শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়া থানা এলাকায় আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। এলাকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে। গত ১০ দিনে সাভার উপজেলায় অন্তত ১৫ বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। এর মধ্যে দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে লুট হয়েছে ১ হাজার ভরি স্বর্ণালংকার।
শুধু ডাকাতির ঘটনাই নয়, দিনদুপুরে জুয়া, দেহব্যবসা, ছিনতাই, খুন, মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি চলছে দেদারছে। এসব ঘটনার বিষয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিকার না পাওয়ায় এবং অহেতুক হয়রানির ভয়ে ভুক্তভোগীরা পুলিশের শরণাপন্ন হওয়া থেকে বিরত থাকে। তাছাড়া পুলিশ তাদের ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের চাপ এড়ানোর জন্য ডাকাতির মামলাগুলো দস্যুতা কিংবা চুরির মামলা হিসেবে রেকর্ড করার জন্য ভুক্তভোগীদের চাপ প্রয়োগ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ অঞ্চলে ঘটে যাওয়া একটি ডাকাতির ঘটনাও উদঘাটিত ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি আইন-শৃংখলা বাহিনী। ফলে ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে সন্ত্রাসী চক্র একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসী রাত জেগে পাহারার পাশাপাশি নির্ঘুম রাত যাপন করছেন।
গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে সাভার থানার পার্শ্ববর্তী দক্ষিণপাড়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রদীপ কুমার দাস ও তার ভাই দীপক কুমার দাসের বাসায় হানা দেয় ১০/১৫ জনের ডাকাত দল। ডাকাত দল দুইটি ফ্ল্ল্যাটে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। পরে তিনটি লোহার সিন্দুক, স্টিলের আলমারী ও কাঠের আলমারী ভেঙ্গে তিন ঘণ্টা ধরে লুটপাট চালায়। প্রচুর স্বর্ণ ও নগদ ৮ লাখ টাকা লুটপাট শেষে পালিয়ে যায়।
একই রাতে আশুলিয়ার গাজিরচট বসুন্ধরা এলাকার ঝুট ব্যবসায়ী মোবারক হোসেনের বাড়ীতে কলাপসিবলের তালা ভেঙ্গে ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাতরা ৪ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ টাকা লুট করে। এছাড়া পূর্ব ডেন্ডাবরে এক শিক্ষক ও ব্যবসায়ী মোফাজ্জলের বাড়িতে ডাকাতি হয়।
৫ সেপ্টেম্বর রাতে আশুলিয়া ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির সভাপতি শামীম ফয়সালের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দল। পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ৭০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৭ লাখ টাকা, ৩৫ ভরি রূপার গহনা লুট করে।
১১ সেপ্টেম্বর সাভার পোৗর এলাকার সোবাহানবাগ মহল্লার সাভার বাজার রোড ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিক ইলেকট্রনিক্স এর মালিক গোলাম মোস্তফা খানের দ্বিতীয় তলার ড্রইং রুমের গ্রীল কেটে ডাকাতরা ভিতরে প্রবেশ করে। সবাইকে বেঁধে বাড়ি থেকে ডাকাতরা স্বর্ণালংকার, আড়াই লাখ টাকা নগদ, ৫টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
একই রাতে জামসিং মহল্লার আঃ রহমানের বাড়ি, জামাল হোসেনের বাড়িসহ ৭ বাড়িতে ডাকাতরা হানা দিয়ে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রি লুট করে নিয়ে যায়।
১২ সেপ্টেম্বর রাতে মিটন পশ্চিম পাড়া গ্রামের ইমান আলীর বাড়ির দরজা ভেঙ্গে ডাকাতরা নগদ ৫০ হাজার টাকা, ৪ লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে। এ সময় বাড়ীর লোকজন বাধা দিলে ডাকাতদের হাতে আহত হয় পরিবারের ৫ সদস্য।
সাভার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মশিউদৌলা রেজা বলেন, সম্প্রতি সাভারের বিভিন্ন স্থানের চিহ্নিত বেশকিছু ডাকাত দলের সদস্য আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেছে। পুনরায় ডাকাতিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। এ চক্রটিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, সাভার ও আশুলিয়ায় শুধু ডাকাতির ঘটনাই নয় এর সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিও।
