ধানমন্ডি’র আনাম র্যাংগস প্লাজাতে শুরু, এরপর থেকেই ভিন্নধর্মী ডিজাইন দিয়ে পেয়েছে আলাদা পরিচিতি। উদ্যোক্তা ও ডিজাইনার জাভেদ কামালের হাত ধরেই আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যকে লালন করার প্রয়াসে চরকার পথ চলা। দেশীয় অনুষঙ্গ তো বটেই, আমাদের দেশীয় কৃষ্টি কালচারের একখণ্ড প্রতিরূপ যেন চরকা, এ যেন বাঙালির নিজ হাতের বুনন। সম্প্রতি চরকার ধানমন্ডি অরচার্ড পয়েন্ট শো-রুম ঘুরে এসেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র, ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
চলন্ত সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় উঠতেই শুরুতে চরকা। বেশ খানিকটা জায়গাজুড়ে তাদের পসরা সাজানো। এক কোণে পাঞ্জাবির সমারোহ, অন্যদিকটায় মেয়েদের নানা রকম পোশাক। ফ্যাশনের প্রয়োজনে যখন যেটার কদর এসেছে, চরকা সেটাই নিয়ে এসেছে বাঙালির জন্য। হাফহাতা অনেক শার্টও রয়েছে চরকায়, রয়েছে শেরওয়ানি সেটও। টি-শার্ট পাবেন কিছু, সেগুলোর ডিজাইনও বেশ যত্ন নিয়ে করা হয়েছে।
আর ফ্যাশন সচেতন মেয়েদের জন্য চরকা প্রথম পছন্দ, যারা বাঙালিয়ানার সাজে নিজেকে রাঙাতে চান। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, আনস্টিচ থ্রি পিসের বিশাল সমারোহ চরকাতে। রয়েছে গজ কাপড়। বাটিকের এই গজ কাপড় দিয়ে আপনি তৈরি করে নিতে পারেন পছন্দমতো নিজের পোশাক। এক কোণে দেখা গেল মেয়েদের কুর্তা। গেল কিছুদিন কুর্তায় স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পেয়েছে তরুণীরা। চরকা ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার জাভেদ কামাল বলেন, ‘আমাদের ফ্যাশন ভাবনায় এখন যুক্ত হয়েছে নানা অনুষঙ্গ। ছেলে-মেয়ে উভয়ের ফ্যাশনেই এসেছে নিত্যনতুন চিন্তার ছোঁয়া।’ ছেলেদের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে গত কয়েক বছর ধরে ফতুয়া এবং টি-শার্টের মতো পোশাকগুলোর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। মেয়েরা ইদানীং টপস, ফতুয়ার পাশাপাশি কুর্তির প্রতিও বেশ আকৃষ্ট হয়েছে। জাভেদ জানান, ‘কুর্তি হচ্ছে ফতুয়ার আধুনিক রূপ। এটি ভারতীয় একটি ডিজাইন। এককথায় বলা যায়, কুর্তি দেখতে পাঞ্জাবির মতো কিন্তু লম্বায় কোমরের একটু নিচে এবং এতে কোনো পকেটের ব্যবহার থাকবে না। এসব পোশাক বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুতি কাপড় দিয়ে তৈরি হয় বলে এই গরমে বেশ আরামদায়ক।’
বাচ্চাদের জন্য পাঞ্জাবি, ফ্রক, কামিজের কিছু সংগ্রহ রয়েছে, প্রিয় সোনামণির জন্য পছন্দ হয়ে যেতে পারে কোনো পোশাক। চরকার বাহারি ঘরোয়া সামগ্রীগুলোর মধ্যে আপনি পাবেন নানা রকম ল্যাম্পশেড, হরেক রকমের কুশন, পটারি, কার্পেট শতরঞ্চি, আয়না। আরও রয়েছে বিছানার চাদর, নকশীকাঁথার বিপুল সমারোহ।
