অস্ত্র ধ্বংস করতে ১শ’কোটি ডলার প্রয়োজন :আসাদ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:০৫
সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস এবং এর প্রভাব থেকে পরিবেশকে রক্ষা করতে অন্ততপক্ষে ১শ’ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। আর এটি করতে সময় লাগবে প্রায় এক বছর। বুধবার ফক্স নিউজ টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে আসাদ জানান, তার সরকার দেশটির রাসায়নিক অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করবে এবং এতে বছরখানেকের মতো সময় লাগবে। “আমার মনে হয় প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি খুবই জটিল একটা কাজ হবে। সেই সঙ্গে এর জন্য প্রচুর, প্রচুর পরিমাণে অর্থ প্রয়োজন। অনেকের মতে সিরিয়ায় যে পরিমাণ অস্ত্র আছে তাতে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার লেগে যাবে।“ আসাদ বলেন “যেমনটি আমি বলেছি, এটার জন্য প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। যেটা এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো। এটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। যদি আমেরিকার প্রশাসন এই ব্যয়ভার বহন করতে প্রস্তুত থাকে এবং সেখান থেকে যে বিষাক্ত পদার্থ নির্গত হবে তার দায়ভার যুক্তরাষ্ট্র নেয়, তবে তারা সেটা কেনো করছে না?” ২১ আগস্ট রাজধানী দামেস্কের উপকণ্ঠে রাসায়নিক অস্ত্র হামলার অভিযোগ আবারো অস্বীকার করে আসাদ বলেন, “ওই সময়ে সিরিয়ার সেনাবাহিনী ওই এলাকায় এগিয়ে ছিলো। তাই সেখানে স্নায়ু বিকলকারী সারিন গ্যাস হামলা চালানোর কোনো প্রয়োজনই ছিলো না।“ যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ আসাদ বাহিনীই রাসায়নিক গ্যাস হামলা চালিয়েছিলো। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা সোমবার নিশ্চিত করেছেন যে, দামেস্কের উপকণ্ঠে সারিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স হামলার জন্য আসাদ সরকারকেই দায়ী করেছে। তবে, সিরিয়ার মিত্র রাশিয়া এই দাবি ভিত্তিহীন উল্লেখ করে রাসায়নিক হামলা সিরিয়ার সরকারবিরোধীরাই চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। এদিকে জাতিসংঘের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে একটি সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করার জন্য এটা খুব কম সময় বলে মনে করেন আসাদ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে উদ্দেশ্য করে আসাদ বলেন, “আপনার জনগণের কথা শুনুন। আপনার জনগণের সাধারণ জ্ঞানকে অনুসরণ করুন। সেটাই যথেষ্ট।“ যুক্তরাষ্ট্রে চালানো এক জনমত জরিপে দেখা গেছে সেখানকার অধিকাংশ অধিবাসী সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের আক্রমণ চালানোর বিপক্ষে।