গরমে যেমন

হতে পারে ডায়েট চার্ট

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৩২
ভাদ্রে গরমের প্রকোপ নতুন করে বলার কিছু নেই। এ সময়ে বেশি বেশি পানির পিপাসা লাগে। আর চেহারার মাঝে তৈলাক্ততা দেখা যায়। অল্পতেই যেন শরীরটা দুর্বল হয়ে পড়ে। কেননা গরমে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। ফলে পানিশূন্যতা, ক্লান্তিভাবসহ এ সময় হজম শক্তিও কিছুটা কমে যায়। তাই অল্প কিছু খেলেও পেটে অস্বস্তি আর বদহজমের সমস্যা দেখা দেয়। এ অস্বস্তিকর অবস্থা এড়িয়ে চলতে আসছে গরমের প্রস্তুতি হিসেবে আপনার ডায়েট চার্টটি কেমন হওয়া উচিত তা জেনে নিই— সুস্থ থাকতে সচেতনতার বিকল্প নেই। গরমে সব বয়সের মানুষেরই হজমশক্তি কিছুটা কমে যায়। তাই এ সময় কম মসলায় রান্না ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া উচিত। চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া ভালো। পুরোতেলে ভাজা খাবার একেবারেই বাদ। রিচ ফুড বা বাইরের কেনা খাবার না খাওয়াই ভালো। পরোটা-কাবাব যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। খুব বেশি চা, কফি পান করা উচিত নয়। করতে চাইলে লিকার চা পান করুন। খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনুন গরমে সুস্থ থাকতে খাদ্য তালিকায় কিছু পরিবর্তন আনুন। তেল-মসলা দেওয়া ভুনা খাবারের বদলে কম মসলার ঝোল-তরকারি রাখুন খাদ্য তালিকায়। এ সময় মাংস না খাওয়াই ভালো। খেতে চাইলে মুরগির পাতলা ঝোল খেতে পারেন। তবে গরুর মাংস একেবারেই বাদ। খাদ্য তালিকায় সকালে রুটি, সবজি, ডিম ও ফল রাখুন। সকাল ও দুপুরের মধ্যে শিঙাড়া বা সমুচার বদলে সবজির স্যুপ বা বিস্কুট, সঙ্গে একটা মৌসুমি ফল খান। দুপুরে কম মসলার তরকারি, মাছ, ডাল ও সালাদ খান। বিকেলে দই, চিড়া, দুধ-মুড়ি, স্যুপ, সেমাই, ফালুদা খেতে পারেন। রাতেও দুপুরের মতো মেন্যু থাকবে, তবে পরিমাণে কিছু কম খান। ঘামের কারণে পানিশূন্যতা পূরণের জন্য রসালো ফল, যেমন—তরমুজ, ডাবের পানি, শসা, পেঁপে, বাঙ্গি বেশি করে খান। বাঁধাকপি, ঢেঁড়স, কুমড়া, লাউয়ের মতো সবজিতে পানির পরিমাণ বেশি। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় তাই এসব সবজি রাখুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন এ সময় দিনে আড়াই থেকে তিন লিটার পানি ও পানিজাতীয় খাবার খান। শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি বেরিয়ে যায়, তা পূরণের জন্য পানি, শরবত বা জুস পান করা দরকার। মিল্কশেক, চিনি-লেবুর শরবত, দইয়ের লাচ্ছি, ডাবের পানি, তাজা ফলের জুস খেতে পারেন। এতে পানিশূন্যতা থেকে রেহাই পাবেন। কোল্ড ড্রিংকস একেবারেই বাদ। তার বদলে গ্লুকোজ পানি পান করতে পারেন। আরও কিছু টিপস প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১২ গ্লাস পানি পান করুন। কোল্ড ড্রিংকস যতটা সম্ভব কম খাবেন। পালং শাক, চিজ, আম, কুমড়া এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ রয়েছে। যা গরমে বেশ উপকারী। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ আঙুর এ সময় বেশি উপকারী। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার কম খাবেন। তবে একেবারে বন্ধ করবেন না। তৈলাক্ত মাছ, সয়াবিন তেল খেতে পারেন। এ ছাড়াও আপনি প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় শসা, গাজর রাখতে পারেন। পাশাপাশি লেবুর শরবত, কমলালেবুর শরবত এবং কচি ডাবের পানি পান করতে পারেন। যা আপনার শরীর-মন দুটোকেই রাখবে সতেজ। আর ত্বকে ফিরে আসবে তারুণ্য আর লাবণ্য।