রামপাল বিদ্যুত্ প্রকল্পকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও সুন্দরবন ধ্বংসকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের সব তত্পরতা বন্ধ, বাতিল এবং
গ্যাস-বিদ্যুত্ সংকট সমাধানে ৭ দফা দাবি জানিয়েছে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।
শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে ‘ভারতের সীমাহীন মুনাফার স্বার্থে সুন্দরবনধ্বংসী রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে আগামী ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা-সুন্দরবন লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ দাবি জানায় জাতীয় কমিটি।
কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল¬্লাহর সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ আবুল মকসুদ, প্রকৌশলী বিডি রহমত উল্ল¬া ও রুহিন হোসেন প্রিন্স। উপস্থিত ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিমল বিশ্বাস, টিপু বিশ্বাস, বজলুর রশীদ ফিরোজ, জোনায়েদ সাকী, রাগীব আহসান মুন্না প্রমুখ।
আনু মুহাম্মদ বলেন, বিদ্যুত্ উত্পাদনের বহু বিকল্প আছে কিন্তু সুন্দরবনের বিকল্প নেই। তাই সুন্দরবন ধ্বংসকারী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে ২৪-২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা রামপাল লংমার্চ ঘোষণা করা হয়েছে। রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সরকার শুধু সুন্দরবনকে ধ্বংস করবে তাই নয়, এর মাধ্যমে দেশকে বড় এক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলন থেকে জানানো হয়, লংমার্চ সফল করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জাতীয় কমিটি। ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে লংমার্চ শুরু হবে। এরপর প্রথমদিন শাহবাগ, সাভার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ধামরাই হয়ে মানিকগঞ্জে জনসভা, দ্বিতীয়দিন ২৫ সেপ্টেম্বর গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী হয়ে ফরিদপুরে জনসভা, তৃতীয়দিন ২৬ সেপ্টেম্বর মধুখালী, কামারখালী, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কালিগঞ্জ হয়ে যশোরে জনসভা, চতুর্থদিন ২৭ সেপ্টেম্বর ফুলতলা, দৌলতপুর, খালিশপুর হয়ে খুলনায় জনসভা এবং লংমার্চের পঞ্চমদিন ২৮ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট, রামপালের দ্বিগরাজে সমাপনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। যাত্রাপথে গান, নাটক, পথসভা, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
