আয়কর মেলার প্রথম দিনেই করদাতাদের আগ্রহ

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৫৫
গতকাল সোমবার থেকে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে আয়কর মেলা শুরু হয়েছে। রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের কর দেয়ার সংস্কৃতিতে পরিবর্তন এসেছে। এবারের মেলার বিশেষত্ব হলো সব জেলায় কর মেলা হচ্ছে। আগামীকাল সিলেটে কর মেলার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তার। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন এবারের মেলায় দেশব্যাপী দেড় লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া মেলায় অন্তত ১ হাজার ১শ’ কোটি কর পাওয়া যাবে বলেও মনে করেন তিনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চতুর্থবারের মত এ মেলার আয়োজন করেছে। মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে দেখা গেছে, উদ্বোধনের পরপরই করদাতাদের আনাগোনা বেড়ে যায়। কেউ আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া, আবার কেউ নতুন কর সনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সংগ্রহ করতে এসেছেন। তবে প্রথম দিনেই এসব করদাতারা বিড়ম্বনার মুখে পড়েন। বিশেষত অনলাইনে ই-টিআইএন নিবন্ধন ও পুনঃনিবন্ধন করতে গিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন। অনেক বয়স্ক করদাতাকে এ নিয়ে হয়রান হতে দেখা গেছে। অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। আবার মেলা চালুর পর সার্ভারের ত্রুটির কারণে বেশ খানিকক্ষণ কাজ বন্ধ থাকে। কর প্রদান সংক্রান্ত সকল কাজ অনলাইনে করার লক্ষ্য রয়েছে এনবিআরের। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ই-পেমেন্ট, ই-টিআইএন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ফলে ইন্টারনেট বা সার্ভারের ত্রুটির কারণে এই কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। এ জন্য নির্বাচন কমিশনে রক্ষিত জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে এনবিআর। নতুন করে ই-টিআইএন নিবন্ধন ও পূনঃনিবন্ধনেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এনবিআরের নিয়ম অনুযায়ী নতুন করে বিদ্যমান করদাতাদেরও ই-টিআইএন পুনঃনিবন্ধন করতে হচ্ছে। গত ত্রিশ বছর ধরে কর দিয়ে আসছেন সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপেন্দ্র চন্দ্র বল। সমপ্রতি নারায়ণগঞ্জে করা তার ই-টিআইএন পুনঃনিবন্ধন করতে গেলে কর কর্মকর্তা ভুলবশত নতুন নিবন্ধন দিয়ে দেন। এই ভুলটি আবিষ্কার হলে সেখানে একটি আবেদন দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। সেখান থেকে কর অঞ্চল-১৫তে যেতে বলা হয়। কর অঞ্চল-১৫তে গেলে আয়কর মেলায় যেতে বলা হয়। কিন্তু মেলায় এসে এদিক-সেদিক ঘুরেও কোন সমাধান পাচ্ছিলেন না তিনি। গতকাল অনেকেই এরকম সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশনে রক্ষিত তথ্যের ক্ষেত্রে কোনরূপ পরিবর্তনের সুযোগ আমাদের নেই। পরিবর্তন করতে হলে সেখান থেকে আগে পরিবর্তন করে আনতে হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য ভাণ্ডারের বাইরে যাওয়ার সুযোগ আমাদের নেই।