ভাঙ্গনের হুমকিতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও সড়ক

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২৭
গোয়ালন্দে পদ্মা নদী এবার ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে তিনটি ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবার সব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙ্গন রোধ করা না গেলে বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে দৌলতদিয়া ঘাট, মহাসড়ক, রেলসড়কসহ বহু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।স্থানীয় পানি উন্নয়নবোর্ড প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে নদী তীর সংরক্ষণে ১৫০ কোটি টাকা দরকার। জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের পর থেকে দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম এবং ছোট ভাকলা ইউনিয়নের ১৩টি গ্রাম পদ্মা নদীর ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসনের নিকট প্রেরিত তথ্যে ২,৬৭০টি পরিবার নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় ইতিমধ্যে প্রায় ৩ হাজারে উন্নীত হয়েছে বলে ধারণা। ভাঙ্গন কবলিত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় নদী তীর সংরক্ষণ করা না হলে এবং ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে ইউনিয়ন তিনটির অবশিষ্ট কয়েক হাজার পরিবার এবং বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সম্পদ বিলীন হয়ে যাবে। এরপর পদ্মা সরাসরি আঘাত হানবে দৌলতদিয়ার ক্যানালঘাট, লঞ্চ ও ফেরিঘাট, মহাসড়ক ও রেল সড়কে। এতে ঘাট ও মহাসড়ক-রেলসড়ক বিলীন হয়ে রাজধানী ও অন্যান্য এলাকার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সাথে রেলস্টেশন, টার্মিনাল, বাজার, স্কুল, মাদ্রাসাসহ অন্যান্য স্থাপনা বিলীন হওয়ার আশংকা দেখা দেবে। ৮/১০ বছরের মধ্যে এবার পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামানসহ একটি প্রতিনিধি দল ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। বিআইডব্লি¬উটিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আইয়ুব আলী বলেন, ভাঙ্গন প্রতিরোধে এখনই ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তা না হলে এবং ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে দৌলতদিয়াঘাট ও জাতীয় মহাসড়ক হুমকির মুখে পড়তে পারে।