মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৫৩
মো. শাহজাহান আলম পার্টনার, মার্জ পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং শাহজাহান আলম ডাকনাম :শাহজাহান জন্মতারিখ ও স্থান :২৫ ডিসেম্বর, চুয়াডাঙ্গা মায়ের নাম :জহুরা খাতুন বাবার নাম :শহীদুল ইসলাম প্রথম স্কুল :রুহীতনপুর স. প্রা. বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :মা-বাবা প্রিয় উক্তি :দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষাকাল প্রিয় পোশাক :শার্ট, প্যান্ট অবসর কাটে যেভাবে :মাছ ধরে সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংকে তার সবসময় রহস্যময় মনে হতো। একটা লোহাতে কীভাবে প্রাণের সঞ্চার হয়, এ বিষয়টিই মো. শাহজাহান আলমকে আকৃষ্ট করত বেশি। নিজের পেশা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যন্ত্র প্রকৌশলী হিসেবে পেশা গড়ে তোলাটা কঠিন কিছু নয়। সবকিছু নিজের আগ্রহ থেকেই মানুষ শিখে থাকে। অনেক সীমাবদ্ধতা থাকার পরও বেশ ভালো ভালো যন্ত্রপ্রকৌশলী আছেন আমাদের দেশে। তাদের পরিশ্রমের কারণেই অনেক ভালো কাজ হচ্ছে।’ শাহজাহান আরও যোগ করলেন, এখন দেশে বেশ ভালো প্রযুক্তিও আছে। আগে এতসব ছিল না। বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রকৌশলীদের চাহিদা রয়েছে। নতুনদের এই পেশায় স্বাগত জানিয়ে শাহজাহান বলেন, ‘অফুরন্ত সম্ভাবনার একটা পেশা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। দেশ ও দেশের বাইরেও কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে, এটাকে কাজে লাগালেই আমরা অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারব। এখনই সময় এই সম্ভাবনা আর আমাদের সামর্থ্যের কথা বিশ্বদরবারে জানানো। নিজেদের কাজকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে পারলেই সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। সেই সাথে উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরের দুয়ার তো খোলা থাকছেই। কাজেই তরুণরা যতই আসবে, ততই সমৃদ্ধ হবে এই পেশা।’ শাহজাহান মনে করেন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা এই ধরনের সৃজনশীল কারিগরি বিষয়গুলোতে কেবল বইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। এর বাইরে হাতে কলমে শেখার অনেক দিক থেকে যায়। আর শিক্ষকরাই পারেন এই বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে। এই বিষয়গুলোও নিয়মিত তরুণদের মাঝে পরিচিত করানোর জন্য কাজ করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তারুণ্য নিয়ে আমি সব সময়ই আশাবাদী। আজকের বৈচিত্র্যময় আন্তর্জাতিক জ্ঞান-পরিমণ্ডলে এ দেশের তারুণ্যের যে শক্তি ও সম্ভাবনা আমরা দেখছি, তাতে করে এই আশাবাদ আরও পোক্তই হয়। আমি মনে করি পরামর্শের চেয়ে নিজ থেকে অনুভব করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে তারপরও তাদের প্রতি আমার চাওয়া তারা যেন বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক জ্ঞান পরিমণ্ডলের দ্বিমুখী পাটাতনের ওপর নিজের অবস্থানটা নিয়ে পরিষ্কার ধারণা অর্জন করে। ’ শাহজাহানের ভবিষ্যত্ নিজের প্রতিষ্ঠানকে আরও বড় করে, আরও মানুষের কর্মসংস্থান করে, দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং প্র্যাকটিস চালু করার জন্য কাজ করে যাওয়া। ০০০০০০০০ কেএম রাফিদ হাসান ফাহাদ প্রভাষক, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কেএম রাফিদ হাসান ফাহাদ ডাকনাম :ফাহাদ জন্মতারিখ ও স্থান :২ অক্টোবর, ঢাকা মায়ের নাম :নাজমা বেগম বাবার নাম :মো. কিসমত খান প্রথম স্কুল :মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যলয় প্রিয় উক্তি :man borns to be free. প্রিয় মানুষ :মুহম্মদ জাফর ইকবাল প্রিয় পোশাক :জিন্স, শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :ঘুরে বেড়িয়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :যেকোনো কাজে আগ্রহ নিয়ে ভালো কিছু করা। উচ্চ মাধ্যমিকের পর মেধাবীদের আগ্রহ থাকে বুয়েটকে ঘিরে। আর সেই পথ ধরে তারাই এগোতে পারেন, যারা স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি পরিশ্রম করে যান। ফাহাদের নিজের আর পরিবারের ইচ্ছাতেই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মে। মেকানিক্যালের প্রতি আগ্রহটা পেয়েছেন বড় ভাইয়ের থেকে, এরপর ফাহাদও খোঁজখবর নেন বিষয়টা সম্পর্কে। প্রতিটা ক্ষেত্রেই তাদের কাজের অনেক সুযোগ, এই বিষয়টা অনুধাবন করার কারণেই মেকানিক্যালে আসেন তিনি। আর সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েও সেরাটা ধরে রাখতে পেরেছিলেন তিনি, এ কারণেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিভাগেই। ফাহাদ মনে করেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় দিনকে দিন আগ্রহ অনেক বেড়েছে এই ক্ষেত্রে। অনেকেই এখন এই পেশার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। রোবোটিক্স নিয়েও তরুণ প্রজন্ম অনেক ভালো কাজ করছে। এর বাইরে বাংলাদেশেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়াতে তরুণরা আগ্রহ নিয়ে আসছে এবং ভালো করছে। এখানে কাজের জন্য আরও জরুরি হলো এই পেশার প্রতি দুর্নিবার আগ্রহ, আগ্রহ থাকলেই ভালো কাজ করা সম্ভব, এই বিশ্বাসটুকু নিজের মাঝে তৈরি করতে হবে। ফাহাদ জানান, বহির্বিশ্বের সাথে তুলনা করলে আমাদের সীমাবদ্ধতা হয়তো অনেক, কিন্তু শেখানো হচ্ছে অনেক কিছু। আরও ল্যাব থাকলে হয়তো হাতে কলমে শেখার মাত্রাটা বেশি হতো, তারপরেও বাইরের দেশে কাজ করতে গেলে তারা সেটুকু উের যেতে পারছে। বাইরে আমাদের দেশের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা সুনামের সাথে অনেক জায়গাতে কাজ করছে। নতুনদের জন্য পরামর্শ জানতে চাইলে সময়ের মেধাবী এই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বলেন, আগ্রহ থাকাটা বাধ্যতামূলক, এর সাথে কিছুটা পরিশ্রম তো করাই লাগবে। হাতে কলমে জিনিসগুলো বুঝে নিতে হবে, সেটার প্রায়োগিক জ্ঞান থাকতে হবে। আর পরের কথায় প্ররোচিত না হয়ে, বিজ্ঞানের যে দিকটায় উত্সাহ পান, সেই দিকটাতেই নিজের ক্যারিয়ার গড়তে হবে। রাফিদ হাসান ফাহাদের শৈশব কেটেছে ঢাকাতেই। মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে কেটেছে তার শৈশবের দিনগুলো। এরপর নটরডেম কলেজ, পরে তো বুয়েট ক্যাম্পাসে কেটেছে জীবনের সেরা কিছু সময়। যন্ত্রের সাথে চলা এই মানুষটা শত ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের সাথে সময় কাটাতে খুব পছন্দ করেন। বাবা-মা দুজনেই সরকারি কর্মকর্তা। ভাইবোনদের মাঝে সবার ছোট ফাহাদ। তাই আদরের কেটেছে তার ছেলেবেলার দিনগুলো। ভবিষ্যতে নিজে আরও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আহরিত জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা প্রজন্মের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে চান তিনি বলে জানান। ০০০০০০০০ জিয়া উদ্দিন আহমেদ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এভিই ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনসালটেন্ট