পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা : সিইসি

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২১
পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতির প্রয়োজনে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করব। পূর্বেও এই ধরনের আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ব্যাপারে কমিশন কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। রবিবার শেরেবাংলা নগরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বরগুনা-২ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে এক বৈঠক শেষে তিনি এই কথা বলেন। আচরণবিধি নিয়ে সিইসি বলেন, আমাদের হাতে সময় আছে, তফসিলের আগে আমরা এটি তৈরি করবো। তিনি বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য আমরা কাজ করছি। এই ব্যাপারে অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে কিভাবে নির্বাচন হচ্ছে তা আমরা স্টাডি করছি। সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ নিবন্ধন পাওয়ার বিষয়ে সিইসি বলেন, বিএনএফের নিবন্ধন এখনো নিশ্চিত নয়। মাঠ পর্যায়ে বিএনএফের পর্যাপ্তসংখ্যক অফিস ও কর্মী আছে কি না তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আমরা যে তদন্ত করেছিলাম, বিএনএফ বলছে ওই তদন্ত সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়নি। তাদের এই অভিযোগ আমলে নিয়ে আমরা একটি কমিটি করে দিয়েছি। ওই কমিটিতে আমাদের নির্বাচন কমিশনের বাইরের লোকও আছে। যত দ্রুত ওই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া যাবে, তত দ্রুত বিএনএফের বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। এদিকে আগামী ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বরগুনা-২ আসনের উপ-নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি নেই জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা আশা করছি, সেখানে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। ভোটার উপস্থিতিও ভালো হবে বলে সিইসি আশা প্রকাশ করেন। সিইসি বলেন, উপ-নির্বাচনগুলো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে আমাদের করতে হয়। সরকারের শেষ সময় বলেও আমরা এই নির্বাচন উপেক্ষা করতে পারি না। সিইসি বলেন, বরগুনা-২ আসনের উপ-নির্বাচন উপলক্ষে আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে আলোচনা করেছি। বরাবরের মতো এবারও প্রতিটি কেন্দ্রে ২৭ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। বরগুনা নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সকলে কথা বলেছেন। আমরা আশা করছি, কোন প্রকার সমস্যা হবে না, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরগুনা এলাকায় দুইটি নদী রয়েছে এবং বর্ষাকাল হওয়ায় আমরা কোস্টগার্ডের উপর গুরুত্ব দিয়েছি। এছাড়া পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের পর্যাপ্ত পরিমাণ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, মোহাম্মদ আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী, মো. শাহ নেওয়াজ, ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিকসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। গত ২৬ জুলাই ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন বরগুনা-২ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলু। পাথরঘাটা, বেতাগী ও বামনা- এ তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ সংসদীয় আসনের ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৩১ হাজার তিনজন।