ডেভিড ময়েস এবং ম্যানুয়েল পেলিগ্রিনি দুজনের জন্যই এটি ছিল প্রথম ম্যানচেস্টার ‘ডার্বি’। তবে সেই উত্তেজনায় জল ঢেলে বহুল আলোচিত এই ম্যাচকে নিতান্ত একপেশে লড়াইয়ে পরিণত করে ফেললো পেলিগ্রিনির শিষ্যরা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয়ার পর সিটি কোচ নিজেই বললেন, ইউনাইটেডের এমন আত্মসমর্পণ তাকে বিস্মিতই করেছে। রবিবার রাতে ইত্তেহাদ স্টেডিয়ামে সার্জিও আগুয়েরোর জোড়া গোল এবং ইয়াইয়া তোরে ও সামির নাসরির এক গোলে বিশাল এই জয় পেয়েছে সিটি। ইউনাইটেডের পক্ষে ওয়েইন রুনির একমাত্র গোল মান বাঁচাতেও পারেনি। সোয়ানসি সিটিকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে মৌসুম শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই নিজেদের মাঠে চেলসির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এরপর অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের সাথে ১-০ গোলে হার! বোঝাই যাচ্ছে অ্যালেক্স ফার্গুসন উত্তর যুগে রেড ডেভিলদের প্রিমিয়ার লিগ যাত্রাটা মসৃন হয়নি মোটেই। কিন্তু তাই বলে নগর প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে ৪-১ গোলে হারটা নিশ্চয়ই কেউ কল্পনা করেনি।
ম্যাচের এমন ফলে বিস্মিত খোদ সিটি কোচ পেলগ্রিনিই। তবে এখানে প্রতিপক্ষের বাজে পারফরম্যান্সের চাইতে নিজেদের সাফল্যকেই বড় করে দেখতে চাইছেন তিনি। ম্যাচ শেষে এই চিলিয়ান বলেন, ‘এটা ছিল দুর্দান্ত একটি ফলাফল। স্বাভাবিকভাবে আপনি কখনোই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলে হারানোর কথা ভাববেন না। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে আমরা যেভাবে খেলেছি তাতে আমি দারুণ সন্তুষ্ট।’
ডার্বি ম্যাচের আমেজটা যে এই ম্যাচে মোটেই উপস্থিত ছিল না সাবেক মালাগা কোচ স্বীকার করেছেন সেটাও, ‘সাধারণত আমরা ডার্বি ম্যাচগুলোতে প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ একটা অবস্থাই দেখে থাকি। তবে আজকের দিনটি (গত রোববার) ছিল শুধুই আমাদের। আমরা খুব বেশি আক্রমণাত্মক খেলেছি বলেই হয়তো ইউনাইটেড আমাদের কাছে পাত্তা পায়নি। বল দখলের দিক থেকেও আমরা এগিয়ে ছিলাম এবং ম্যাচের শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল মাঠে জায়গা করে নেয়া। রক্ষণেও আমরা তাদের কোন সুযোগ দেইনি।’
এদিকে এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো নগর দ্বৈরথে হারার পর ইউনাইটেড কোচ ময়েসও দেখাতে চাননি কোন অজুহাত। মাঠের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে ময়েস শুধু তার হতাশার কথাই বললেন। এভারটনের হয়ে ১১ বছরে একবারও লিভারপুলের বিরুদ্ধে মার্সিসাইড ডার্বি জিততে না পারা এক স্কট বলেন, ‘প্রত্যেকেরই খারাপ দিন যায়। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। এভারটনের হয়ে আমি বহুবার সেখানে (সিটির মাঠে) গিয়েছি। কিন্তু এমন বাজে ফল নিয়ে আমাকে কখনোই মাঠ ছাড়তে হয়নি।’ মাঠে তার দল ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দিতাই গড়তে পারেনি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথমার্ধে তারা আমাদের চেয়ে সব জায়গাতেই এগিয়ে ছিল। তবে বায়ার লেভারকুজেনের বিরুদ্ধে ঐ জয়ের পর (৪-২ গোলে) আমাদের এমন ফলাফলের কোন কারণই ছিল না।’
রবিন ফন পার্সির ইনজুরি খেলার আগেই মানসিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে দেয় সফরকারিদের। খেলার বয়স যখন ১৬ মিনিট তখন সার্জিও অ্যাগুয়েরোর গোলে মাঠের লড়াইয়েও তারা পিছিয়ে পরে শুরুতেই। এরপর সামির নাসরির কর্নারের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দলকে আরো এগিয়ে দেন ইয়া তোরে। প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়া সিটি দ্বিতীয়ার্ধের পাঁচ মিনিটের মধ্যে অ্যাগুয়েরো এবং নাসরির কল্যাণে পেয়ে যায় আরো দুই গোল। খেলার শেষ দিকে ফ্রি কিক থেকে ইউনাইটেডের পক্ষে সমতাসূচক গোলটি করেন ওয়েইন রুনি।
রোববারের ফলাফল
আর্সেনাল ৩-১ স্টোক সিটি
ক্রিস্টাল প্যালেস ০-২ সোয়ানসি সিটি
কার্ডিফ সিটি ০-১ টটেনহ্যাম হটস্পার
ম্যানচেস্টার সিটি ৪-১ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
