বৃক্ষরাজিতে ভরপুর চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী বনাঞ্চল

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩২
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ জুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। সৃজিত ও প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বেসুমার বৃক্ষরাজিতে ভরপুর হয়ে উঠেছে রেঞ্জের অধীন পাঁচ বন বিটের সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা বন বিভাগের দৃষ্টিনন্দন বনাঞ্চল এখন পর্যটক-দর্শনার্থীদের কাছে বিনোদনের বাড়তি আকর্ষণ হিসাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনেকে গাড়ি থামিয়ে সড়কের পাশের নির্জন বনাঞ্চলে খানিকক্ষণের জন্য প্রকৃতির অপার স্বাদ নিচ্ছেন। বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বনাঞ্চলের এসব বৃক্ষরাজি নির্ধারিত সময়ে কাটার পর বিক্রি করা হলে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারবে। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. আসলাম মজুমদার বলেন, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে বন বিট রয়েছে পাঁচটি। বনাঞ্চলের আয়তন রয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার (৩৩ হাজার ৭৫০ একর) হেক্টর। এ বনাঞ্চলে স্বাধীনতার আগে ১৯৫২-৫৩ সাল থেকে শুরু করে এখনও অব্যাহত রয়েছে বাগান সৃজনের কাজ। একইসাথে চলছে বনাঞ্চলের মূল্যবান বৃক্ষরাজি রক্ষায় বনকর্মীদের প্রাণপণ প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে পাঁচটি বন বিট থাকলেও ডুলাহাজারা, মানিকপুর ও রিংভং বন বিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে রয়েছে বেসুমার বৃক্ষরাজি। অন্য দুটি বিটে তুলনামূলক একটু কম রয়েছে গাছপালা। এসব বনাঞ্চলের মধ্যে রিংভং ও ডুলাহাজারা বিটের বনাঞ্চল কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক লাগোয়া হওয়ায় দিন দিন বেড়ে উঠা গাছপালা দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে। গাছ-গাছালিতে ভরপুর এসব বনাঞ্চল দেখে এখন যে কারো মনে আনন্দ দেখা দেবে। এসিএফ আসলাম মজুমদার বলেন, অনেক সময় দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার বেড়াতে যাওয়ার পথে পর্যটক-দর্শনার্থীরা গাড়ি থামিয়ে খানিকক্ষণ যাত্রাবিরতি করে বনাঞ্চলের সৌন্দর্য ও প্রকৃতির স্বাদ উপভোগ করেন। অনেকে আবার সবুজ অরণ্যকে সাক্ষী করে ক্যামেরাবন্দী করেন নিজের ও পরিজনের ছবি। ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরাফত আলী বলেন, রেঞ্জের সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর বনাঞ্চলে এখন বেসুমার ছোট-বড় বৃক্ষরাজি রয়েছে। এসব বৃক্ষরাজির মধ্যে সেগুন, গর্জন, ঢাকিজাম, আগর, আকাশমণি অন্যতম। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এসব বৃক্ষরাজি সরকার নির্ধারিত সময়ে বিক্রি করে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারবে। তিনি বলেন, বিপুল বনাঞ্চল ও বৃক্ষরাজি দেখভালে রেঞ্জের অধীন পাঁচ বন বিটে ৫০ জনের অধিক জনবল প্রয়োজন থাকলেও কর্মরত রয়েছে মাত্র ২২ জন। রেঞ্জ কর্মকর্তা জনবল স্বল্পতার ব্যাপারটি নাকচ করে বলেন, তিনি ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর এখানে যোগদানের পর বনাঞ্চলের মূল্যবান বৃক্ষরাজি নিধন ও বনভূমি দখল চেষ্টা ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছেন। অভিযান চালাতে গিয়ে বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উল্টো হামলার শিকার হয়েছেন। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. শাহ-ই-আলম বলেন, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের বনাঞ্চলের বৃক্ষসমৃদ্ধ বাগানসমূহ পুরো বন বিভাগের জন্য একটি রোল মডেল। বনাঞ্চলের মূল্যবান বৃক্ষরাজি নিধন ও বনভূমির দখল ঠেকাতে বনকর্মীরা তত্পর।