সাতক্ষীরার সফল পোনা চাষি কোরবান আলী

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২৩
সাতক্ষীরায় সাদা মাছের পোনা উত্পাদন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন পার কুখরালীর কোরবান আলী। সকল প্রকার সাদা মাছের চারা উত্পাদন করে ইতিমধ্যে তিনি এলাকার চাহিদা পূরণ করে বাইরেও পাঠাচ্ছেন। কম সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় সাতক্ষীরায় দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে মাছের পোনা উত্পাদন ব্যবসা। কোরবান আলী জানান, ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল ধনী হওয়ার। স্বপ্ন ছিল ধনী গৃহস্তদের মতোই তার থাকবে গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি লেখাপড়া বেশি করতে পারেননি। ২০০৫ সালে ছনকায় ৩ বিঘার একটি পুকুর লিজ নিয়ে তিনি মাছের পোনা উত্পাদন শুরু করেন। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা ওয়ান ব্যাংক থেকে ২ লক্ষ টাকা কৃষি ঋণ গ্রহণ করে পার কুখরালীতে ১৭ বিঘার বেশি ৯টি পুকুর লিজ নিয়ে বড় পরিসরে শুরু করেন সাদা মাছের পোনা উত্পাদন। এসব পুকুরে পোনা উত্পাদন করে সকল খরচ বাদে তার লাভ হয় প্রায় ৩ লাখ টাকা। যশোর থেকে এক কেজি মাছের ডিম প্রায় ৫ হাজার টাকায় কিনে প্রসেসিং করে পুকুরে একটু বড় করেই বিক্রি করে দেয়া হয়। পোনা বিক্রয়ের জন্য কোরবান আলীকে কোথাও যেতে হয় না। প্রতিদিন সাতক্ষীরা সদর, আশাশুনি, দেবহাটা, শ্যামনগর, কালীগঞ্জ, কলারোয়া, তালা, পাইকগাছা, কয়রা ও বাগেরহাটসহ দক্ষিণ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এসে মাছের পোনার জন্য বসে থাকে। সার্বক্ষণিক ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক মাছের পোনা পুকুর থেকে তুলে বিক্রয় করেন। প্রতিদিন গড়ে কয়েক মণ পোনা এখান থেকে ব্যবসায়ীরা নিয়ে যায়। কোরবান আলী মূলত কাতলা, মৃগেল, রুই, সিলভারকার্প, জাপানি, বাউশ, তেলাপিয়া, পুটি, গ্লাস কার্প, ব্ল্যাক কার্প মাছের পোনা উত্পাদন করে থাকেন। এসব মাছ অতিদ্রুত বড় হয় এবং বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় এসব মাছের পোনা বেশি বিক্রয় হয়। দামও পাওয়া যায় বেশি। বয়স এবং আকারভেদে প্রতি কেজি পোনা বিক্রয় হয় ১শ থেকে ৫শ টাকা দরে। এসব মাছে রোগবালাইও অনেক কম হয়। কোরবান আলী জানান, অধিকাংশ পুকুরে পোনা চাষ হলেও কিছু পুকুরে বড় মাছও উত্পাদন করা হয়। তিনি বলেন, মাছের পোনার ব্যবসা করে আজ আমি আর্থিকভাবে যথেষ্ট সচ্ছল। তবে এ ব্যবসায় পরিশ্রমও অনেক বেশি। পুকুরে সঠিক সময়ে সার, খৈল, পশু পাখির বিষ্ঠা, চুন, কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। বর্তমানে কোরবান আলী বাবা, মা, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বেশ ভালই আছেন।