কালের সাক্ষী নোয়াখালীর কল্যান্দি জমিদার বাড়ি

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:০৯
এক সময়ের দোদন্ড প্রতাপশালী জমিদার বাড়ি কালের বিবর্তনে জরাজীর্ন অবস্থায় কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে। জেলার সেনবাগ উপজেলাধীন কল্যান্দি গ্রামে অবস্থিত রায় চৌধুরী জমিদার বাড়ি। জমিদারদের প্রতিষ্ঠিত অনেকগুলো হাট বাজার, প্রতিষ্ঠানে তাদের নাম নিশানা নেই। দখল হয়ে যাচ্ছে তাদের নিজস্ব মালিকীয় সম্পত্তিগুলোও। কল্যান্দি জমিদারের বংশধর দ্বীনেশ রায় চৌধুরীর সাথে আলাপ করে জানা যায়, দুই শতাধিক বছর পূর্বে রামেন্দ্র রায় চৌধুরী ও কাঙালী রায় চৌধুরী ২০ একর ভূমির ওপর জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। পর্যায়ক্রমে তারা ১৯টি তালুকের অধিকারি হন। প্রজা শাসনের পাশাপাশি জনকল্যানে প্রতিষ্টা করেন মোহাম্মদপুর রামেন্দ্র মডেল হাই স্কুল, হরিহর চ্যারিটেবল ডিসপেনসারি, হরি মন্দির, দোল মন্দির, তুলসী মন্দির, মিলন মন্দির , কল্যান্দি সর্বজনীন পূজা মন্দির, শাহাজীর হাট, কল্যান্দি বাজার, বৈরাগির হাট, ছমির মুন্সির হাট প্রর্ভতি। এছাড়া জমিদার রামেন্দ্র রায় চৌধুরী নোয়াখালী পুরাতন শহরে রামেন্দ্র প্রেস নামে ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এ সব কর্মকান্ডের ফলে ব্রিটিশ সরকার রায় বাহাদুর উপাধি দিয়েছিল। জমিদারের প্রতিষ্ঠিত এ সব প্রতিষ্ঠানে জমিদারদের কোন নাম নিশানা পর্যন্ত নেই। আট একর রায়তি ভূমির ওপর হরিহর চ্যারিটেবল ডিসফেনচারি প্রতিষ্ঠা করা হলেও বর্তমানে এক একর ভূমিও নেই। জাল দলিল, জবর দখল করে প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে। দ্বীনেশ রায় চৌধুরী জানান, জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর বিষয় সম্পত্তি সরকারি সম্পত্তি হিসাবে গন্য হলেও নিজস্ব চাষের জমি ১০ একরের অধিক ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় জমিদারের ভবনের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে দরজা জানালা সব নিয়ে গেছে। এখন চলছে জাল দলিল ও জবর দখলের পালা। চারিদিক থেকে জোর করে দখল করে নিচ্ছে। বাধা দেওয়ার সাহস নেই। জমিদারের বংশধরদের অনেকেই মারা গেছে, অনেকেই ভারতে স্থায়ীভাবে বাস করছে। নানা প্রতিকুলতার সাথে লড়াই করে পূর্বপুরুষদের ভিটায় শেষ জীবন কাটানোর আশায় জমিদারের স্মৃতি বুকে ধরে রেখেছে।