কোম্পানিগঞ্জে গাড়িচালক নিহত সাতকানিয়ায় গুলিবিদ্ধ পুলিশ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৮
হরতালের প্রথম দিন গতকাল বুধবার দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছেন জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় হরতাল সমর্থকদের ছোড়া ইটের আঘাতে আবু নাছের (৪৫) নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের হামলায় পুলিশ কনস্টেবল ইকবাল হোসেন (২৩) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তার হাত ও বুকে দুইটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকায় আনা হয়। এছাড়া হরতাল চলাকালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ-হরতাল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় নির্বিচারে গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। এতে সাধারণ পথচারী, পুলিশ ও নেতাকর্মীসহ অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পুলিশ পিকেটার সন্দেহে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলীয় নেতা কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডাদেশের প্রতিবাদে গতকাল থেকে সারাদেশে টানা ৪৮ ঘন্টার এই হরতালের ডাক দেয় জামায়াতে ইসলামী। চট্টগ্রাম অফিস জানায়, হরতালের প্রথম দিনে মিছিলে বাধা দেয়ায় চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা এবং জেলার সাতকানিয়া, সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, গাড়ি ভাংচুর, ককটেল বিস্ফোরণসহ ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে জামায়াত শিবির কর্মীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলায় শিবির-পুলিশ সংঘর্ষে ১০-১২ জন আহত হন। সকালে নগরীর পাঁচলাইশ ও পলিটেকনিক এলাকায় দুর্বৃত্তরা পথচারীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি হাতবোমা ছুঁড়ে মারে। সকাল সোয়া আটটার দিকে নগরীর ঝাউতলা এলাকায় দু‘টি সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করা হয়। মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহে অর্ধশতাধিক সন্দেহভাজন জামায়াত-শিবির কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সিএমপির সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) শাহ আব্দুর রউফ ইত্তেফাককে বলেন, সকাল ৮টার দিকে পলিটেকনিক এলাকায় শিবির কর্মীরা পথচারীদের লক্ষ্য করে তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। অবিস্ফোরিত দু‘টি ককটেল পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় বলে জানান তিনি। সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের জোটপুকুরিয়া-ফুলতলা এলাকায় সকাল ১১টার দিকে শিবিরের হামলায় পুলিশ কনস্টেবল ইকবাল গুলিবিদ্ধ হন। তিনি নোয়াখালী জেলার মাইজদী নোয়ারনুই হাওলাদার বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মুজিবুল হকের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১০ জামায়াত-শিবির কর্মীকে আটক করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের ডাকা হরতাল চলাকালীন সকাল ১১টার দিকে জোট পুকুরিয়া-ফুলতলা এলাকায় শিবিরের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি জম জম কমিউনিটি সেন্টারের কাছাকাছি পৌঁছলে জোট পুকুরিয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা মিছিলে বাধা দেয়। এ সময় শিবিরের কিছু কর্মী পাশের টিনের বেড়ার আড়াল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এতে পুলিশ কনস্টেবল ইকবাল ডান হাত ও বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার সহকর্মীরা ধরাধরি করে প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে অবস্থার অবনতিতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। শিবির কর্মীরা এ সময় অন্তত ৭ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিত্সক মো. রবিউল আলম বলেন, সাতকানিয়া থানার কর্মকর্তারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ সদস্য ইকবালকে নিয়ে এলে আমরা দ্রুত তাকে চিকিত্সা দেয়ার চেষ্টা করেছি। ইকবালের ডান হাত ও বুকে দুইটি গুলি লেগেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, ইকবালের শরীর থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় রাত ৮টার দিকে একটি এম্বুল্যান্স তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এ কে এম এমরান ভূঞা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে সাতকানিয়া থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় শিবিরের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় মহিলাসহ ৫ জন আহত হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৮/১০টি