তৃণমূল ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন পশ্চিমবঙ্গের চার সংসদ সদস্য

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৬
দলবিরোধী মন্তব্য করে বিদ্রোহের পর তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের চার সংসদ সদস্য। এরা হলেন তাপস পাল, শতাব্দি রায়, কুনাল ঘোষ এবং সোমেন মিত্র। তাদের সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে এ ধরনের ঘটনায় বেশ অস্বস্তিতে রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বানার্জী। জানা গেছে, বিদ্রোহী এই চার সংসদ সদস্য দলত্যাগের সময় তাদের সঙ্গে আরো কয়েকজন যোগ দিতে পারেন। দলত্যাগ আইন এড়াতে আগেভাগে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলছেন না। দল ত্যাগ করতে হলে সাতজনকে একসঙ্গে বের হতে হবে। সেটা নিশ্চিত হলেই দল ভেঙ্গে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। তা না হলে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা কংগ্রেসে যোগ দেবেন। দলবিরোধী মন্তব্য করায় শুক্রবারই তৃণমূলের তিন সাংসদ তাপস পাল, শতাব্দী রায় এবং কুনাল ঘোষকে শোকজ করা হয়। দলের নেতা মুকুল রায় বলেছেন, এদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে দল। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেছেন, কংগ্রেস ছেড়ে যারা চলে গিয়েছেন তাদের সকলেরই ফিরে আসার সুযোগ আছে। কুনাল ঘোষ বলেন, চিঠি পেলে জবাব দেব। তৃণমূলে এসেছিলাম দলটাকে একটা পরমাণু ভেবে, যা মানুষের জন্য কাজ করবে। কিন্তু এখন দেখছি দলটা পরমাণু বোমা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সোমেন মিত্র আগে কংগ্রেসে ছিলেন। উনি যেখানে বলবেন সেখানে যাব। শতাব্দি রায় বলেন, তৃণমূল সংসদ সদস্য সোমেন মিত্রের স্ত্রী তৃণমূলের বিধায়ক শিখা মিত্রকে উল্টোপাল্টা কথা বলা হচ্ছে। আমাকে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না। তাপস পাল অভিযোগ করে বলেন, তিনি দলে যোগ দেয়ার পরে যারা তাকে একঘরে করে রেখেছিলেন, তারাই এখন দলে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। এর আগে শুক্রবার কলকাতায় প্রকাশ্য সভায় দলের গোলমালের কথা বলেন সংসদ সদস্য কুনাল ঘোষ, শতাব্দি রায়। তখন তারা বলেন, দলের মধ্যে বলা হচ্ছে, আমাদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত করা হোক। আমরা বলছি, তৃণমূলের সব এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত হোক। সত্যি বের হয়ে আসবে।