স্থানীয় সরকারে তিনটি স্তরের ১৩২ জন জনপ্রতিনিধিকে সংশ্লিষ্ট পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেণ্ড) করা হয়েছে। গত দুই বছরে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এসব আদেশ জারি করে। বরখাস্তকৃতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িত থাকার মতো ফৌজদারি অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, সাময়িক বরখাস্তকৃত জনপ্রতিনিধির মধ্যে আছেন ৭৮ জন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, ২৬ জন মেম্বার, ১১ জন পৌর মেয়র, দুইজন কাউন্সিলর এবং ১২ জন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ৩ জন ভাইস চেয়ারম্যান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাসপেণ্ডকৃত জনপ্রতিনিধিদের অধিকাংশই বিএনপি-জামায়াত সমর্থক বা দলীয় স্থানীয় নেতা। যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ করে এদের অনেকে সরকার বিরোধী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়। তবে ইতিমধ্যে সাসপেণ্ড করা বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধি হাইকোর্টে রীট করে সাসপেণ্ড আদেশ স্থগিত করিয়েছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এখন হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ জানায়, সাসপেণ্ড করা চেয়ারম্যান ও মেয়রদের জায়গায় প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেয়রদের দায়িত্ব দিয়ে দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান বলেন, “জনপ্রতিনিধিরা যে দলের সমর্থক হয়ে থাকুন না কেন, তাদের দায়িত্ব ‘জনসেবা’। কিন্তু তারা সে কাজ না করে যদি হিংসাত্মক কাজের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদের ক্ষতি করেন এবং ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন তবে তাদেরকে আইনানুগভাবে অপসারণ করা ছাড়া আমাদের কোন পথ খোলা নেই।” এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিএনপি-জামায়াত দেখে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ নাকচ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ‘লোকাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-(এলজিএসপি) ২ প্রকল্প’-তে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বরখাস্ত করা হয়। ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পের অধীনে গ্রামীণ সমাজে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সারাদেশের চার হাজার ৫৪২টি ইউনিয়ন পরিষদে লোকাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ প্রকল্পের অধীনে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। প্রকল্পের টাকা লুটেপুটে খেয়েছেন ১০৪ জন ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বর।
অন্যদিকে, ২০১০-১১ অর্থবছরে ‘লোকাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-১ প্রকল্পের’ টাকা লুটপাট করায় ১২২টি ইউনিয়নের সরকারি বরাদ্দ বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। গত বছর মন্ত্রণালয়ের এক নিরীক্ষণে অনিয়ম ধরা পড়ে। এরপরই বরাদ্দ বাতিল করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
১২২টি ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ বাতিল হওয়ার বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম মোজাম্মেল হক বলেন, অনিয়মের কারণে গত একবছর ধরে ১২২টি ইউনিয়ন পরিষদে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না। তবে যারা বরাদ্দ চেয়ে নতুনভাবে আবেদন করেন এবং অভিযোগ খণ্ডন করতে পেরেছেন এরকম ১০০ ইউনিয়নকে আবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেশের সকল জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে সহিংসতায় জড়িত স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। সেই তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অনেকেই অপরাধে জড়িত থাকায় এখন গা ঢাকা দিয়েছেন। রামু’র বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বান্দরবন জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাইল আহামদ, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম শাহাজালাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
