নতুন রূপে সেজেছে জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট টুইটার। প্রতিনিয়ত এতে আসছে নিত্য নতুন আপডেট এবং অ্যাকটিভিটি। ব্যবহারকারীদের প্রোফাইলের ছবিগুলো হাইলাইট করতে নিজেদের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নতুন করে সাজিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। এই কর্মযজ্ঞে নেতৃত্ব দিচ্ছে তরুণ প্রতিভা ইভান ক্লার্ক উইলিয়ামস। বিশ্বজুড়ে টুইটারের বিপুল জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে ইভানের বিশাল ভূমিকা। তারুণ্যের এ মেধাবী প্রতিনিধিকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের নতুন ডিজাইন নিয়ে টুইটার এলে প্রতিদ্বন্দ্বী ফেসবুকের সঙ্গে জমজমাট প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে বলে ধারণা করেছিল প্রযুক্তি সমালোচকরা। টুইটারের নতুন রূপে ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল পিকচারটি থাকছে একদম ওপরে, বাঁ পাশে। আর টুইটগুলোর নিচেও থাকছে ফটো স্ট্রিম। টুইটারে ইউজারদের উপস্থিতি আরও অর্থময় করে তুলতেই নতুন এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে টুইটার ব্লগে জানানো হয়।
টুইটার পরিচিতি
টুইটার সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা ও মাইক্রোব্লগিংয়ের একটি ওয়েবসাইট, যেখানে ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ১৪০ অক্ষরের বার্তা আদান-প্রদান ও প্রকাশ করতে পারেন। এই বার্তাগুলোকে টুইট বলা হয়ে থাকে। টুইটারের সদস্যদের টুইটবার্তাগুলো তাদের প্রোফাইল পাতায় দেখা যায়। টুইটারের সদস্যরা অন্য সদস্যদের টুইট পড়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারেন। এই কাজটিকে বলা হয় অনুসরণ করা করা। কোনো সদস্যের টুইট পড়ার জন্য যারা নিবন্ধ করেছেন, তাদেরকে বলা হয় অনুসারী বা ফলোয়ার। টুইট লেখার জন্য সদস্যরা সরাসরি টুইটার ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়াও, মোবাইল ফোন বা এসএমএসের মাধ্যমেও টুইট লেখার সুযোগ রয়েছে। টুইটারের মূল কার্যালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিস্কো শহরে। এ ছাড়াও, টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিও এবং ম্যাসাচুসেটসের বস্টনে টুইটারের সার্ভার ও শাখা কার্যালয় রয়েছে।
টুইটারের জন্মকথা
২০০৬ সালের মার্চ মাসে টুইটারের যাত্রা শুরু হয়। তবে ২০০৬-এর জুলাই মাসে জ্যাক ডর্সি আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্ব্বোধন করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই টুইটার সারা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর নাগাদ টুইটারে ১৭৫ মিলিয়ন অর্থাত্ ১৭.৫ কোটিরও বেশি সদস্য ছিল। অন্যান্য পরিসংখ্যান অনুসারে একই সময়ে টুইটারের ১৯০ মিলিয়ন বা ১৯ কোটি সদস্য ছিল ও দিনে ৬৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৬ কোটি টুইট বার্তা এবং ৮ লাখ অনুসন্ধানের কাজ সম্পন্ন হতো। টুইটারকে ইন্টারনেটের এসএমএস বলে অভিহিত করা হয়। প্রযুক্তি-দুনিয়ায় ব্লগ এসেছে গত শতকের নব্বইয়ের দশকে। শুরুতে এর নাম ছিল ওয়েবলগ। পরে সংক্ষিপ্ত হয়ে এর নাম হয় ‘ব্লগ’। তবে ওয়েবলগেরও আগে এর নাম ছিল উইব্লগ।
উইব্লগ নামটিকে পরিমার্জন করে নতুন সফটওয়্যার নিয়ে যিনি ব্লগ জগতে দিয়েছেন নতুন মাত্রা এনেছেন তার নাম ইভান ক্লার্ক উইলিয়ামস। কমিউনিটি ব্লগের যাত্রা শুরু হয় উইলিয়ামের ব্লগ দিয়েই। তিনিই প্রথম ‘ব্লগার’ শব্দটির উদ্ভাবক। উইলিয়ামের জন্ম ১৯৭২ সালের ৩১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাবরাস্কা গ্রামে। ছোটবেলায় কৃষিকাজ দেখে দেখেই বড় হন তিনি। পড়াশোনার জন্য ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব ন্যাবরাস্কাতে। কিন্তু অর্ধেক সময় পার না হতেই পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা না করে তিনি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে পাড়ি জমান ক্যালিফোর্নিয়ায়। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে চাকরি জুটিয়ে নেন। কিন্তু কোডিংয়ে পারদর্শিতার জন্য পরে তিনি কম্পিউটার কোডার হিসেবে পরিচিত পান। পরে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে যোগ দেন ইন্টেলে। উইলিয়াম ও তার বন্ধু ম্যাগ হওরিহান মিলে প্যায়রা ল্যাবস নামে একটি প্রতিষ্ঠান দেন। যেখান থেকে তারা প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার তৈরি করেন। তাদের প্রথম কাজটি ছিল ‘ব্লগ’ টুলস নিয়ে। আগেই বলা হয়েছে উইলিয়ামসই প্রথম ‘ব্লগার’ শব্দটির উদ্ভাবক। ব্লগার শব্দটির মধ্য দিয়ে ব্লগ শব্দটি জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। উইলিয়ামস এমন এক প্লাটফর্ম তৈরি করেন, যা হাজারো ব্লগারকে একটি প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে পারে। আর যারা সেই প্লাটফর্মে আসবেন তাদের উইলিয়াম নাম দেন ব্লগার। চমত্কার এই আইডিয়া বাস্তবরূপ পেয়েছিল বলেই ব্লগার শব্দটি আজ এত জনপ্রিয়। ব্লগার ডট কম নামে এ প্লাটফর্মটি ইন্টারনেট জগতে আসে ১৯৯৯ সালে। উইলিয়ামস বিশ্বের ১০টি ওয়েবসাইটের উদ্ভাবক কিংবা আইডিয়া মেকার। তিনি একই সঙ্গে টুইটারের সিইও পদে কাজ করেছেন। তিনি ২০০৩ সালে এমআইটি টেকনোলজি রিভিউয়ে বিশ্বের সেরা ১০০ উদ্ভাবকের নামের তালিকায় চলে আসেন। এ ছাড়া ২০০৪ সালে পিসি ম্যাগাজিনের ‘পার্সন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছিলেন।
