহুর্তে দু’জনকে সহযোগিতা করা যায়। যা আবশ্যই ভাল দিক।