ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এখনই

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৪২
ক্যারিয়ার এবং জীবনের লক্ষ্য এক নয়। জীবিকা নির্বাহ বা কাঙ্ক্ষিত পরিচয় ফুটিয়ে তোলার নিমিত্তে যা অর্জন করা যায় তাই ক্যারিয়ার। কিন্তু জীবনের লক্ষ্য ব্যাপক। জীবনের লক্ষ্যের কোনো শেষ বিন্দু নেই, সীমারেখা নেই। জীবনের লক্ষ্য জীবনের মতো জীবন্ত। জীবনের ধাপে ধাপে উন্নতির সোপানে অগ্রসর হওয়ার নাম ক্যারিয়ার। আর এই ক্যারিয়ারের পথটি মসৃণ করার জন্য প্রয়োজন আগে থেকেই সচেতনতা। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক ক্যারিয়ার মানুষ নির্ধারণ করে তার জীবনের প্রয়োজনে জীবিকার স্বার্থে। জীবন ছুটে চলে অন্তহীন গন্তব্যে। যে গন্তব্যে ক্যারিয়ার হয়ে পড়ে বিকল যদি না ক্যারিয়ার এবং জীবনের উদ্দেশ্য একই উত্স থেকে একই লক্ষ্যে গড়ে না উঠে। জীবিকার জন্য ক্যারিয়ার জীবনের উদ্দেশ্য পূরণ করে না কিন্তু জীবনের মহাসাফল্যে গড়ে উঠা ক্যারিয়ার জীবিকার ও নিশ্চিয়তা দেয়। আমাদের জীবনে বিভিন্ন সময়ে মুখোমুখি হতে হয় বিভিন্ন পরিস্থিতির। আর এগুলোকে জয় করেই জীবন এগিয়ে চলে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রীয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে মানুষ হয়ে ওঠে জ্ঞানী-মহাজ্ঞানী চিরস্মরণীয়। একজন সফল ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি স্তরে যথার্থ পরিকল্পনা নিয়ে সময়ের সদ্ব্যবহার করে জীবনকে সাজান। আপনিও যদি অন্যান্য সফল ব্যক্তির মতো জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে একটি ভালো পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো কিছু করার আগে কাজটা কীভাবে সুন্দর, যথাযথ ও সঠিকভাবে, কম সময়ে শেষ করা যায় সেজন্য আগে থেকে চিন্তা করাই হলো পরিকল্পনা। একজন মানুষ তার জীবনের শুরুতেই যদি একটি ভালো পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে তাহলেই তার জীবন পাল্টে যেতে পারে। পরিকল্পনা পরিকল্পনা করা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন। ব্যক্তিগত ও সামাজিক চাহিদা, অবস্থান, সামর্থ্য এবং রুচিবোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। এজন্য আপনি স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান গ্রহণ করতে পারেন। স্বল্প সম্পদ দিয়ে সঠিক সময়ের মধ্যে যখন আপনি কোনো কাজের কথা ভাবেন তখন সেটা স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান। পরিকল্পনার ক্ষেত্রে চারটি বিষয় এক্ষেত্রে থাকা উচিত। যথা—লক্ষ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত, সঠিক কাজ, সময় ও প্রচেষ্টা। জীবনে সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সিদ্ধান্ত বলতে একটি কাজ করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে সেটি থেকে বিকল্প বা কোনো একটি বিষয় বেছে নেওয়াকে বোঝায়। আর সিদ্ধান্ত সঠিক হওয়ার ওপর সাফল্যের অনেকটাই নির্ভর করে। সিদ্ধান্ত শেষে আপনাকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সময়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। শুরু করতে পারেন যেভাবে তোমার জীবনের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য—স্কুলে এই বিষয়ে রচনা লেখেনি এমন শিক্ষার্থী কমই আছে। মোটামুটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়, কেউ হতে চায় ডাক্তার, কেউ ইঞ্জনিয়ার, কেউ আবার শিক্ষক ইত্যাদি। শখ অনুযায়ী এই কিশোর বয়স থেকে শুরু করা উচিত ক্যারিয়ার পরিকল্পনা। কারণ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আসল সময় এই বয়সটাই। যদি প্রস্তুতিটি সঠিক হয় তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে পরিকল্পনাটির বাস্তব রূপলাভ সম্ভব। আর সেটা সম্ভব আমাদের প্রচেষ্টা, ইচ্ছা, আগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতার ওপরই। তবে এক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিগত