গতকালের আজ প্রকাশ হলো শেষ পর্ব
(ছ) শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রযুক্তির ব্যবহারঃ জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ তে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি সকল ধারায় শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ থাকায় শ্রেণিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে সরকার অনেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া সরবরাহ করায় ঐসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে শ্রেণিতে পাঠ উপস্থাপন, পাঠ্যবস্তু প্রদর্শন ও প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।
(জ) জাতীয় দিবসসমূহে বিদ্যালয় খোলা রাখাঃ জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ তে জাতীয় দিবসসমূহ পালনে বিদ্যালয় খোলা রাখা এবং উক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান, দিবসের মর্মার্থ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন, কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান ইত্যাদির সুপারিশ করা হয়। এসব সুপারিশ শিক্ষার্থী-কেন্দ্রীক শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহারের পথ সুগম করবে।
(ঝ) জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর বিস্তর প্রশিক্ষণঃ সরকার নতুন শিক্ষাক্রমের সাথে শিক্ষকদের পরিচিতি ঘটানো এবং শিক্ষাক্রমের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি বিষয়ে দেশের সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত একজন করে শিক্ষককে ০৩(তিন) দিনের প্রশিক্ষণ প্রদানের এক ব্যাপকভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করে। উক্ত প্রশিক্ষণ কোর্স এ প্রশিক্ষণার্থীদের স্ব-স্ব বিষয়ের প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল সরবরাহ করার পাশাপাশি নিজ নিজ বিষয়ের শিক্ষাক্রম ডকুমেন্ট প্রদান করা হয়। এটাই বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসে প্রথম ঘটনা যে, শিক্ষকরা সরকারের কাছ থেকে সরাসরি নিজ পাঠদানকৃত বিষয়ের শিক্ষাক্রম ডকুমেন্ট লাভ করলো। এর আগে শুধু বিদ্যালয়ভিত্তিক একটি করে কারিকুলাম ডকুমেন্ট সরকার সরবরাহ করেছিল। ফলশ্রুতিতে শিক্ষকরা স্ব-স্ব বিষয়ের শিক্ষাক্রম ডকুমেন্ট পড়ে এর উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে এবং তা শ্রেণি কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্জনে তত্পর হবেন।
(ঞ) বিদ্যালয়ভিত্তিক নিজস্ব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনাঃ প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে নিজ বিদ্যালয়ের অপরাপর শিক্ষকদের (যারা প্রশিক্ষণ পায় নি) প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য IN HOUSE প্রশিক্ষণ কোর্স এর আয়োজন করার অবকাশ পাবেন।
এ যাবত আলোচনা থেকে এটা প্রতীয়মান হচ্ছে যে, জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের প্রদত্ত পঠন পাঠনের কাজটি অধিকতর গুরুত্বের দাবী রাখে। এ পঠন পাঠন তথা শিখন-শেখানোর কাজটি কিভাবে শিক্ষকরা করবেন তার অনেক নমুনা শিক্ষাক্রম ডকুমেন্ট এ সন্নিবেশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষদের নিজস্ব উদ্ভাবনে কোন বিশেষ শিখন-শেখানো পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ উম্মুক্ত রাখা হয়েছে। অর্থাত্ শিক্ষাক্রম-২০১২ এক্ষেত্রে নমনীয় প্রকৃতির। শ্রেণি কার্যক্রম শিক্ষার্থী বান্ধব করার জন্য পাঠ্যবইটি শিক্ষার্থী বান্ধব করার প্রতি জাতীয় শিক্ষাক্রমে জোর দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভৌত-অবকাঠামো ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ একটি সন্তোষজনক মানে উর্ণীত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই সব দিকগুলোর সঠিক সম্মিলন ঘটার উপরই নির্ভর করছে কার্যকর শিখন-শেখানো পদ্ধতি/কৌশল প্রয়োগ করে শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সাধন করা।
