হরতালের মধ্যেও গতকাল বুধবার আয়কর মেলায় করদাতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবের মেলায় আসা করদাতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, অনেকেই হরতালকে মেলায় আসার জন্য সুযোগ হিসেবেই নিয়েছেন। কারণ এ সময় রাস্তাঘাট তুলনামূলক ফাঁকা থাকে এবং অনেক অফিস বন্ধ থাকে। রাজধানীতে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার তৃতীয় দিন ছিল গতকাল। মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, করদাতা, নতুন কর সনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সংগ্রহকারী, রিটার্ন দাখিলকারীদের ব্যস্ততা। সমান তালে ব্যস্ততা ছিল বিভিন্ন বুথে সেবাদানকারী কর কর্মকর্তাদের মধ্যেও। গত তিন বছর যাবত্ কর মেলায় অনেক করদাতা ও নতুন টিআইএন নিবন্ধনকারী এই সময়টিকে বেছে নেন। মেলায় ঝামেলামুক্তভাবে কর রিটার্ন দাখিল করা ও টিআইএন নেয়ার সুযোগ ছিল যা সচরাচর কর অফিসগুলোতে পাওয়া যেত না বলে তাদের অভিযোগ ছিল।
তবে এ বছর অনলাইনে টিআইএন নিবন্ধন ও পুনঃনিবন্ধন পদ্ধতি চালু হয়েছে। বিদ্যমান করদাতাদেরও পুনঃনিবন্ধন করতে হচ্ছে। কিন্তু মেলায় ই-টিআইএন নিতে এসে তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই। আগের দিনের ন্যায় গতকালও অনেক করদাতা এ নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। মিরপুর থেকে আসা ফাহমিদা আক্তার নামে এক চাকরিজীবী জানান, সকাল ১১টায় টিআইএনের জন্য নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে দিলেও বিকেল চারটা পর্যন্ত তিনি টিআইএন পাননি। একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাকিরুল আলম নামে একজন নবীন কর আইনজীবীও। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সাথে টিআইএনের জন্য প্রদত্ত তথ্য না মিললে টিআইএন নেয়া যাচ্ছে না। আবার ক্ষেত্রবিশেষে বুথে সেবাদানকারী কর কর্মকর্তাদের ভুলের কারণেও নিবন্ধনের স্থলে পুনঃনিবন্ধন বা পুনঃনিবন্ধনের স্থলে নতুন নিবন্ধন হয়ে যাচ্ছে। এটি চাইলেই তাত্ক্ষণিক সংশোধন করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করদাতাদের।
জানা গেছে, টিআইন নেয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনে রক্ষিত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডারের উপর নির্ভর করতে হয় এনবিআরকে। কোন কারণে ওই সার্ভারে ত্রুটি দেখা দিলে টিআইএন দেয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ই-টিআইএন ব্যবস্থার এসব ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করা না গেলে এ উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত সফলতা নাও আসতে পারে।
সারা দেশে দেড় লাখ করদাতা
সেবা নিয়েছেন :
আয়কর মেলার তৃতীয় দিন পর্যন্ত সারা দেশে ১ লাখ ৬০ হাজার করদাতাকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সেবা নিয়েছেন ৬৫ হাজার। তিন দিনে নতুন টিআইএন নিবন্ধন ৫ হাজার ৯২ জন এবং পুনঃনিবন্ধন হয়েছেন ২৮ হাজার ৭৪ জন, রিটার্ন জমা পড়েছে ৩৭ হাজার ৮৬৮ টি এবং আদায় হয়েছে ৩৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে গতকালই আদায় হয়েছে ২২২ কোটি টাকা।
