প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০১৩-এর ধারা ১৩ তে ৩টি উপধারায় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক নির্বাচনের বিবরণ প্রদান করা হয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সর্বনিম্ন যোগ্যতা সকল স্তরে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ অথবা দ্বিতীয় বিভাগসহ এইচএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় পাস। আবার ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের জন্য সর্বনিম্ন যোগ্যতা সকল স্তরে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ অথবা দ্বিতীয় বিভাগ/ শ্রেণিসহ স্নাতক অথবা সমমানের পরীক্ষায় পাসের কথা বলা হয়েছে। আবার ধারা ২৭ এ উপধারা (১) এর ক ও খ-তে মাধ্যমিক স্তরের নবম হতে দশম এবং একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য শিক্ষক নিয়োগে পৃথক শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে। এতে প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়ার আশংকা থেকে যাবে। কাজেই প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অর্থাত্ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষকতার জন্য শিক্ষকদের একই রকম যোগ্যতা নিরূপণ করা উচিত। উভয় ক্ষেত্রে অর্থাত্ প্রথম হতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের জন্য সর্বনিম্ন যোগ্যতা হতে পারে - সকল স্তরে ন্যূনতম জিপিও ২.৫ অথবা দ্বিতীয় বিভাগ/ শ্রেণিসহ স্নাতক অথবা সমমানের পরীক্ষা পাস। আবার সম্পূর্ণ মাধ্যমিক স্তরের অর্থাত্ নবম হতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের জন্য এক ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিরূপণ করা উচিত। তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় ক্ষেত্রে হাওর , পার্বত্য এলাকা, চর ও দ্বীপ এলাকার জন্য শ্রেণিভেদে এই যোগ্যতা শিথিল করা যেতে পারে। যেহেতু মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তাই মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদটির একটি সাধারণ নাম দিতে হবে। প্রধান শিক্ষক অথবা অধ্যক্ষ অথবা অন্য কোনো নাম দেয়া যেতে পারে। সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের নির্বাচন বা নিয়োগের যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা উচিত।
ধারা ২২ (খ) এর উপধারা (৪) এ ‘বি.এম.এড ডিগ্রির জন্য ভর্তির যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। কেননা বর্তমানে নির্ধারিত ভর্তির যোগ্যতার আওতায় মাদরাসায় কর্মরত শিক্ষকের বি.এম.এড প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ সীমিত। যেহেতু মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর হবে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এবং ইতোমধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হয়েছে তাই বি.এড প্রশিক্ষণের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচির আমূল পরিবর্তন জরুরি। শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজসমূহের শিক্ষকদের পদসমূহ বিষয়ভিত্তিক (মাধ্যমিক স্তরের প্রচলিত শিক্ষাক্রমের বিষয়ের আলোকে) নিয়োগ প্রদানের ব্যবস্থা করা, শিক্ষক নিয়োগের (প্রভাষক হিসেবে) যোগ্যতার পরিবর্তন করা, পর্যায়ক্রমে উচ্চতর পদ সৃষ্টি করা সময়ের দাবি। টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও অন্য শিক্ষক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়ন্ত্রণ, মান উন্নয়ন, শিক্ষা বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা পরিচালনার জন্য একটি শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা এবং শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এর কার্যপরিধি নির্ধারণ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। উপধারা (৩) এ উল্লিখিত মাধ্যমিক শিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণসহ চলমান বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণসমূহ সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইসস্টিটিউটসমূহে পরিচালনা করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে একই প্রশাসনের আওতায় আনা ও নাম পরিবর্তন করে কলেজ অব এডুকেশন করা যুক্তিযুক্ত। সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, নায়েমসহ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের পদসমূহ পূরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা বিষয়ে ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা ও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া প্রতিটি বিদ্যালয়ে জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শিক্ষার্থীদের দৈনিক সমাবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
লেখক :সহকারী অধ্যাপক, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ
