শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রায়ই একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন প্রতিনিয়ত, তা হলো শিক্ষার্থীরা কেন উচ্চশিক্ষা অর্জন করার পরও বেকার থাকছে। এই প্রসঙ্গে একটি উত্তরে আসতে পারে, এত পরিশ্রমের পর যে সার্টিফিকেটটি হাতে আসে তার বাজার মূল্য কেমন। অর্জিত সার্টিফিকেটের গুরুত্ব তেমন না থাকলে বেকার থাকতে হয়। আর এ কারণেই বিশ্বজুড়ে চাহিদা আছে এমন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনে চেষ্টা করা উচিত। এ দেশের অনেক ডিগ্রি আছে যা অন্যদেশে স্বীকৃত নয়। কাজেই ডিগ্রি নেওয়ার আগে কর্মক্ষেত্র এবং এর চাহিদার প্রসঙ্গ নিয়ে একটু ভাবতে হবে। এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার বিষয় হিসেবে ব্যতিক্রমী পেশা বেছে নিতে পারে। যেমন বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। এশিয়ায়ও এই পেশার রয়েছে অনেক চাহিদা। এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার ডিগ্রিপ্রাপ্তদের শুধু এদেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে রয়েছে অফুরন্ত চাহিদা। একজন এএমই যেমন বিমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তেমনি এর সমতুল্য অ্যাভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রিধারী ব্যক্তিবর্গ অ্যাভিয়েশন সেক্টরে ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে রাখেন যথেষ্ট অবদান। বিমানের যাবতীয় প্রকৌশলগত তথা যেকোনো ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতির মেরামত বা সংশোধন ছাড়াও, স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিদর্শন কার্য সম্পন্ন পূর্বক বিমানকে সার্বিকভাবে কার্যোপযোগী বা উড্ডয়নোপযোগীর দায়িত্ব পালন করা এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারদের উপর ন্যস্ত থাকে। এই ইঞ্জিনিয়ারদের স্বাক্ষরিত সনদের উপর পূর্ণ আস্থা রেখেই পাইলট নিরাপদে ভ্রমণ ও গন্তব্যে যাত্রা করেন, যা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য একটি গর্বের ও গৌরবের বিষয়।
অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর গ্র্যাজুয়েট ও আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি রয়েছে। এক্ষেত্রে ১৮ মাস পর শিক্ষার্থী পাবে আন্তর্জাতিক ধারার সার্টিফিকেট লেভেল থ্রি বা এনডি। এরপর আঠারো মাসের লেভেল ফাইভ বা এইচএনডি। এরপর ফাইনাল ইয়ার বা চতুর্থ বছর পাবে টপ আপ বিবিএ বা বিএসসি। বিশেষ করে যারা এইচএসসি বা ‘এ’ লেভেল পাস করে উন্নত বিশ্বে চলে যেতে ইচ্ছুক তাদের জন্যও কোর্সটি সুফল এনে দেয়। ফাইনাল ইয়ারে ১ বছর এয়ারপোর্টে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ রয়েছে। আনন্দের বিষয় আগে ফাইনাল ইয়ার বা টপ আপ বিএসসি করতে দেশের বাইরে যেতে হতো, এখন লেভেল-৬ সম্পন্ন করা যাচ্ছে কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজি যাদের সেন্টার কোড ৯৩১৪২ এবং প্রধান ক্যাম্পাস সেক্টর-১১, রোড-২, বাড়ি-১৪, উত্তরা, ঢাকা। ফোন :০১৯২৬৩০২৯৪০। এটি বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের প্রথম অনুমোদিত অ্যাভিয়েশন ইনস্টিটিউট যার কলেজ কোড ৫০৩৮৯। কলেজটির অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্সের প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় ব্যাচের কয়েকশ শিক্ষার্থী ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, জার্মান, আয়ারল্যান্ডসহ উন্নত বিশ্বে চাকরি/ইন্টার্নি করতে চলে গেছে। স্বল্প সময়েও অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্সের উপর শ্যানন অ্যারোস্পেসের অধীনে ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে ইএএসএ কমন মডিউলে থিউরিটিক্যাল সম্পন্ন করে প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষার জন্য চলে যেতে পারে আয়ারল্যান্ডের শ্যানন এয়ারপোর্টে। প্র্যাকটিক্যাল টাইমে শ্যানন অ্যারোস্পেসে প্রত্যেক শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট পাওয়ার আগ পর্যন্ত মাসে ৫শ ডলার করে সম্মানী পেয়ে থাকে।
