সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:১২
পরিচ্ছন্ন, বৈচিত্র্যময়, বর্ণিল ও নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের আঁধার পর্যটনকেন্দ্র সাতছড়ি। এটি দেশের অন্য পর্যটনকেন্দ্র হতে বৈচিত্র্য ও বৈশিষ্ট্যে আলাদা। এখানে রয়েছে ১৯৭ প্রজাতির জীব। যার মধ্যে ১৪৯ প্রজাতির পাখি, ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৬ প্রজাতির উভচর প্রাণী। জাতীয় উদ্যানটি বহুসংখ্যক পাখির অভয়ারণ্য হওয়ায় এটি পাখি প্রেমিকদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সাতছড়ি অর্থ সাতটি ছড়া যা বনভূমির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জাতীয় উদ্যানের গুরুত্বপূর্ণ ধরন তৈরি করেছে। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত। এটি ক্রান্তীয় মিশ্র-চিরহরিত্ বনভূমি নিচু স্তরের গাছগুলোর অধিকাংশই চিরহরিত্ প্রজাতির। কিন্তু বৃহত্ বৃক্ষগুলোর বেশিরভাগই পত্রঝরা উদ্ভিদ। ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন অনুযায়ী ২০০৫ সালে ২৪৩ হেক্টর পার্বত্য এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। চুনারুঘাট শহর ছাড়িয়ে উত্তরে প্রায় ৭ কিমি দূরেই অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। খুবই পরিচ্ছন্ন এ উদ্যানে পর্যটকদের আনাগোনা সবসময়ই বেশি থাকে। জাতীয় উদ্যানটি কয়েকটি চা বাগান, গ্রাম ও পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত। উদ্যানটির আশপাশে ৯টি চা বাগান অবস্থিত হওয়ার কারণে পর্যটকরা আরো আকৃষ্ট হচ্ছেন জাতীয় উদ্যানের প্রতি। যারা একঢিলে দুই পাখি শিকার করতে চান তারা ঘুরে আসতে পারেন সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে। কারণ আপনি যে দিক দিয়েই জাতীয় উদ্যানটিতে আসুন না কেন রাস্তার পাশের চা বাগানগুলো আপনার নজর কাড়তে বাধ্য। এখানে রয়েছে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। যারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উপর গবেষণ করতে চান তারাও এখানে আসতে পারেন। কারণ সাতছড়িতে বাস করে প্রায় ত্রিশটি ত্রিপুরা পরিবার। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে এলে আপনি হারিয়ে যাবেন প্রকৃতির রাজ্যে। গহীন অরণ্যে হারিয়ে যাওয়ার জন্য ৩টি ট্রেইল বা হাইকিং করা হয়েছে। ৩টির মধ্যে ১টি ৩ ঘন্টার, ১টি এক ঘন্টার ও ১টি আধা ঘন্টার পায়ে হাঁটা পথ রয়েছে। পায়ে হাঁটা পথেই আপনি দেখবেন বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আকাশমণি, আগর, আশার, আউয়াল, বট, ভর, বনলিচু, চালতা, চাপালিশ, ছাতিম, ইউক্যালিপটাস. কদম, কাকরা, কানাইডিঙ্গা, কাঞ্চন, মান্দার, কড়ই, পিতরাজসহ নাম জানা না জানা বহু প্রজাতির উদ্ভিদ। পায়ে হাঁটা পথ বা ছড়ার উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পাহাড়ী ময়না, ঘুঘু, বুলবুলিসহ নানা প্রজাতির পাখির কিচির-মিচিরে আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। ট্রেইলের মধ্য দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই আপনি দেখতে পাবেন চমত্কার সব লেবুবাগান। এখানে আরো রয়েছে সৃজন করা আগর বাগান, পাম বাগান ও সেগুন বাগান। আপনার ভাগ্য ভালো হলে দেখতে পাবেন উল্লুক, মায়া হরিণ ইত্যাদি প্রভৃতির বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর। পর্যটকদের সুবিধার্থে এখানে পর্যটন পুলিশ ও ইকো গাইড নিয়োগ করা হয়েছে। তাছাড়াও আপনি পাহাড়ী ছড়া দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে গিয়ে ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা দেখতে পারেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাস করে আদিবাসী সমপ্রদায়ের লোকজন। তাদের জীবনধারা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন। সমপ্রতি পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য চালু হয়েছে ১টি পুলিশ বক্স। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের টিকেট কেটে প্রবেশ প্রথা চালু হয়েছে। এখানে থাকার জন্য কোন রিসোর্ট বা হোটেল চালু করা হয়নি। নির্মাণাধীন একটি রিসোর্ট উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। যদি রিসোর্ট হয় তাহলে পর্যটকদের থাকার অসুবিধা দূর হওয়ার কারণে তারা আরো বেশি সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ভ্রমণ করতে আসবেন।