ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যাত্রীরা ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের খপ্পরে পড়ে প্রতিনিয়তই খোয়াচ্ছে জীবন ও সম্পত্তি। এসব দুর্বৃত্ত র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে যত্রতত্র যানবাহন থামিয়ে তল্লাশির নামে লুটে নিচ্ছে যথাসর্বস্ব। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ চলতি বছরের ৮ মাসে ১২০টি ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ইচাইল থেকে মিল্টন ও লাল চান নামে দু’জন ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে। যাত্রী এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে হাইওয়ে ও থানা পুলিশের মধ্যে টহল সমন্বয়ের অভাবে যাত্রীরা ভুয়া র্যাব, গোয়েন্দা ও পুলিশ পরিচয়ের অপরাধী চক্রের শিকার হচ্ছেন। চন্দ্রা মোড়, বোর্ডঘর, হাটুভাঙ্গা, ধেরুয়া, বাওয়াকুমারজানি, পুষ্টকামুরি চরপাড়া, ইচাইল, ছয়দানা, কদিমধল্যা, জামুর্কি, নাটিয়াপাড়া, বাঐখোলা, করটিয়া, টাঙ্গাইল বাইপাস, এলেঙ্গা ও বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত লাগামহীনভাবে চলছে ডাকাতি আর ছিনতাই। এদের হাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কেউ থানায় গেলে হয়রানির শিকার হয়। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন রাজশাহী পৌরসভার সচিব সাদেক হোসেন, সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ী আমির হোসেন, মির্জাপুরের আব্দুল বাছেদ, ওয়ার্শি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহেল শাফিসহ অনেকেই। এদের হাত থেকে পুলিশও রক্ষা পাচ্ছেন না। কিছুদিন পূর্বে ঢাকা থেকে মধুপুরের বাড়ি যাওয়ার পথে পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মিজান নিহত হন।
ঘটনার পর পুলিশ ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে। অপরদিকে গত ২৬ আগস্ট মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে অপরাধীরা র্যাব ও পুলিশ পরিচয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১টি অপহরণ এবং ১ টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। মির্জাপুরের গোড়াইল গ্রামের মো. রাজীব মিয়াকে মহাসড়কের ছয়দানা থেকে মটর সাইকেল ও সাড়ে তিন লাখ টাকাসহ অপহরণ করেছিল। একই দিন গোড়াই এলাকা থেকে দুর্বৃত্তরা র্যাব পরিচয়ে ঢাকা পলিটেকনিকের ছাত্র পাঁচগাঁও গ্রামের মাসুদ রানার নিকট থেকে এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ওসি এবং গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি জানিয়েছেন, অপরাধীদের ধরতে পুলিশ মহাসড়কে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার বলেন, এসব ঘটনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া পুলিশি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
