প্রস্তাবিত টেলিকমিউনিকেশন আইন ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য হুমকি

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২১
গতকাল রবিবার রাজধানীতে ‘আইসিটি অ্যাক্ট (অ্যামেন্ডমেন্ট) ২০১৩: চ্যালেঞ্জেস ফর রাইট টু প্রাইভেসি এন্ড ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, সংশোধিত আকারে প্রস্তাবিত এই আইন ব্যক্তিগত তথ্য গোপনীয়তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সুস্পষ্ট হুমকি। এর ফলে অনলাইনে ব্যাপকহারে নজরদারি বৃদ্ধি পাবে ও ব্যক্তির অগোচরে ব্যক্তিগত তথ্যে প্রস্তাবিত ধারার মাধ্যমে তথাকথিত আইনি হস্তক্ষেপ বাড়বে। সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এই আইন কোনোমতেই সংসদে পাস করা উচিত হবে না। জাতীয় প্রেসক্লাবে যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে উন্নয়ন ও গবেষণা সংগঠন ‘ভয়েস’ ও ইক্যুইটি বিডি, সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র), বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম, আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম, তথ্য অধিকার আন্দোলন ও অনলাইন নলেজ সেন্টার। ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, সামহোয়ার ইন ব্লগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুলশান ফেরদৌসি জানা, বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী প্রধান খায়রুজ্জামান কামাল, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক ও তথ্য অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক জাকির হোসেন ও ভয়েসের কর্মসূচি সংগঠক ফারজানা আক্তার প্রমুখ। মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনের নামে কোনোভাবেই অনলাইনে গণহারে নজরদারি করা যাবে না। এই ধরনের কার্যক্রম সমাজে এক ধরনের ভীতির সংস্কৃতি তৈরি করবে। সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এই আইন কোনোমতেই সংসদে পাস করা উচিত হবে না। ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, বর্তমান সংশোধিত টেলিকমিউনিকেশন আইন ব্যক্তিগত তথ্য গোপনীয়তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সুস্পষ্ট হুমকি। ফলে অনলাইনে ব্যাপকহারে নজরদারি বৃদ্ধি পাবে ও ব্যক্তির অগোচরে ব্যক্তিগত তথ্যে প্রস্তাবিত ধারার মাধ্যমে তথাকথিত আইনি হস্তক্ষেপ বাড়বে। আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর নিকট সীমাহীন ক্ষমতা থাকায় তাদের জবাবদিহিতা বিষয়টি কি হবে সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা নেই। তিনি ব্যক্তিগত তথ্য গোপনীয়তার বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান। গুলশান ফেরদৌসি জানা বলেন, ইন্টারনেটের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত নানাবিধ আইন ও সরকারি নজরদারির কারণে ব্যবহারকারীর মধ্যে ভয়ভীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে।