তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র বাস্তবায়ন হলে সারা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। কোনোভাবেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না। অবিলম্বে এই প্রকল্প বাতিলের জন্য নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি আহবান জানান।
সুন্দরবন বাঁচাতে রামপাল বিদ্যুত্ প্রকল্প বাতিল এবং বিদ্যুত্ সংকট সমাধানে ঘোষিত সাত দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত লংমার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে পাঁচ দিনব্যাপী লংমার্চের উদ্বোধন করেন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
শহীদুল্লাহ বলেন, রামপাল প্রকল্পে লাভবান হবে ভারত ও বাংলাদেশের কতিপয় দখলদার এবং কমিশনভোগী। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষতি হবে চরম মাত্রায়। সুন্দরবন ধ্বংস হওয়া ছাড়াও প্রত্যক্ষ আর্থিক ক্ষতি হবে বাংলাদেশের। তুলনামূলকভাবে বিদ্যুতের অতিরিক্ত দামের জন্য আর্থিক ক্ষতি হবে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত সম্ভাব্য ক্ষতি যোগ করলে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে পাঁচ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, ‘রামপালে এই কেন্দ্র স্থাপনে সারা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। কোনোভাবেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে দেব না।’
কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মাদ সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা, অবহেলা ও আঘাত হানার চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র করা হলে এর জন্য আপনাদের রাজনৈতিকভাবে চরম মূল্য দিতে হবে। তিনি বলেন, অবিলম্বে এই প্রকল্প বাতিল করুন।
কলামিস্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, এই আন্দোলন জাতীয় আন্দোলন। কোনো জাতি, গোষ্ঠী বা দলের নয়। দেশপ্রেমের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সরকারকে এখন ঠিক করতে হবে তারা দেশপ্রেমিক নাকি দেশদ্রোহী।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ। প্রেসক্লাব থেকে শুরু হওয়া লংমার্চ শাহবাগ, আসাদগেট, গাবতলী, সাভার হয়ে গতকাল রাতে মানিকগঞ্জে পৌঁছেছে।
আমাদের সাভার প্রতিনিধি জানান, গতকাল দুপুর ২টায় লংমার্চটি সাভার পৌঁছালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল স্থবির হয়ে যায়। বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার হাতে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা সাভারে পৌঁছান। এরপর ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনের অস্থায়ী বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব। ওই ঘটনায় নিহতদের স্মরণে কিছু সময় নীরবতা পালন করেন লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা। এরপর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আনু মুহাম্মাদ, সৈয়দ আবুল মকসুদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, বেলা পৌনে ৩টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছায় লংমার্চ। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও মধ্যাহ্নভোজের পর লংমার্চ বহর মানিকগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
আজ সকালে লংমার্চ বহর গোয়ালন্দ-রাজবাড়ী হয়ে ফরিদপুরে গিয়ে দ্বিতীয় দিনের যাত্রা বিরতি করবে।
