ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ড এলাকার কয়েক কিলোমিটার সড়কে যানবাহন চলাচল নিত্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। হরতালে গাড়ি ভাংচুর ও নিত্য যানজট এই সড়কে চলাচলকারীদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে। হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। যানজটের কবলে পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকা পড়ছে পণ্যবাহী শত শত যানবাহন। এতে পণ্য পরিবহনে গাড়ির সংকটে পড়তে হচ্ছে। পরিবহন সংস্থাগুলো জানায়, চট্টগ্রাম শহরের প্রবেশমুখ সীতাকুন্ড এলাকা হরতাল পরবর্তী যানজট দুর্বিষহ করে তুলেছে। ভাঙাচোরা রাস্তা, সড়কের উপর দোকান ও হাট-বাজার যানজট বাড়িয়ে দিয়েছে। হরতালের সময় এই এলাকায় যানবাহন চলাচলে প্রচণ্ড বাধার মুখে পড়তে হয় চালকদের। হরতালের পর যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফৌজদারহাট থেকে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশ বার আউলিয়া ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল ইমতিয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, হরতালের আগে ও পরে সবচেয়ে বেশি যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ সময়ে একসাথে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এতে যানজট নিরসন দুরূহ হয়ে পড়ে।
বন্দর দিয়ে আমদানি করা পণ্য ও চট্টগ্রামে শিল্প-কারখানায় উত্পাদিত পণ্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, যানজটের কারণে পণ্য পরিবহনে সময় ক্ষেপণ ছাড়াও পরিবহন সংকটে পড়তে হয়। যথাসময়ে পণ্য পৌঁছানো যায় না। চট্টগ্রাম থেকে মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে থাকে। এ প্রসঙ্গে আন্তঃজেলা পরিবহন সংস্থা মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর আহমেদ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘মহাসড়কে নিত্য যানজট, চুরি ও ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। মহাসড়কে কোন নিরাপত্তা নেই। যানজটে গাড়ি আটকা পড়ায় যানবাহন সংকট দেখা দিচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। সীতাকুন্ড ও চৌদ্দগ্রামে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে।
চট্টগ্রামে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ পণ্য মজুদের গুদাম রয়েছে। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বিক্রেতারা জানান, হরতালের সময়েও পণ্য বেচাকেনা হয়েছে। কিন্তু পরিবহন সংকটে সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। এখন আবার সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় গাড়ি সংকটে পড়তে হচ্ছে। বিক্রিত পণ্য গুদামে পড়ে রয়েছে।
