কুমিল্লায় ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে!

আপডেট : ১৭ মে ২০১৯, ২১:৩৪

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় আশঙ্কাজনক হারে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এদিকে ক্যান্সার চিকিত্সা ব্যয়বহুল হওয়ায় রোগীদের অনেকে চিকিত্সা না নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে।

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মনপাল গ্রামের মাছ বিক্রেতা নুরুল হক ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে সমপ্রতি মারা যান। মৃত্যুর দেড় মাস আগে মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে চিকিত্সকের কাছে যান। চিকিত্সক জানান, তার ক্যান্সার হয়েছে। জায়গা-জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে চিকিত্সায় দেড় লাখ টাকা খরচ করেছেন। তার বোন রুচিয়া বেগম জানান, মৃত্যুর এক মাস আগে অনুদানের আবেদন করেছি, এখনো কোনো সাড়া পাইনি।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লায় ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা সংরক্ষণ করা হয়নি, তবে এ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিত্সার জন্য রোগীদের সরকারি অনুদানের আবেদনপত্রে সুপারিশ করে সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠিয়ে থাকি, পরবর্তী কাজ ওই কার্যালয়ের মাধ্যমেই হয়ে থাকে।’

সমাজসেবা কার্যালয়, কুমিল্লার উপ-পরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান বলেন, ক্যান্সার রোগীকে সরকার ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করে। অনুদানের আবেদন পাওয়ার পর আমরা তা দ্রুত ঢাকায় পাঠিয়ে দিই।

ক্যান্সার সোসাইটি, কুমিল্লার সভাপতি ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ক্যান্সারের চিকিত্সা ব্যয়বহুল। প্রথমদিকে রোগ শনাক্ত হলে আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা থাকে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে একটি রেডিওথেরাপির মেশিন স্থাপন করা হলে রোগীরা সেবা নিতে পারতেন।

কুমিল্লা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী ইত্তেফাককে বলেন, ‘এ হাসপাতালে প্রতিদিনই ক্যান্সার রোগী আসে, কিন্তু রেডিওথেরাপি মেশিন না থাকাসহ ক্যান্সার ইউনিটে জনবল সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিত্সাসেবা দেওয়া যায় না। এতে দরিদ্র রোগীদের কষ্ট পেতে হচ্ছে, এ ইউনিটে মাত্র ১০-১২ জন রোগী আছে। এসব বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’