মেসি-দর্শনে আপ্লুত ভক্ত

আপডেট : ১৭ মে ২০১৯, ২১:৫২

কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে কাতালোনিয়ার সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘ক্রু দে সান্ত জর্দি’ জিতলেন লিওনেল মেসি। বৃহস্পতিবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি

-ওয়েবসাইট

স্পোর্টস ডেস্ক

বার্সেলোনায় কোনো এক সকালে হাঁটতে বেরিয়ে যদি লিওনেল মেসির দেখা পেয়ে যান তবে নিজেকে ভাগ্যবান ভাববেন না? সান্তিয়াগো আলবেরিওনের ভাগ্যটা ঠিক তেমনই সুপ্রসন্ন ছিলো। তবে সাক্ষাতের সঙ্গে সঙ্গে উপরি পাওনা হিসেবে মিলেছে সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলারটির আলিঙ্গন ও স্বাক্ষরিত জার্সিও।

বৃহস্পতিবার সকালে কাতালোনিয়ার কাস্তেলদেফেলস এলাকায় হাঁটতে বেরিয়েছিলেন সান্তিয়াগো। একই সময়ে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন বার্সা অধিনায়কও। সেখানে আর্জেন্টাইন তারকার দেখা পেয়ে সান্তিয়াগো ছবি তোলেন এবং মেসির স্বাক্ষর করা বার্সেলোনার জার্সিও উপহার পান। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্ট লেখেন সান্তিয়াগো।

 মেসির সঙ্গে তোলা ছবি ও তার দেয়া জার্সির ছবি পোস্ট করে তার ক্যাপশনে সান্তিয়াগো লেখেন, ‘খেলোয়াড়টির উপর যার বিশ্বাস আছে তার জন্য একটা অবিস্মরণীয় দিন। যদি আপনি মেসি বিরোধী হন তবে আমি আশা করবো আপনি লেখাটি পড়ছেন না।’

তিনি আরো লেখেন, ‘আজ আমি আমার অন্যতম বড় স্বপ্নগুলোর একটি পূরণ করেছি। আমি লিওনেল আন্দ্রেস মেসির সাক্ষাত্ পেয়েছি। তার সঙ্গে ছবি তোলার সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার এবং তার দেয়া একটি উপহারও বাড়িতে নিয়ে এসেছি যা আমার জন্য ঐতিহাসিক। আমার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছিলো কাস্তেলদেফেলসে, সকাল নয়টার দিকে।’

 মেসিকে দেখার মুহূর্তটির বর্ণনা দিতে গিয়ে সান্তিয়াগো বলেন, ‘আমি দেখলাম একটা খাটো মানুষ তার বিদঘুটে শর্টস পরে রাস্তা পার হচ্ছিলো এবং আমি যেখানে ছিলাম সেদিকেই আসছিলো। এক মুহূর্তের জন্য আমার হূদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছিলো, গলা শুকিয়ে গিয়েছিলো। গলার স্বরও পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিলো, যখন আমি নিজেকে বলছিলাম, সে এসে গেছে, সে মেসিই!’

তিনি জানালেন, মেসিও তাকে ঠিকই লক্ষ্য করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এরপর আমি তার প্রতি অনেক সম্মান নিয়ে তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার আবদার করেছিলাম এবং তার ব্যক্তিগত সময়ে হানা দেয়ায় ক্ষমাও চেয়েছিলাম। সে হাসিমুখে আমাকে আশ্বস্ত করলো যে আমি তাকে বিরক্ত করছিলাম না। তারপর সে আমার জার্সিতে স্বাক্ষর করতে করতে জিজ্ঞেস করেছিলো যে আমি করদোবা থেকে কিনা। আমি পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলাম। জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি সত্যিই আমাকে দেখেছিলেন কিনা। তিনি হাসিমুখে জানান, ‘হ্যাঁ!’

বিদায়কালে মেসি শুভকামনাও জানিয়েছিলেন বলে জানান সান্তিয়াগো। তিনি বলেন, ‘তারপর আমি তাকে আবারো ধন্যবাদ দিয়ে, আবারো তাকে বিরক্ত করার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি হাসিমুখে আমাকে বলেছিলেন, ‘চিন্তা করো না, নিজের যত্ন নিও’ এবং আমাকে আলিঙ্গনে জড়িয়ে নিয়েছিলেন। এরপর তার সঙ্গে করমর্দন করে আমি ফিরেছিলাম। এটা কেবল ৬০ সেকেন্ডের মতো একটা ঘটনা ছিলো কিন্তু আমার মনে হয়েছিলো যেন অনন্তকাল!’

আর্জেন্টাইন সান্তিয়াগো জানান, ঘটনাটির পর তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি এরপর আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেছিলাম। আমি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়টির সাক্ষাত্ পেয়েছি। মেসির সঙ্গে দেখা করে আজ আমি আমার একটা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছি খুব কম মানুষই এটা বুঝবে। আজ আমি মহাবিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ। আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং আর্জেন্টাইন হবার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।’