সামর্থ্য, দক্ষতা, আগ্রহ, রুচি, উত্সাহ, মূল্যবোধ, স্বপ্ন এবং গুণাবলিকে প্রাধান্য দিতে হবে। আর এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা। ইতিবাচক মনোভাব আমরা সবাই জানি নেতিবাচকের চেয়ে ইতিবাচক কর্মকান্ড ও মনোভাব সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য। সফলভাবে ক্যারিয়ার গড়তেও ইতিবাচক মনোভাবের বিকল্প নেই। সত্যিকার অর্থে প্রত্যেকটি কাজেই ইতিবাচক মনোভাবের প্রাধান্য বেশি। আমি অথবা আপনি এটা ভাল করেই জানি 'উপদেশ দেয়া সহজ তবে পালন করাটাই কঠিন'। সেই সাথে আমরা এটাও জানি ইতিবাচক অবস্থান একজন মানুষকে কোলাহল, উত্তেজনা উগ্রতা, দুঃশ্চিন্তা থেকে দূরে রাখে। আপনি যখন মনের দিক থেকে সত্ থাকবেন, তখন আপনাআপনি মন প্রফুল্ল থাকবে। নিজের সাথে বোঝাপড়াটাও ভাল হবে। মনকে প্রফুল্ল রাখতে পারলে স্বপ্নের চাকরিটাই না শুধু যেকোন কাজেই সফলতা পেতে পারি আমরা। সময়ের যথার্থ ব্যবহার সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে অবশ্যই আপনাকে সময়ের গুরুত্ব দিতে হবে। সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে হলে অবশ্যই সময়ের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে হবে। তবে সময় ধরে রুটিন অনুযায়ী চললে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে তেমন বেগ পেতে হয় না। নিজেকে জানুন বর্তমানে প্রতিযোগিতার যুগে নিজেকে যাচাই করার মাধ্যমে অন্যকে বুঝতে হবে। আপনার ভালোলাগা, সামর্থ্য, রুচি, মূল্যবোধ ইত্যাদি ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করুন। আর নিজেকে জানার এই প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আপনি পেতে পারেন আপনার কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠা। নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে নেটওয়ার্ক ছাড়া চাকরি পাওয়া দুঃসাধ্য। তাই আপনাকে যোগাযোগমুখী হতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, একটা ভালো চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে, যার জন্য আপনি পারফেক্ট। কিন্তু বিজ্ঞাপনটি আপনার দৃষ্টিগোচর হয়নি, সে ক্ষেত্রে আপনি চাকরির সুযোগটি হারাবেন। তাই চাকরির তথ্যগুলো পেতে গড়ে তুলুন নেটওয়ার্ক। এজন্য আপনি যে কাজগুলো করতে পারেন— ++ পুরোনো বন্ধুদের খোঁজখবর নিন। কেননা তাদের কাছে আপনি পেতে পারেন প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য। ++ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করুন। সাংগঠনিক যোগ্যতা বাড়াতে বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত হোন। ++ ক্যারিয়ার রিলেটেড সভা, সমিতি ও জব ফেয়ারগুলোর খোঁজ রাখুন। ++ চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কর্মশালায় অংশগ্রহণ করুন। ++ বিভিন্ন কর্পোরেট হাউজের ওয়েবসাইট ব্রাউজ করুন। ++ অনুভূতি বা আইডিয়া প্রকাশের সময় আপনার যোগাযোগ দক্ষতা কাজে লাগান। সর্বোপরি জীবনের লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত অর্জনগুলোকে বাড়িয়ে তুলুন। কেননা একদিন এগুলো আপনার সাফল্যের সহায়ক। অনেক সময় অন্যের সঙ্গে আলাপের প্রয়োজন হতে পারে। পরামর্শের প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নিজেকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। খোলামন নিয়ে নির্ভর করা যায়, এমন মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। এতে আপনার বিষয়টির অজানা দিকগুলো আপনার সামনে আসতে পারে। এ থেকেও নিতে পারেন সঠিক সিদ্ধান্ত, তবে আপনার সিদ্ধান্ত আপনার নিজের। সবাই হয়তো সিদ্ধান্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবে, তার মধ্যে থেকে আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ বিষয়ে কাউকে অপরাধী করার চিন্তা না থাকাই ভালো। লজ্জা, সংকোচ আপনার সিদ্ধান্তকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত হওয়া চাই দৃঢ়। মডেল লিন্ডা