ভোগ করছে অসাধুচক্র
সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনে বরাদ্দ পাওয়ার পর নীতিমালা মানতে ব্যর্থ ৫৯ প্লট বাতিল করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে এসব প্লটের জমি জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন বলে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র সাইনবোর্ডে সীমাবদ্ধ রয়েছে জমির দখল। হাজার কোটি টাকা দামের এসব জমিতে বাধাহীনভাবে অবৈধ স্থাপনা উঠছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদে নেই গতি। নিজেদের ইচ্ছেমতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তুলে ভাড়া তুলছে সৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী মহল।
তবে, খুব শিগগিরই আইনি জটিলতা কাটিয়ে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এসব জমিতে পরিকল্পিত উন্নয়ন করা হবে বলে জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। সূত্র মতে, পর্যটন শিল্প বিকাশে ২০০১ সালে কলাতলীতে ১৩০ একর জমিকে হোটেল-মোটেল জোন ঘোষণা দেওয়া হয়। নামে-বেনামে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৮৭টি প্লট। হাজার কোটি টাকার এসব প্লট ২০০৩ সালে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়। লিজ পেয়ে কেউ কেউ শর্ত পূরণ করলেও অধিকাংশই শর্ত পূরণ করেনি।
ইজারা চুক্তির শর্ত না মানায় ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি সংসদীয় কমিটি এবং ভূমি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ৮৭টি প্লটের মধ্যে ৫৯টি প্লট বাতিলের ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে বাতিল হওয়া প্লটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট প্লট মালিকরা। দীর্ঘ শুনানির পর গত ফেব্রুয়ারিতে উচ্চ আদালত ৫৭ প্লট মালিকের রিট খারিজ করেন। পরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ৫৯টি প্লটের মধ্যে ৫০টি প্লট নিজেদের দখলে নেয় এবং মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন আইনি জটিলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু প্রভাবশালী চক্র ওই বিরোধপূর্ণ প্লটে দোকানঘর ও ঝুপড়ি স্থাপনা তৈরি করে দখলে রেখেছে। এসব স্থাপনার কিছু অংশ একাধিকবার উচ্ছেদ করা হলেও বাধার মুখে পড়ে জেলা প্রশাসন। আর যেসব স্থাপনা ইতিমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে সেগুলো পুনরায় দখলে নিয়েছে মুনাফালোভীরা। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার বলেন, আইনি জটিলতা দূর করে প্লটগুলোতে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা খুব শিগগিরই উচ্ছেদ করা হবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ে ৫৭ প্লটের ৫০টি আমাদের কাছে ফিরেছে। বাকিগুলোর মালিকানাও আমরা পাব। সেখানে কী হবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পর্যটন উন্নয়নে এসব জমি পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো হবে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল ফোরকান আহমদ বলেন, কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটন নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠায় ২০১৬ সাল হতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কাজ করছে। শুধু সৈকত এলাকা নয়, পর্যটন সংশ্লিষ্ট যে কোনো স্থানে অপরিকল্পিত স্থাপনা কোনোমতেই গড়তে দেওয়া হবে না।
