ইত্তেফাক ডেস্ক
৫ হাজার বছর আগের একটি গণকবরের সন্ধান মিলেছে পোলান্ডে। পৃথিবীর অনেক জায়গাতেই হয়তো এই ধরনের গণকবর রয়েছে। কিন্তু পোল্যান্ডের এই গণকবরটিতে এমন ১৫ জন মানুষের কঙ্কাল খুঁজে পাওয়া গেছে যাদের প্রত্যেকেই একটি পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং এদের সবাই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। মূলত ওই ১৫ জনের কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষা, প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য, জেনেটিক গঠন, রেডিওকার্বন বয়স এবং আইসোটোপ কেন্দ্রিক পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা তাদের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এই ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন তিন প্রজন্মের সদস্য। কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষা থেকে ৫ হাজার বছর আগের একটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যের সম্পর্ক উদঘাটনের বিষয়টি নিয়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খ্রিস্টপূর্ব ২৮৮০ থেকে ২৭৭০ সালের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছিল। মৃত আত্মীদের মধ্যে আটজন পুরুষ এবং সাতজন ছিলেন নারী। আট বছর আগে পোল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গ্রামে এই গণকবরটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এরপর সেখানে খুঁজে পাওয়া হাড়গোড় এবং কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষায় নামেন বিজ্ঞানীরা। গত সপ্তাহে প্রোসেডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সাইন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফল থেকে জানা গেছে এই ট্র্যাজেডির ইতিহাস।
মৃত ব্যক্তিদের কঙ্কাল পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন তাদের প্রত্যেককে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল। অবাক করা বিষয়, এদের প্রত্যেকের মৃতদেহকে যত্নের সাথে উপহার সামগ্রী দিয়ে সমাহিত করা হয়েছিল। মূলত মৃতদের প্রতি এই ধরনের সম্মান দেখানোর কারণ খুঁজতে গিয়ে তারা তাদের মধ্যের এই সম্পর্কের বিষয়টি উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন। মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে জানা গেছে যে তারা ইন্দো-ইউরোপিয়ান গ্লুবোরা অ্যামফোরা সংস্কৃতির সদস্য।
গবেষণা দলের প্রধান এবং ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেনের বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানী মর্টেন অ্যালেনটফ বলেন, প্রাচীন এই কঙ্কালগুলোর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা তাদের মধ্যে সম্পর্কের মানচিত্রটি প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। দেখা গেছে মায়েদের পাশেই কবর দেয়া হয়েছিল তাদের সন্তানদের। ভাইদের কবর দেয়া হয়েছিল পাশাপাশি। তাদের অন্য আত্মীয়রাই হয়তো তাদের সমাহিত করেছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে ঘটেছিল এই বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ড তার কারণ উদঘাটন করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা। তবে তাদের ধারণা, ধন সম্পদ জাতীয় মূল্যবান কোনো কিছুর জন্যই হয়তো এই হত্যাকাণ্ড হয়েছিল।—সিএনএন
