বর্তমানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জাতীয় আয় বৃদ্ধি, নারী-পুরুষ সমতা ও ক্ষমতায়ন, আয় বৈষম্য হ্রাস, সম্পদের সুষম বণ্টনের জন্যই মূলত নিজের প্রচেষ্টা এবং উদ্যোগ নিয়ে কাজ করাটা একান্ত প্রয়োজন। একজন আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ সহজেই নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারেন, নিজেকে সাথে দেশের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারেন। তাই এই প্রজন্মের মাঝে একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠার আগ্রহও অনেক। নিজেদের মেধা এবং মননকে কাজে লাগিয়ে এই সেক্টরে সফল হয়েছেন এমনই একজনের কাছে জানব এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য তার পরামর্শ
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়ার শুরুতে অনেক বাধা-বিপত্তির মোকাবেলা করতে হয়, পড়তে হয় অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। তবুও এমন পরিস্থিতিতে যারা হাল ধরে থাকেন, লক্ষ্যে অটুট থাকেন, শুধু তাদের নৌকাই ভিড়ে বিজয় বন্দরে। তেমনি একজন তানজিমা শারমিন মিউনী। তার প্রতিষ্ঠান হেয়ারোবিক্স ব্রাইডালের পরিচয়েই পরিচিত এখন তিনি রাজধানীবাসীর কাছে। তানজিমা শারমিন মিউনী আমেরিকাতে সেলুন বিষয়ক কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সেই তাড়না থেকেই চাইছিলেন পার্লার করবেন। অবশ্য তখনই তার স্বামীর প্রতিষ্ঠান হেয়ারোবিক্স ঢাকা শহরের প্রথম কাতারের মেনজ পার্লার হিসেবে বেশ সমাদৃত। সেইসূত্রেই দেশ এবং দেশের বাইরের সেলুনের খবরাখবর রাখতেন মিউনী। এসব মিলিয়ে নিজেই একটি সেলুন দিলেন শহরের বুকে হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল নামে। এরপর সার্বিক তত্ত্বাবধান আর একনিষ্ঠ পরিশ্রম দিয়েই তিনি আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন এই বিউটি কেয়ার সেলুনটিকে। মিউনীর কাছে প্রশ্ন ছিল, নতুনরা কোনো উদ্যোগের শুরুতে কেমন করে এগোবে? তিনি বললেন, ‘প্রথমেই দরকার নিজের উপর আস্থা রাখা। তা নাহলে কোনো কাজেই ভালো করা যায় না। কোনো বিষয় নিয়ে কাজ করতে চাইলে সেই বিষয়ে যথার্থ জ্ঞান থাকলে এই আস্থা তৈরি হয়। অবশ্য মূল বিষয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েও কমবেশি জানাশোনা থাকা উচিত। মনে রাখা দরকার, মানুষ তার ইচ্ছের সমান বড়। কেউ যদি তার লক্ষ্যে অটুট থাকে, তাহলে কেউ তাকে আটকে রাখতে পারবে না।’
০০০০০
ডা. সাদিয়া রহমান শশী
প্রভাষক,
ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ, ঢাকা।
ডেন্টিস্ট
আমাদের দেশে বরাবরই পেশা হিসেবে চিকিত্সা পেশা পছন্দের তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে। বিশেষ করে এ ক্ষেত্রে ডেন্টাল সার্জনদের রয়েছে দারুণ কদর। ডেন্টাল সার্জনদেরকে আমরা সাধারণত ডেন্টিস্ট হিসেবে চিনে থাকি, যারা আমাদের শরীরের মূল্যবান অঙ্গ দাঁতের চিকিত্সা করে। ডেন্টিস্টদের চাহিদা এবং কাজের সুযোগ দিন দিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর তাই এই প্রজন্মের অনেকেই ডেন্টাল সার্জন হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে দারুণ আগ্রহী। তাই এবার ডেন্টিস্ট হিসেবে সফল একজনের কাছ থেকে জানব এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে কিছু পরামর্শ।
বাবা-মায়ের খুব শখ, মেয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবে! কিন্তু কম্পিউটার নামের যন্ত্রটা সে সময় মেয়েটিকে বিন্দুমাত্র আকর্ষণ করল না। শেষমেশ মেয়েটি প্রকৌশলশাস্ত্র ছেড়ে মামা প্রফেসর ডা. মোজাম্মেল হোসেনের প্রেরণায় ভর্তি হলেন ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজে। কিছুদিন পড়ার পর মেয়েটির ভালো লেগে গেল বিষয়টি। কে জানত সেইদিন যে নিতান্তই মামার কথায় ডেন্টালে ভর্তি হয়েছিল, সে-ই একদিন তার নিজের কলেজেরই শিক্ষক হয়ে যাবে। ডেন্টাল সার্জন সাদিয়া রহমান শশী সেই মেয়েটি যে নিজের আগ্রহ আর যোগ্যতায় তার আজকের অবস্থানে এসেছেন। এ বিষয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি মিরপুরের এসএস ডেন্টাল কেয়ারের চিফ কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের উদ্দেশ্যে এই ডেন্টাল সার্জন বললেন, ‘পেশা হিসেবে আমাদের দেশে ডেন্টাল সার্জনদের কাজের অনেক সুযোগ থাকলেও বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেশের অনেক মানুষ দন্তসেবার ব্যাপারে সচেতন হলেও বেশিরভাগ মানুষই উদাসীন। অবশ্য এ অবস্থাও ধীরে ধীরে পাল্টাচ্ছে। নতুনরা এমনিতেই প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে অনেকখানি এগিয়ে আছে। তবে আরও ভালো করার জন্য পড়াশোনার পরিধিটাও বাড়ানো জরুরি। একইসাথে সিনিয়রদের সহায়তা কাজের অভিজ্ঞতাও বাড়াতে হবে।’