লি. জিয়া উদ্দিন আহমেদ ডাকনাম :আবীর জন্মতারিখ ও স্থান :১৮ জুন, সৌদি আরব মায়ের নাম :জাহেদা খাতুন বাবার নাম :আহমেদ আলী প্রথম স্কুল :রাবেয়া প্রি ক্যাডেট স্কুল প্রিয় মানুষ :আমার মা বাবা প্রিয় উক্তি :I am What I am. প্রিয় পোশাক :পাঞ্জাবি-জিন্স অবসর কাটে যেভাবে :চলচ্চিত্র দেখে, গান শুনে সাফল্যের সংজ্ঞা :প্রত্যাশা অনুযায়ী জায়গাতে পৌঁছানো। বুয়েটে পড়াশোনার সময় এক ‘ও’ লেভেলের ছাত্রকে পড়াতেন। ছাত্রটির চাচা হচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ার মানস কুমার মিত্র। মূলত তিনি হচ্ছেন একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন HVAC (heating, ventilation, air conditioning) এক্সপার্ট এবং MEP (mechanical, electrical, plumbing) & Fire কনসালটেন্ট। বাংলাদেশে যাদের হাত ধরে HVAC সিস্টেম ডিজাইনের যাত্রা শুরু হয়েছে তাদের মধ্য একজন। ছাত্রের কাছ থেকে তার ঠিকানা নিয়ে চার বন্ধু মিলে চলে গেলেন তার কাছে। মানস কুমার মিত্রের কাছে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কিছু করতে চান বলে জানান তারা এবং এ ক্ষেত্রে তার পরামর্শ চাইলেন। তিনি কিছু পরামর্শ দিলেন সেই অনুসারে তারা কাজ শুরু করলেন। নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে কয়েকটা ইঞ্জিনিয়ারিং সাইটও ভিজিট করে এলেন। তার ডিজাইন করা একটি চলমান সাইট ভিজিট করতে চলে গেলেন চট্টগ্রামে। তারপর তাদের আগ্রহ দেখে তার অফিসে জয়েন করার কথা বললেন। এরইমধ্যে বাকি তিন বন্ধু চাকরিতে ঢুকে গেছে, তিনি তখন একটি কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিচ্ছিলেন। তারপর সেখান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। এভাবেই তার শুরু। বলছিলাম এভিই ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনসালটেন্ট লি.-এর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জিয়া উদ্দিন আহমেদের কথা। তার তিন ভাই, কোনো বোন নেই। তিন জনেরই জন্ম সৌদি আরবে। জিয়া উদ্দিন আহমেদের বয়স যখন সাত তখন বাংলাদেশে চলে আসে তার পরিবার। তারপর সরাসরি দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। গণিত করতে খুব ভালোবাসতেন, এ ছাড়া পদার্থ বিজ্ঞান ও অঙ্কনও তার বেশ ভালো লাগত। তাই হয়তো ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িংয়ে তার তেমন সমস্যা হয় না। জীবনের অনেক প্রাপ্তির মধ্যে বুয়েটে সুযোগ পাওয়াটা তার কাছে অনেক বড় বলে জানান। নিজের কাজ সম্পর্কে জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এই কনসালটেন্সি লাইনে কাজ করতে গেলে প্রচুর পড়তে হয়, জানতে হয়। কেননা আমাদের একটি বিল্ডিংয়ের পুরো ইলেকট্রিক্যাল প্লাম্বিং এবং ফায়ার ফাইটিং সিস্টেমের ডিজাইন করতে হয়। এখন বিল্ডিংটা হতে পারে যেকোনো কমার্শিয়াল বিল্ডিং বা হাসপাতাল বা ফার্মাসিউটিক্যাল ইত্যাদি। প্রতিটিই আলাদা কনসেপ্ট। তাই ডিজাইনেও আসে ভিন্নতা। আবার আমাদের মেটারিয়াল এবং ড্রয়িং অ্যাপ্রোভাল ছাড়া সাইটের কাজও এগোবে না। তাই কাজ করার ফাঁকে জানার তাগিদে বই নিয়ে বসে যাই পড়তে। যে আমি একসময় চরম ফাঁকিবাজ ছিলাম, বই ছুঁয়ে দেখতাম না। সেই আমি এখন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বই পড়তে ভালোবাসি। ’ জিয়া উদ্দিন আহমেদের ভবিষ্যত্ স্বপ্ন অনেক বড় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। একটু একটু করে এগোচ্ছেন তিনি। শুধু দেশেই না আন্তর্জাতিকভাবেও কাজ করতে চান জিয়া উদ্দিন আহমেদ।