বড়াইগ্রামে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে চান শের আলী

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:২৯
আলহাজ্ব শের আলী শেখ (৬০)। বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোয়ালফা গ্রামে। পৈত্রিক ব্যবসা আর বিষয়-সম্পত্তি দেখাশুনা করতে গিয়ে লেখাপড়া বেশি দূর করতে পারেন নি। কিন্তু এলাকার অবহেলিত মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার পথকে সুগম করতে বড়াইগ্রামে একটি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে চান তিনি। ইতিমধ্যে বড়াইগ্রামে মহিলা বিশ্ব ইজতেমা চালু ও মহিলা ডিগ্রী কলেজসহ প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। বড়াইগ্রামের মৌখাড়ায় নারী শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে তিনি ১৯৯৫ সালে নিজের সাড়ে ৪ বিঘা জমি দান করে মৌখাড়া ইসলামীয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ১৯৯৬ সালে ৭ বিঘা জমির উপরে মৌখাড়া ইসলামীয়া মহিলা ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন । কলেজ ও স্কুলের শতাধিক ছাত্রী চারতলা বিশিষ্ট ছাত্রী হোস্টেল থেকে লেখাপড়া করছে। একই ক্যাম্পাসে পথচারী ও স্থানীয় লোকজনের সুবিধার্থে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। এর আগে ১৯৭২ সালে ৪০ শতাংশ জমি দান করে রাথুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এছাড়া মৌখাড়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, মৌখাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, গোয়ালফা কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কমপড়্গে ১৫টি স্কুল-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় তিনি নানা ভাবে সহযোগিতা করেছেন। মৌখাড়া বৃদ্ধাশ্রমসহ কমপক্ষে ১৫টি মসজিদ স্থাপনে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া মহিলা কলেজের পাশে গত ২০০৭ সাল থেকে তিনি প্রতি বছর তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপী মহিলা বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করে আসছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ভারতসহ কয়েকটি দেশের মহিলারা এ ইজতেমায় অংশ নেন। শের আলী শেখ জানান, আমাদের দেশের মেয়েরা লেখাপড়ায় পিছিয়ে রয়েছে। তাই মেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে স্কুল ও মহিলা কলেজ করেছি। এবার একটি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় করতে চাই। সরকার যদি বড়াইগ্রামে একটি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়, তাহলে তার জন্য যতটুকু জমি লাগবে, তার পুরোটাই আমি এককালীন দিতে প্রস্তুত আছি। এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অথবা সরকারী পলিটেকনিক্যাল কলেজ স্থাপন করলে তার জন্য প্রয়োজনীয় জমিও দিতে রাজি আছি আমি। মৃত্যুর আগে সরকার বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় একটি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে চাই।