পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে বলেছেন, দেশের মধ্যেই বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। বিদেশে নয়। দেশে সংসদের ভেতরে কিংবা বাইরে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সব সময় যে কোন ইস্যুতে সংলাপের জন্য দ্বার খোলা আছে। বিরোধী দল সন্ত্রাস আর সহিংসতার পথ ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিতে পারেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, মহাপরিচালক (বহিঃ প্রচার) শামীম আহসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, নিউইয়র্কে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ যদি নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চায় তা হলে সুস্পষ্ট জবাব জানানো হবে। সরকার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিবে। বাংলাদেশ নামক দেশটি আইন ও সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। সাংবিধানিক বিধি বিধানের মধ্যে নির্বাচনী ব্যবস্থা আছে। বিরোধী দলের কোন বক্তব্য থাকলে তারা বলতে পারেন। যে মহল এই দেশটির অস্তিত্ব অস্বীকার করতে চায় তাদের সমর্থন দিচ্ছে বিরোধী দল।
ডা. দীপু মনি জানান, ২৩ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ অধিবেশন বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিগত চারটি অধিবেশনে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠায় একজন দূরদর্শী অগ্রনায়ক হিসাবে প্রধানমন্ত্রী তার ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছেন। সহস্রাব্ধ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও ২০১৫ পরবর্তী আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এজেন্ডার আলোচনায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উন্নয়ন সম্পর্কিত তিনটি উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর পাঁচজন নির্বাচিত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের অন্যতম হিসাবে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন। ইউএনডিপি ও বিশ্বব্যাংক আয়োজিত এমডিজি অগ্রগতি ফলোআপ এমডিজি বিষয়ে গোল টেবিল বৈঠকে স্বল্পসংখ্যক রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি মূল ভাষণ দেবেন। এতে তিনি ইউনেস্কো ঘোষিত একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের আহবান জানাবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড লাইনে বেশ কয়েকজন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের চেষ্টা চলছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময়সূচি ঠিক হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার স্ত্রী আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত টিকফা চুক্তি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। মন্ত্রিসভাও অনুমোদন দিয়েছে। দেশের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দিনক্ষণ নির্ধারণ করলে চুক্তিটি সই হবে।