গাড়ি ভাংচুর করেছে পিকেটাররা। আবু সুফিয়ান (৩২) নামে আহত এক যাত্রীকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় কয়েকটি রকেট লঞ্চারও ছুঁড়ে তারা। কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় হরতাল সমর্থকদের পিকেটিং-এ এক সিএনজি অটোরিক্সা চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ শিবিরের ৪ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দাগনভূঁঞা-বসুরহাট সড়কের তালেরচারা নামক স্থানে একটি সিএনজি অটোরিক্সা (রেজি: নং- ফেনী-থ-১১-৪৮৩০) লক্ষ্য করে পিকেটাররা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে একটি ইট চালক আবু নাছেরের মাথায় লাগে। এ সময় চালক গাড়ি থেকে পড়ে গেলে গাড়িটি রাস্তার পাশের গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। পরে আহত নাছেরকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান (সাজিদ) জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালীতে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহত আবু নাছের ফেনী জেলার দাগনভূঁঞা উপজেলার দাগনভূঁঞা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বেতুয়া গ্রামের মৃত আবু তাহেরের ছেলে। নোয়াখালী প্রতিনিধি ও চাটখিল সংবাদদাতা জানান, চাটখিল উপজেলা সদরে পুলিশ ও জামায়াত-শিবির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে এসআই অজয় চক্রবর্তী ও এএসআই মুকবুল হোসেনসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ৩ রাউন্ড রাইফেলের ফাঁকা গুলি, ৩ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও টিআরসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ চাটখিল পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি আবুল বারাকাতকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এসপি মো: আনিসুর রহমান। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, জেলার কদমতলায় পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবির কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় ৯টি যাত্রীবাহী পরিবহন ভাংচুর করে তারা। পুলিশ ও বিজিবির বহর লক্ষ্য করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। জবাবে পুলিশও ৩০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছাড়াও কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে। এতে জামায়াত কর্মী মনিরুল ইসলামসহ ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬ জন ও জেলার অন্যান্য স্থান থেকে আরো ৬ জনসহ মোট ১২ জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে। তাদের ব্যবহূত চারটি মোটরসাইকেল ও দশটি বাই-সাইকেলও আটক করা হয়েছে। খুলনা অফিস জানায়, হরতাল চলাকালে নগরীর আলমডাঙ্গায় শিবিরের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুই হরতালকারীকে আটক করে পুলিশ। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে হরতালকারীদের মিছিল করার খবর পাওয়া গেছে। তবে কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, সকালে শহরের মিয়া রাস্তার মাথা নামক স্থানে সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়ক অবরোধ করে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। এসময় ওই স্থানসহ শহরের উত্তর তেহমুনী এলাকায় ৮/১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। সকালে শহরের উত্তর তেহমুনী এলাকা থেকে শিবির সন্দেহে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রাজশাহী অফিস জানান, জেলায় রাজশাহীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র (বিজিবি) সেক্টর সদর দপ্তরের সামনে ভোরে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় নেতাকর্মীদের ইটপাটকেল ও ককটেলের জবাবে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। পরে আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক শিবির কর্মীকে আটক করে। অন্যদিকে একই সময়ে মহানগরীর খড়খড়ি বাইপাস সড়কের মাহেন্দ্রা এলাকায় খড়বোঝাই একটি ট্রাকে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, জেলায় পুলিশ ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ পুলিশসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এসময় জামায়াত-শিবির কর্মীরা বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাকসাম ও বুড়িচংয়ে ৪৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। লাকসাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার পরানপুর বাজার নামক স্থানে হরতালের সমর্থনে ছাত্রশিবির মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি করে। এ সময় শিবির