দিনাজপুরে মাদকের দাপট আইন-শৃংখলা সভায় উদ্বেগ

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৩৬
দিনাজপুর জেলায় মাদক সেবীদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। মাদক সেবীদের প্রতিহত করতে পারিবারিকভাবে নিজের সন্তানদের নিয়ন্ত্রণে রেখে মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলে যুব সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। মাদককে না বলার শ্লোগান সামনে রেখে সবাইকে এ বিষয় প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। গত সম্প্রতি দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের হলরুমে আয়োজিত মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় জেলার মাদক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকালে বক্তারা এসব অভিমত ব্যক্ত করেন। জেলা প্রশাসক আহমদ শামীম আল রাজীর সভাপতিত্বে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় সিভিল সার্জন ডা. মউদুদ হোসেন বলেন, শুধুমাত্র দিনাজপুর শহরেই দেড় হাজার মাদক সেবী ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে মাদক গ্রহণ করে। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি বা যুবক সর্বশেষ পর্যায়ে শরীরে ইনজেকশন পুশ করে এ ধরনের নেশায় আসক্ত হয়। মাদক সেবীরা একটি সিরিজ দিয়ে একাধিক জনের শরীরে মাদক নেয়ার ফলে তারা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকাও রয়েছে। ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করলে মরণ ও জটিল ব্যাধি এইচআইভি/এইডস রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া এই জেলায় চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন পথে ইয়াবা ট্যাবলেটও আসতে শুরু করেছে। মাদকাসক্তরা হেরোইন, গাঁজা, ফেন্সিডিল, ইয়াবা, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, প্রেকটিন, ইনজেকশনের মধ্যে প্যাথেডিন, সেডিল, ইজিবামসহ একাধিক নেশা জাতীয় সামগ্রি জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। স্কুল-কলেজ গামী শিক্ষার্থীরাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। বেসরকারি সাহায্য সংস্থা আশ্রায়ণ, হ্যাল্প, প্ল¬ান, লাইট হাউজসহ একাধিক সংগঠন মাদক সেবীদের চিকিত্সার মাধ্যমে ভালো করতে কাজ করে যাচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলতাফুজ্জামান মিতা অভিযোগ করেন, আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য বিজিবি, পুলিশ এবং মাদক দ্রব্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে মাদকের অবাধ বিচরণ এই জেলায় হচ্ছে। এসব প্রতিহত করতে কঠোর হস্তে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পুলিশের প্রতিনিধি সদর সার্কেল এএসপি জানান, শহরের একাধিক স্থানে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা মাদক বিক্রি করছেন। এসব ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে। সভায় মাদকের অবাধ তত্পরতা রোধে পুলিশ, মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর এবং বিজিবি সদস্যদের কঠোর ভূমিকা রাখতে আহ্বান করা হয়।