মেহেরপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী শুভরাজপুর গ্রাম থেকে অপহূত ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র আতিউরকে অপহরণের ১৬ দিন পর মুক্তিপণের বিনিময়ে গতকাল বুধবার একই উপজেলার বাজিতপুর সীমান্ত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, অপহরণের পর থেকে অপহরণকারী ডাকাতদল তাকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারপর তাকে নদীয়া জেলার করিমপুর থানার গোপালপুর, বাঁশবাড়িয়া, গোয়াস ও নাজিরপুরসহ বিভিন্নস্থান পরিবর্তন করে লুকিয়ে রাখে। অপহরণকারীরা ভারতের মোবাইল সিম ব্যবহার করে অপহূত আতিউরের পিতা আফ্রিকা প্রবাসী আলিফ আলি ও তার চাচাদের কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করে। ভারতে অবস্থানকারী মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামের কুখ্যাত দুখু বাহিনীর ক্যাডার আজিমদ্দিন, কালু,জামাত,খুশিদের সাথে মুক্তিপণের চুক্তি হয় । তারপর ভারতে থাকা আলিফ-এর আত্মীয়র মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকার বিনিময়ে আতিউরকে বাজিতপুর সীমান্তে ছেড়ে দেয়। তাকে আত্মীয়-স্বজন কাছে পেয়ে মেহেরপুর পুলিশকে জানালে পুলিশ আতিউরকে উদ্ধার দেখিয়ে মেহেরপুর জজকোর্টে নিয়ে আসে। বুধবার বিকালে অপহূত আতিউর মেহেরপুর জজ আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল ইসলামের কাছে জবানবন্দি দিয়ে মায়ের কাছে ফিরে আসে। আতিউরকে কাছে পেয়ে আত্মীয়-স্বজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। জানা গেছে, ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে আতিউরকে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করেছে। আত্মীয়-স্বজন মুক্তিপণের বিষয় অস্বীকার করেন।
গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার শুভরাজপুর নানা আব্দুস সামাদের বাড়ি থেকে সশস্ত্র ডাকাতদল ৫টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতিউরকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যায়। এ সময় ডাকাতদের বাধা দিলে সামাদের ছোটভাই স্কুলশিক্ষক আবদুল হালিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