পাল্টা ইটপাটকেল ছুঁড়লে লাকসাম থানার ওসিসহ ২০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ এক শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, শহরের বিভিন্ন সড়কে টায়ারে আগুন দিয়েছে হরতালকারীরা। পিকেটিংকালে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ৮ জামায়াত-শিবির কর্মীকে আটক করেছে। স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর জানান, হরতাল চলাকালে পিকেটিং করার অভিযোগে ১ শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি মোহাম্মদ হারুন’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে হরতাল কর্মসূচি পালনে বান্দরবানে মাঠে ছিল না জামায়াতের নেতাকর্মীরা। দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে হরতালে নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় পুলিশ ওই শিবির নেতাকে গ্রেফতার করে। জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, হরতালের প্রথম দিন জেলায় পাইকরতলীতে দু’টি ভ্যানে ও হিচমিতে মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। যানবাহনে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় শিবিরের তিন কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, এতোদিন শিবির কর্মীদের রগ কাটার নজির থাকলেও এবার ছাত্রলীগ কর্মীরা জামায়াত কর্মীর রগ কেটে দিয়েছে। হরতাল সফল করতে উপজেলার হাসাদাহ জোড়া মাইলে জামায়াত-শিবির পিকেটিং ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এসময় হাসাদাহের দিক হতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ছাত্র ও যু্বলীগের ক্যাডার বাহিনী সিএনজি ও মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে ধাওয়া করে। ছাত্রলীগ ক্যাডাররা এসময় জামায়াত কর্মী মাধবপুর গ্রামের সুলতান হোসেন (৪০) ও ইমদাদ আলীকে (৩৫) কুপিয়ে আহত করে। এর মধ্যে সুলতানের পায়ের রগ কেটে দেয় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় খলুনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। বরিশাল অফিস জানান জামায়াত ইসলামীর হরতালকে কেন্দ্র করে আগের রাতেই পিকেটাররা বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। নগরীর লাকুটিয়া এলাকায় হামলার শিকার হয় আরআরএফ পুলিশের একটি পিকআপ। শিবির কর্মীরা ঐ পিকআপটিসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। গতকাল হরতাল শুরু হলে ঐ এলাকায় পুলিশ গিয়ে পিকেটার সন্দেহে ৩ জনকে গ্রেফতার করে। আর আর এফ পুলিশ সদস্য শাহ আলম বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় পিকআপ ভাংচুরের মামলা করেছেন। বিমান বন্দর থানা পুলিশ ঐ দু’জনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোর্পদ করেছে। থানার ওসি শহিদুল্লাহ জানান, মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় মোট ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া হরতাল শুরুর প্রথম প্রহরেই নগরীতে হাতবোমা বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধ করেছে পিকেটাররা। বিএম কলেজসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা যানবাহনে ভাংচুরের চেষ্টা করে। তবে পুলিশের তত্পরতায় তারা বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারেনি। তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার পাটকেলঘাটায় হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। পিকেটিংকালে পুলিশ ৫ জন জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। ছাগলনাইয়া (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের বল্লভপুর ও চম্পকনগর রাস্তার মাথা নামক এলাকায় দুপুরে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৬ জন আহত হয়। পুলিশ পিকেটার সন্দেহে ৩ জনকে আটক করেছে। যশোর অফিস জানান, হরতালের প্রথম দিনে যশোরে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা বিক্ষিপ্তভাবে হরতাল সমর্থনে মিছিল করেছে। চট্টগ্রামে সন্ধ্যার পর শিবিরের ককটেলবাজি চট্টগ্রাম অফিস জানায়, নগরীর গোলপাহাড় মোড়, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে গতকাল সন্ধ্যার পর ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে শিবির। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় চট্টেশ্বরী মোড় থেকে শিবিরের একটি ঝটিকা মিছিল বের হয়। মিছিলটি মেহেদীবাগ সড়ক দিয়ে গাড়ি ভাংচুর করতে করতে গোলপাহাড় মোড়ে যায়। বিক্ষুব্ধ শিবিরকর্মীরা সেখানে ২০-২৫টি ককটেল বিস্ফোরণ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি ৩টি মোটরসাইকেল ও ১টি সিএনজিতে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর শিবির কর্মীরা পালিয়ে যায়।