তামিম-রাজশাহী বিতর্কে নতুন মোড়

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৩১
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) বিভিন্ন দলের বিপক্ষে টাকা বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ খেলোয়াড়দের নতুন কিছু নয়। সে সব অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিজেই জামিনদার হিসেবে আবির্ভূত হয়ে কিছু কিছু পাওনা পরিশোধ করছে। তারপরও তৈরি হচ্ছে অভিনব সব সমস্যা। আর এরকমই এক সমস্যায় পড়ে বিপিএল দল দুরন্ত রাজশাহীর কাছ থেকে পাওনা আদায়ে এবার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকেই চিঠি দিয়েছেন জাতীয় দলের ওপেনার তামিম ইকবাল। বিপিএল গত আসরে নিজের পাওনার ৫০ শতাংশ বুঝে পেয়েছেন তামিম। কিন্তু মুশকিলটা হয়েছে ‘বিনা অনুমতিতে বিদেশ ভ্রমণ’ করার অপরাধে তামিমকে আর কোনো টাকা দিতে রাজী নয় দুরন্ত রাজশাহী কর্তৃপক্ষ। আর এখানেই গোলমালটা লেগেছে। তামিম বলছেন, তিনি মোটেও বিনা অনুমতিতে বিদেশে যাননি। ইনজুরিতে মাঠের বাইরে থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়েই তিনি বিদেশে গিয়েছেন বলে দাবি করছেন। আর দাবিতে রবিবার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহার বরাবর চিঠি দেয়ার কথা তামিম ইকবাল নিজেই স্বীকার করেছেন। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে তামিম বলেছেন, ‘আমি এটা আগেও বলেছি, এখনও বলছি, আমি অনুমতি না নিয়ে বিদেশে যাইনি। সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে বলে গিয়েছি আমি।’ আর তামিমের দাবি গতকালও সরাসরি অস্বীকার করেছেন দুরন্ত রাজশাহীর মালিক মুশফিকুর রহিম মোহন। তিনি পরিষ্কার বলেছেন, তামিম কোনো রকম আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক অনুমতি না নিয়েই বিদেশ সফরে গেছেন। বিপিএলকে দেয়া চিঠিতে তামিম ইকবাল বলেছেন, তিনি দুরন্ত রাজশাহীর ১৩টি ম্যাচের মধ্যে ১০টি ম্যাচেই খেলেছেন। তিনটি ম্যাচ মিস করেছেন বাঁ হাতের কবজির ইনজুরিতে। সে সময় বিসিবির পক্ষ থেকেই দুরন্ত রাজশাহীকে অনুরোধ করা হয়, ইনজুরিতে পড়া তামিমকে না খেলানোর জন্য। পরে তামিম এই ইনজুরিতে বাংলাদেশের গল টেস্টও মিস করেছেন। তামিমের ভাষ্য অনুযায়ী, ইনজুরির পরপরই তিনি দুরন্ত রাজশাহীর মালিক মুশফিকুর রহমান মোহন, বোর্ড প্রেসিডেন্ট, দলের কোচ খালেদ মাসুদকে জানিয়েছেন। পরে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বসেও তিনি দল মালিক মুশফিকুর রহমানকে জানিয়েছেন এ কথা। এরপর তিনি চট্টগ্রাম চলে গেছেন ছুটি পেয়ে। তামিম বলেছেন, তারও চার-পাঁচ দিন পর তিনি বিদেশে গেছেন। এর প্রতিটি কথার পক্ষে প্রমাণ আছে, দাবি করে তামিম ইকবাল বলেছেন, ‘আমি ইনজুরিতে পড়ার পরপর চট্টগ্রাম গেছি। এরও চার-পাঁচ দিন পর বিদেশে গেছি। বোর্ড প্রেসিডেন্ট নিজে এসব জানেন, মেডিক্যাল স্ট্যাফদের কাছে লিখিত প্রমাণ আছে। এই ইনজুরিতে পড়ে আমি গল টেস্টে খেলতে পারিনি। এরপরও উনি এসব কথা কিভাবে বলেন!’ মুশফিকুরের যে কথা নিয়ে আপত্তি তামিমের, তা বেশ পুরোনো। দুরন্ত রাজশাহীর মালিক মুশফিকুর রহমান অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন, তামিম অনুমতি নিয়ে যাননি বলে তিনি পুরো টাকা দিতে আপত্তি করেছেন। গতকালও ফোনে মুশফিকুর পরিষ্কার দাবি করলেন, ‘আমি আবারও বলছি, সে অফিসিয়ালি কাউকে তার বিদেশ যাওয়ার কথা জানায়নি। এমনকি আনঅফিসিয়ালিও ব্যাপারটা জানায়নি সে।’ এদিকে দুরন্ত রাজশাহীর বিপক্ষে কম টাকা দেয়ার ‘অভিযোগ’ ক্রিকইনফোর কাছেই করেছেন জাতীয় দলের অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান। তিনি বলেছেন, ভালো পারফরম করতে না পারায় তার পাওনা ১ লাখ ৩৭ হাজার ডলার পুরোটা না দিয়ে ‘আপোষ’ করতে বলেছে মালিকপক্ষ। এ ব্যাপার মুশফিকুর অস্বীকার করলেন না। তিনি বললেন, ‘পারফরম করতে না পারা অনেকের সঙ্গেই এরকম সমঝোতা করা হয়। কিন্তু এটা আমি প্রস্তাব দিয়েছি। আমি বলেছি, ১ লাখ ৩৭ হাজার ডলারের জায়গায় ১ লাখ ডলার দেই। এটা কী খুব অন্যায় প্রস্তাব?’