‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার’

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৪৯
দুর্বৃত্তদের হামলার আশংকায় গৌরনদীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা মাঠে অভিযান চালাতে ভয় পাচ্ছেন। মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করতে গিয়ে কয়েক দফা হামলার শিকার হয়েছেন তারা। ফলে গৌরনদীতে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এলাকায় মাদকের প্রসারতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে খুন, চুরি-ডাকাতি, ধর্ষণসহ নানা অসামাজিক কার্যক্রম দিন দিন বাড়ছে। গৌরনদী থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পৌর সদরের উত্তর বিজয়পুর এলাকায় কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টরসহ ৫ সদস্যের ওপর হামলা চালিয়ে রুবেল সরদার (২২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেয়। ওই সময় মাদক ব্যবসায়ীরা হামলা চালিয়ে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টরসহ ওই দপ্তরের ৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারীকে কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় রাজ্জাক বেপারী নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। জানা গেছে, ওইদিন মাদক ব্যবসায়ী রুবেলের বাড়িতে হানা দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গৌরনদী সার্কেলের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিপুল পরিমাণ গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক সেবন করার সরঞ্জামাদিসহ রুবেলকে আটক করেন। তাকে থানায় নিয়ে আসার পথে ৭/৮টি মোটরসাইকেলযোগে ১৫/২০ জন যুবক তাদের ওপর হামলা চালিয়ে রুবেলকে ছিনিয়ে নেয়। আহত হন ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী। গৌরনদী সার্কেলের ইন্সপেক্টর রায়হান আহম্মেদ খান ইত্তেফাককে জানান, আমাদের কোন গাড়ি নেই, পায়ে হেঁটে গিয়ে অভিযান চালাতে হয়। অন্যদিকে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক সরবরাহের কাজে মাইক্রোবাস, হোন্ডাসহ আধুনিক যানবাহন ব্যবহার করছে। এছাড়া আত্মরক্ষার জন্য আমাদের কাছে নেই কোন অস্ত্রশস্ত্র। এমনকি আমাদের কাছে নেই একটি হ্যান্ডকাফ পর্যন্ত। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, সরকার আমাদের যেভাবে মাদক বিরোধী অভিযানে পাঠাচ্ছে এটাকে অভিযান বলা যায় না। এটা শূন্য হাতে বাঘ শিকারে পাঠানোর মতো আমাদের বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া। জানা গেছে, গত বছর গৌরনদীর কটকস্থল গ্রামে অভিযান চালাতে গিয়ে একইভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বারা গৌরনদীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ৪ জন কর্মকর্তা কর্মচারী আহত হয়েছিলেন।