পুরাতন ঢাকার লালবাগ ও সংলগ্ন এলাকায় সুশিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ওই সময়ে এলাকার কিছু শিক্ষানুরাগী মানুষের উদ্যোগে কৃতী ব্যক্তিত্ব ড. শহীদুল্লাহ’র নামে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ড. শহীদুল্লাহ কলেজ। অতীতের অনেক চড়াই-উত্রাই, বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে কলেজটি আজ এ এলাকায় আলোর মিছিল হয়ে অন্ধকারকে বিদীর্ণ করে আলোকিত মানুষ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে চলছে। এই পথ পরিক্রমায় এর কাণ্ডারির ভূমিকা নিয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম। কলেজটির সার্বিক উন্নয়নে যিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে যেসব উদ্যোগ তিনি হাতে নিয়েছেন সেসব বিষয়ে কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, ‘আজকাল প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য সাজেশন ও নোট নির্ভর যে পুঁথিগত-শিক্ষা চর্চা অব্যাহত, তাতে ভালো ফলাফল মিললেও আমি উদ্বিগ্ন। কারণ, এতে সার্বিক জ্ঞানার্জন ব্যাহত হয়। তবে আশার বিষয় এই যে, সম্প্রতি আমাদের শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় দেশে সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি চালুর মধ্য দিয়ে উক্ত আত্মঘাতী চর্চাকে সমূলে উত্পাটন করার যুগান্তকারী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করতে আমাদের মন্ত্রণালয়, বোর্ড ও এনসিটিভি বিশেষকরে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরকে সমন্বিতভাবে কাজ করলেই কেবল এর সুফল তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রছাত্রীরা পাবে। না হলে সম্পূর্ণ নতুন এই পদ্ধতির কুফল কী হতে পারে, সেই চিত্র গত এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে আমরা দেখেছি। তবে আমরা আমাদের জিবির চেয়ারম্যান মহোদয়ের একান্ত সহযোগিতায় সকল শিক্ষকদের এই পদ্ধতির পড়াশোনা, প্রশ্নের ধরন সর্বোপরি পরীক্ষা এমনকি উত্তরপত্র মূল্যায়ন পর্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রশিক্ষণ প্রদান সহ এর বাস্তবায়ন অবধি সকল করণীয় অব্যাহত রেখে নতুন পদ্ধতির সুফল কাজে লাগানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’
অন্য এক প্রশ্নোত্তরে অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমি শিক্ষাটাকে কোনো প্রকার চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে গিলিয়ে তটস্থ করানোর পক্ষে নই। শিক্ষা হবে আনন্দদায়ক, নান্দনিক। বিশেষকরে নিম্ন শ্রেণীর কোমলমতি ছেলেমেয়েদের জন্য। ফলে আমি অফিস কক্ষে কাজের ফাঁকে নজরুল, রবীন্দ্র ও হাসন রাজা কিংবা আব্দুল আলিমের ভাওয়াইয়া গান শুনি এবং ছাত্রদের সাথে মিশে যেয়ে ওদের কাছ থেকে এসব গানের সিডি ধার নেই আবার ওদেরকে গিফটও করি। মাঝেমধ্যে অনুষ্ঠানাদিতে ওদের গান করতে বলি। এভাবে ধীরেধীরে ওদের দিয়ে কবিতা পাঠ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ইত্যাদি আয়োজন করার মধ্য দিয়ে লেখাপড়ার বাইরে সৃজনশীল সহশিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করি। এখানে সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বার্ষিক ক্রীড়া, জাতীয় দিবসে অংশগ্রহণ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি নিয়মিত পালন করাসহ অব্যাহত আছে ইংরেজি বিষয়ে এক্সট্রা কেয়ার এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সুযোগসহ বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম। এসব বিষয় নিয়ে আরও তথ্য জানতে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন আমাদের এই ঠিকানায় :১৬ উমেষদত্ত রোড, বকিশ বাজার, ঢাকা। অথবা কথা বলতে পারেন ৭৩০০৮৪৬ এই নম্বরে। এদিকে আমাদের শিক্ষার মান তথা ফলাফলের যে ক্রমোন্নতি তা ঈর্ষণীয় বলতে পারেন। এখানে নিয়োজিত শিক্ষকগণ যুগোপযোগী পাঠদানের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করছেন, বিশেষকরে কম্পিউটার ল্যাবে অচিরেই আমরা, ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর সংযুক্ত করে একুশ শতকের মধ্যে সরকারের ডিজিটাল শিক্ষা বাস্তবায়নের উদ্যোগের সাথে ছেলেমেয়েদের এগিয়ে নেওয়ার সূচনা করতে চাই।’
