গতকাল ২১ সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্ব শান্তি দিবস। শান্তি দিবসে বাংলাদেশে শান্তি কৈ? শান্তি কেমন সে তা? রক্তমাখা লাশ! জ্বালাও পোড়াও? গোলাগুলি; এমন শান্তি চায় না জনগণ। বিরোধীদল আর সরকারদলের ক্ষমতার লড়াইয়ে বলি হতে চায় না সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক সংঘাত, হরতালের নামে দেশ স্তব্ধ করে দেয়া, আর সরকারদলের নীপিড়নে বড্ড অশান্তি; অস্বস্থিতে আছে দেশের আমজনতা। বিরোধীদলগুলোর মিছে শান্তির আশ্বাস আর সরকারদলের উন্নয়নের ফুলঝুড়িতে জনগন প্রচণ্ড বিরক্ত, ক্ষুব্ধ, ক্লান্ত। দেশজুড়ে কেবল অশান্তির দাবানল। জনগণ শান্তি চায়।
বৃহত্তর দুটি রাজনৈতিক দলের সহিংস চলমান রাজনীতি বর্তমানে এমন পর্যায়ে যে, এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে নিজেদের হাতেই জাতি ধ্বংস হতে কতক্ষণ? কোথায় আজ সত্যিকারের রাজনীতি? রাজ কোথায়? আর নীতিই বা কোথায়? নির্বাচন আর ক্ষমতা পালাবদলের নামে যা হচ্ছে তা মোটেও রাজনীতি নয়। জনগণ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে; সংঘাতের পক্ষে নয়। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার পালাবদলের খেলায় জনগণ কেন বলি হবে? দেশের সম্পদ কেন এভাবে নষ্ট করা হবে? দেশের অর্থনীতিতে কেন আঘাত হানা হচ্ছে? আপনাদের সুচিন্তায় অবশ্যই দেশ রক্ষা পাবে; জনগণ পাবে মুক্তি, শান্তি, স্বস্তি। আর এটাই একমাত্র সমাধান। বিশ্ব শান্তি দিবসে এটাই চায় জনগণ।
রাজনীতিতে টানটান অবস্থা দেশজুড়ে। দেখা গেল পিঠেপিঠি মিছিলের উচ্ছ্বাস, উেরাল, প্রতিযোগিতা, দেখিয়া দিবার প্রতিশ্রুতি। বিরোধী পক্ষের একটি মিছিলের উত্তরে সরকার পক্ষের কোমর বেঁধে দু’দুটি মিছিলের ব্যবস্থা। ফলো-আপ কিংবা ফলো-অন, যে নামেই তাকে ভূষিত করা হোক না কেন, যুক্তিটি প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত সহজ। সরকারি ক্ষমতার প্রদর্শন বলে কথা। ক্ষমতার অর্থ কী, পুলিশ বাহিনী দিয়ে দলীয় স্বার্থ রক্ষা? সমাবেশে আসতে না দেয়া? পথরোধ করে দেয়া? আর হরতালের নামে আগের দিন থেকেই গাড়ি ভাংচুর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়া। সরকারি দল যেমনটা; অন্যদিকে বিরোধী দলও কম নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর টক্কর দেয়ার খেলায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নিদারুণ ক্ষতি হচ্ছে। ব্যবসায়ী মহল থেকে বলা হচ্ছে তারা শিল্পকারখানা গার্মেন্টস চালাতে পারছেন না। বন্ধ করে দিতে হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। ব্যবসায়ীদের শত অনুরোধও বিরোধীদল মানলেন না। আজকাল জনসমর্থন অবশ্য বোঝা মুশকিল। কোন সমাবেশেই লোকসমাগমের কমতি দেখি না! বর্তমানে এরশাদের সমাবেশও তো মহাসমাবেশে পরিণত হয়। সমাবেশের লোক গুনে জনসমর্থন নিরুপণ মুশকিলই বটে। নিন্দুকেরা অবশ্য প্রশ্ন তুলতেই পারেন, বিরোধীরা সরকারি অপশাসনের ধোয়া তুলবেই, তাই তাদের মিছিলের যুক্তিটি যদি-বা তর্কের খাতিরে মেনে নেয়া যায়, সরকারি মিছিলের উদ্দেশ্য কিংবা বিধেয়টি ঠিক কী? সরকার তো নিজেই প্রশাসন, তা হলে প্রশাসন স্তব্ধ করে সড়ক মহাসড়কে মানুষের ঢল নামিয়ে সরকারপক্ষ কী প্রমাণ করতে চায়? প্রতিটি হরতালের সময়ই দেখি মাঠ দখলে নেয় সরকারি দল। বাস্তব হলো, শোভনীয় না হলেও লোভনীয় অবশ্যই। আমাদের সরকারি দল তাই বৃহত্তর সংখ্যার ব্যবস্থা করতে ছুটছেন, কোনো ফাঁক রাখেননি, অকাতরে মানুষ আমদানি করা হচ্ছে চতুর্দিক থেকে। যেমনটা করেছেন আমাদের বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও। চাই চাই তাদের লোক চাই। শক্তির কসরত চাই। যেন না হারি কিছুতেই। তিনি হালে বলেছেন সংঘাত আরও হবে, লাশ আরও পরবে— তবু সমানে এগিয়ে যেতে হবে। আর তাদের এমন চাওয়া-পাওয়ায় যে দেশের মানুষের জানকবজ হওয়ার জো হয় তা কি তারা ভাবেন কখনো। ভাবার কথা নয়, ভাবলে হয়তো সমঝোতার পথে আসতেন তারা।
এদেশে রাজনৈতিক সমঝোতা কখনোই হয়নি। হয়তো হবেও না। সমঝোতা হলে যে দেশের মানুষ সুখ পাবে; শান্তি পাবে। জনগণের এমন সুখ শান্তির দরকারই বা কি আমাদের নেত্রীদ্বয়ের। যে যা বলুক ঘুরে ফিরে চিত্র সেই একই। ‘যেই লাউ সেই কদু আর কি।’ মানুষ দেখবে না কোন পরিবর্তন। সহসা শান্তি আসবে না। স্বস্তি ফিরে পাবেনা মানুষ। আমরা এর পরির্বতন চাই। প্রতিবাদ চাই, প্রতিরোধ চাই। রাজনীতি হোক মানুষের কল্যাণে। কোনভাবেই, কোন অজুহাতেই জনধ্বংস বা সম্পত্তি ধ্বংস বা গোলযোগ সৃষ্টি বা “কঠোর হাতে” মোকাবেলা, বা কঠিন কর্মসূচী প্রত্যাশিত নয়। আশা করি জনগণের তথা দেশের শান্তি সমৃদ্ধির কথা ভেবেই আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর শুভবুদ্ধির উদয় হবে এটাই প্রত্যাশা।
লেখক: সাংবাদিক
