নারীদের জন্য জাপানে কৃষিতে ভাতাসহ প্রশিক্ষণের সুযোগ

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৪৪
জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়ণের কারণে প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণ। এ ছাড়া চাষাবাদের পদ্ধতি জ্ঞানের অভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে অনেকেই অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন এ পেশায়। অনেকে আবার বেশি লাভের আশায় চাষাবাদে ব্যবহার করছেন নানা ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক ওষুধ। যা সার্বিকভাবে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে জমির সংকট অন্যদিকে ভেজাল ও রাসায়নিক ওষুধযুক্ত চাষাবাদ। কৃষিনির্ভর এদেশের জন্য একটা বড় হুমকি স্বরূপ। তবে কৃষি বিষয়ে জৈব উপায়ে চাষাবাদ ও খাদ্য তৈরি নিয়ে মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিনাখরচে শুধুমাত্র নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সামাজিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল করা এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য। নারীদের জন্য : এ অধিদপ্তরের আওতায় সাভারের জিরাবোতে মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়। একটি হলো মাশরুম ও জৈব চাষাবাদ, অপরটি খাদ্য রন্ধন প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন। প্রশিক্ষণের মেয়াদ তিন মাস। প্রতি বিষয়ে ২৫ জন করে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তিও সুযোগ পাবেন। সরাসরি ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ১৬ সেপ্টেম্বর আবেদনপত্রসহ সকাল ১০টার আগে কেন্দ্র উপস্থিত থাকতে হবে। বছরে চারবার ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। শেখানো হয় :এ প্রসঙ্গে মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক (জৈব চাষাবাদ) অনুমারাক অনীমা জানান, কোনো রকম রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার ছাড়া কমখরচে প্রাকৃতিক উপায়ে চাষাবাদ করার পদ্ধতি শিখানো হয়। মাশরুম বিষয়ে পড়ানো হয়—খাওয়ার উপযোগী ও অনুপযোগী মাশরুম বিষয়ে এবং চাষাবাদ পদ্ধতি নিয়ে। প্রশিক্ষিক (খাদ্য রন্ধন প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন) এরীনা ইসলাম জানান, বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড তৈরি, যেমন—ব্রেড, কেক, বিস্কুট, বার্গার, পিত্জা ও চিকেন ফ্রাই ইত্যাদি তৈরি বিষয়ে হাতে কলমে শেখানো হয়। পাশাপাশি খাবার সংরক্ষণ পদ্ধতি, মেয়াদ ও গুণগত মান উপস্থান করে বিক্রয়ের পদ্ধতি নিয়ে পড়ানো হয়। এ ছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধি, হালকা কৃষি ও মাছ চাষ বিষয়ে রুটিনমাফিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দুইটি কোর্সের প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আবাসিকভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। ব্যবহারিক শিখার জন্য রয়েছে শাক-সবজি ও ফলের বাগানসহ আবাদি জমি। আবেদন যোগ্যতা ও নিয়ম-কানুন :প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিনু পারভীন জানান, ভর্তিচ্ছুকদের মাধ্যমিক বা সমমানের পাস হতে হবে। তবে বিশেষ বিবেচনায় শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলযোগ্য। পেশাজীবী নারীদের ভর্তির সুযোগ নেই। বয়সসীমা হলো ১৮ থেকে ৩৫ বছর। মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের ক্ষেত্রে ৪০ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। প্রার্থীকে আবেদনপত্রে পছন্দের বিষয়ের নাম লিখে দিতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে পাসপোর্ট আকারের তিন কপি ছবিসহ শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে আরও জানতে যোগাযোগ :মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নরসিংহপুর, জিরাবো, সাভার, ঢাকা। ফোন :০১৭১২১৯৫৬৫৯। ভর্তি প্রক্রিয়া :মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। বিষয় নিধারণের ক্ষেত্রে প্রার্থীর পছন্দ, যোগ্যতা, পারিবারিক ও অন্যান্য সুবিধা বিবেচনা করা হবে। মূলত পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হয়। যাদের আবাদি জমি আছে পাশাপাশি এ বিষয়ে স্বাবলম্বী হতে আগ্রহী তাদের সুযোগ দেওয়া হয়।