নতুন চার ভবনের নির্মাণ ১১ বছরেও শেষ হয়নি

আপডেট : ১৭ মে ২০১৯, ২১:৩০

নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন চারটি ভবনের নির্মাণ কাজ ১১ বছরেও শেষ হয়নি। এ পর্যন্ত ঠিকাদার নতুন ভবনের ৫০ শতাংশ কাজও শেষ করেনি। বাকি কাজ কবে শেষ হবে কেউ জানেন না। নতুন ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় হাসপাতালে ৫০ শয্যার কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। আবাসন সমস্যার কারণে চিকিত্সকরা থাকছেন না হাসপাতাল চৌহদ্দিতে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আছেন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। আর হাসপাতালের রোগীরা পোহাচ্ছেন চরম দুর্ভোগ।

গত ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের নিকট এলাকাবাসী দীর্ঘদিনেও নিকলীর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ না হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেন। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের যথাযথ তদারকি না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা সাংসদকে অবহিত করেন। এসময় সাংসদ আফজাল হোসেন বলেন, আমি তিনবার চিঠি দিয়েছি এবং ঢাকা গিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কথা বলে ওই ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে যতদ্রুত সম্ভব নতুন টেন্ডার দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এব্যাপারে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ কিশোরগঞ্জ নির্মাণ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ইউনিটের (এইচ ই ডি) সহকারী-প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, ঠিকাদার প্রভাবশালী, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রতিষ্ঠানটিকে গত কয়েক বছর ধরে চিঠি দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। ওই ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে কিছুদিনের মধ্যে নতুন করে টেন্ডার আহবান করে বাকি কাজ শেষ করা হবে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে পুরনো ভবন সংস্কারসহ নতুন চারটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দোতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন, চিকিত্সকদের দোতলা আবাসিক ভবন, দ্বিতীয় শে্রণির কর্মচারীদের আবাসিক ভবন ও তৃতীয় শে্রণির কর্মচারীদের তিনতলা আবাসিক ভবন নির্মাণ ও পুরোনো হাসপাতাল ভবন সংস্কারের কাজটি পায় ঢাকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পাঁচ কোটি ১৪ লাখ টাকার এই কাজ ২০০৮ সালের ১৬ জুন শুরু হয়। ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভবনগুলো কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ হয়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাঝেমধ্যে শ্রমিক পাঠিয়ে একটা বিল করার মতো কাজ করে উধাও হয়ে যায়। এভাবেই চলছে দশ বছর। সর্বশেষ আড়াই বছর আগে কিছু শ্রমিক পাঠানো হয়েছিল। তারা কিছু কাজ করে চলে গেছেন। যে কাজ করছে তার মানও খুব খারাপ। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় নির্মাণাধীন ভবনগুলো নষ্ট হচ্ছে। ১১ বছর আগে ভবনের যে কাছ হয়েছে তা ফেলে রাখায় স্বাভাবিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আগাছা জন্মেছে। সেখানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কোনো লোক বা প্রতিনিধিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউ এইচ ও) আস আদ দীন মাহমুদ উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা সভায় জানান, বর্তমানে এগুলোতে দিনরাত বসছে মাদকাসক্তদের আড্ডা। রাতে চলে জুয়ার আসর ও অসামাজিক কার্যকলাপ। কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন মো. হাবীবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, নিকলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে জেলার অন্য যেসব হাসপাতালের কাজ শুরু হয়েছিল সেগুলোর নির্মাণকাজ নয় বছর আগেই  শেষ হয়েছে। একমাত্র ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে নিকলীর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজ শেষ হলো না। আমি প্রতিমাসে জেলা উন্নয়ন সভায় এ সমস্যা নিয়ে কথা বলি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।