গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া বন্দর রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনের কারণে বন্দরের ৫শ’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শতাধিক পাটের গুদাম, ব্যাংক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, মাদ্রাসা, সরকারি খাদ্য গুদাম ও ট্রেন স্টেশন হুমকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে ভাটিয়াপাড়ার পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর জেলার আলফা ডাঙ্গা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে নদী ভাঙ্গনে ফসলি জমি ও ৪০টি বসতবাড়ি ও মসজিদ বিলীন হয়ে গেছে।
জানা যায়, রবিবার গভীর রাতে ভাটিয়াপাড়া বন্দর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার এলাকা ধসে ভাঙ্গন শুরু হয়। ভাঙ্গন আতঙ্কে বাজারের মানুষ নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। লোকজন ভাঙ্গন এলাকায় বালুর বস্তা ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। স্থানীয়রা একটি গোডাউনের পাট ও স্থাপনার মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিসি ব্লক ফেলে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ডাম্পিং শুরু করেছে।
ভাটিয়াপাড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জাহিদুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও নড়াইল জেলার মিলনস্থল ভাটিয়াপাড়া বন্দরের মর্যাদা লাভ করেছে। এ ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা না গেলে ৫শ’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শতাধিক পাটের গুদাম, ব্যাংক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, মাদ্রাসা, সরকারি খাদ্য গুদাম ও ট্রেন স্টেশন হুমকির মুখে পড়বে।
ভাটিয়াপাড়া বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আশরাফ উদ্দিন তারা মিয়া অভিযোগ করেন, বাঁধ নির্মাণে ত্রুটি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। প্রতি বছর এ বাঁধ দায়সারাভাবে সংস্কার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। কাজের কাজ কিছুই হয় না।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভাটিয়াপাড়া বন্দর থেকে কালনা ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় সিসি ব্লক দিয়ে ১৯৯৫-৯৬ অর্থ বছরে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে। ২০১১-১২ অর্থ বছরে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা খান বলেন, ভাটিয়াপাড়া বন্দর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। স্টকে থাকা ব্লক দিয়ে ডাম্পিং করা হচ্ছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাঁধে নিম্নমানের কাজ হয়েছে কিনা তদন্ত না করে বলা যাচ্ছে না।
