আবার হারলো কলাবাগান!

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২৩
এই শঙ্কাটাই ছিল। দলবদলে বড় বড় নাম দলে ভিড়িয়েও নানা চক্রে সেই কলাবাগান ক্রীড়াচক্র এখন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের তলানির দিকে চলে গেছে। গতকাল ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে তৃতীয় হারের মুখ দেখল কলাবাগান! কাল দিনটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাউন্সিলরশিপ নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত রইল ক্রিকেটাঙ্গন। এরই মাঝে ঢাকা ও আশপাশের তিনটি ভেন্যুতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের যে তিনটি ম্যাচ হল, তার মধ্যে অঘটন বলতে এই কলাবাগানের ৮৫ রানের হার। এদিকে বিকেএসপিতে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকা ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে ৫ উইকেটে অনেকটাই একপেশে জয় পেয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর। দিনের অন্য ম্যাচে অনুমিতভাবে সিসিএসের বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে গাজী ট্যাংক। ভিক্টোরিয়া-কলাবাগান টসে জিতে ভিক্টোরিয়ার অধিনায়ক নাসির হোসেন কলাবাগানকে ব্যাট করতে পাঠান। ব্যাটে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে কলাবাগান। ৪৪ রান তুলতেই ২ উইকেট হারায় তারা। এর পর জুটি বাঁধেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আমানুল হক এবং শালিকা করুনানায়েক। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা ৯২ রান যোগ করেন। আমানুল তিনটি চার এবং তিনটি ছয়ের সাহায্যে ৭০ রান সংগ্রহ করে সাজঘরে ফেরেন। এরপর স্কোর বোর্ডে দলীয় ১১ রান যোগ হতেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন শালিকা করুনানায়েক। তিনিও নিজের নামের পাশে ৭০ রান যোগ করেন। তবে আমানুল হকের থেকে তিনি একটু মারমুখী ছিলেন। ৭৯ বলে চারটি চার এবং তিনটি ছয়ের সাহায্যে তিনি এই রান সংগ্রহ করেন। এই দুজনের বিদায়ের পর আর কোনো ব্যাটসম্যানই ক্রিজে স্থায়ী ঠিকানা গাড়তে পারেননি। ৪৮.৪ ওভারে ২৩১ রানে গুটিয়ে যায় ভিক্টোরিয়ার ইনিংস। জিহান মুবারক ৩৮ রান দিয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া ফরহাদ হোসেন, সিন্থাখা ডি সিলভা এবং সৈয়দ রাসেল প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় কলাবাগান কেসি। এর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিতে থাকেন ভিক্টোরিয়ার বোলাররা। ২৩২ রানের লক্ষ্য খুব একটা বড়ো না হলেও কলাবাগানের ব্যাটসম্যানদের কেউ-ই ক্রিজে সুবিধা করতে না পারায় সেটাকেও অনেক বড়ো মনে হতে থাকে এক সময়। কলাবাগানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৪ রান সংগ্রহ করেন তাসামুল হক। ৪৬.৫ ওভারে দলীয় ১৪৬ রান তুলতেই অল আউট হয়ে যায় কলাবাগান। ফলে ৮৫ রানের বড়ো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভিক্টোরিয়া এসসি। এদিন ভিক্টোরিয়ার বোলারদের প্রায় সকলেই সফল ছিলেন। এনামুল হক এবং নাসির হোসেন তিনটি করে এবং মনির হোসেন ও মিলিন্ডা শ্রীবর্ধনে দুটি করে উইকেট শিকার করেন। প্রাইম ব্যাংক-প্রাইম দোলেশ্বর টসে জিতে প্রাইম দোলেশ্বরের অধিনায়ক ফরহাদ রেজা প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তার এই সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল তা প্রমাণ করেন তার দলের বোলাররা। প্রাইম ব্যাংক তিন রান তুলতেই এক উইকেট হারায়। এরপর নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে প্রাইম ব্যাংক। তবে উদ্বোধনী জুটিতে মাঠে নামা সৈকত আলী এবং চার নম্বরে ব্যাটে নামা লাহিরু থিরিমান্নে তৃতীয় জুটিতে ৮৬ রান যোগ করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ব্যক্তিগত ৫২ রানে সৈকত আলী এবং ৫১ রানে লাহিরু থিরিমান্নে প্যাভিলিয়নের পথ ধরার পর তৈয়বুর পারভেজ ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই সুবিধা করতে পারেননি। ১৮২ রান তুলতেই প্রাইম ব্যাংকের ইনিংস গুটিয়ে যায়। সোহাগ গাজী এবং তিলকারত্নে সাম্পাথ তিনটি করে উইকেট তুলে নেন। এছাড়া প্রাইম দোলেশ্বরের সব বোলারই সফল ছিলেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৫ ওভার চার বলেই লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে ফেলে প্রাইম দোলেশ্বর। রোশন সিলভা অপরাজিত থেকে সর্বোচ্চ ৬৩ রান সংগ্রহ করেন। গাজী ট্যাংক-সিসিএস শুরুতে হোঁচট খেলেও ৫০ ওভার শেষে স্কোর বোর্ডে ২৫৫ রান জড়ো করেন সিসিএসের ব্যাটসম্যানরা। ক্রিকেট কোচিংয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৩ রান সংগ্রহ করেন সালমান। এছাড়া জিহান রূপাসাংঘে ৫৫ এবং অমিত মজুমদার ৩৭ রান সংগ্রহ করেন। আরাফাত সানি সর্বোচ্চ ৩টি এবং রুবেল হোসেন দুটি উইকেট সংগ্রহ করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৬ রানেই দুই উইকেট হারায় গাজী ট্যাংক। তৃতীয় উইকেট জুটিতে স্কট স্টাইরিস এবং ইমরুল কায়েস ১২২ রান যোগ করেন। ইমরুল ৫৪ এবং স্টাইরিস ১০২ রানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরার আগে দলের জয় অনেকটা সহজ করে দিয়ে যান। এরপর পাঁচ নম্বরে ব্যাটে নামা রাকিবুল হাসান করেছেন বাকি কাজটুকু। রাকিবুল ৫১ বলে ৫৮ রান সংগ্রহ করে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে ছিলেন। পাঁচ উইকেট এবং পাঁচ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় গাজী ট্যাংক। আসিফ আহমেদ দুটি উইকেট তুলে নেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর ভিক্টোরিয়া - কলাবাগান ভিক্টোরিয়া : ৪৮.৪ ওভারে ২৩১/১০ (আমানুল হক ৭০, শালিকা করুনানায়েক ৭০। জিহান মুবারক ৩/৩৮, ফরহাদ হোসেন ২/১৪)। কলাবাগান : ৪৬.৫ ওভারে ১৪৬/১০ (তাসামুল হক ৩৪, মাহাবুবুল করিম ২৬। এনামুল হক ৩/২০, নাসির হোসেন ৩/২১)। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ : শালিকা করুনানায়েক। ভিক্টোরিয়া এসসি ৮৫ রানে জয়ী। গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স - সিসিএস সিসিএস : ৫০ ওভারে ২৫৫/৭ (সালমান ৭৩, জিহান রূপাসাংঘে ৫৫। আরাফাত সানি ৩/৫০, রুবেল হোসেন ২/৪৫। গাজী ট্যাংক : ৪৯.১ ওভারে ২৫৯/৫ (স্কট স্টাইরিস ১০২, রাকিবুল হাসান ৫৮*, ইমরুল কায়েস ৫৪। আসিফ আহমেদ ২/৪৭, থিলান তুসারা ১/৪৯)। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ : স্কট স্টাইরিস। গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স ৫ উইকেটে জয়ী। প্রাইম ব্যাংক- প্রাইম দোলেশ্বর প্রাইম ব্যাংক : ৪৮.৫ ওভারে ১৮২/১০ (সৈকত আলী ৫২, লাহিরু থিরিমান্নে ৫১। সোহাগ গাজী ৩/২৯, তিলকারত্নে সাম্পাথ ৩/৩৪)। প্রাইম দোলেশ্বর : ৪৫.৪ ওভারে ১৮৩/৫ রোশনে শিওঙ্কা সিলভা ৬৩*, তিলকারত্নে সাম্পাথ ৩৪)। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ : তিলকারত্নে সাম্পাথ। প্রাইম দোলেশ্বর এসসি ৫ উইকেটে জয়ী। ঢাকা প্রিমিয়াম লিগ সময়সূচি ৫ম রাউন্ড তারিখ ম্যাচ ভেন্যু ২৮ সেপ্টেম্বর ভিক্টোরিয়া - সিসিএস ফতুল্লা ২৮ সেপ্টেম্বর গাজী ট্যাংক - প্রাইম দোলেশ্বর মিরপুর ২৮ সেপ্টেম্বর প্রাইম ব্যাংক - মোহামেডান বিকেএসপি-৩ ২৯ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ ডে ৩০ সেপ্টেম্বর শেখ জামাল - আবাহনী মিরপুর ৩০ সেপ্টেম্বর কলাবাগান ক্রীড়া চক্র - খেলাঘর বিকেএসপি ৩০ সেপ্টেম্বর ব্রাদার্স - কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমী ফতুল্লা ১ অক্টোবর রিজার্ভ ডে ৬ষ্ঠ রাউন্ড তারিখ ম্যাচ ভেন্যু ২ অক্টোবর ভিক্টোরিয়া - প্রাইম দোলেশ্বর বিকেএসপি-৩ ২ অক্টোবর গাজী ট্যাংক - মোহামেডান বগুড়া ২ অক্টোবর প্রাইম ব্যাংক - আবাহনী ফতুল্লা ৩ অক্টোবর রিজার্ভ ডে ৪ অক্টোবর শেখ জামাল-কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমী বিকেএসপি-৩ ৪ অক্টোবর কলাবাগান ক্রীড়া চক্র - ব্রাদার্স ইউনিয়ন ফতুল্লা ৪ অক্টোবর সিসিএস - খেলাঘর বগুড়া ৫ অক্টোবর রিজার্ভ ডে