জলাবদ্ধতা, ভাঙ্গাচোরা রাস্তা, শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ও জমে থাকা পানির পচা দুর্গন্ধসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত সাতক্ষীরার বিসিক শিল্পনগরী। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। এসব সমস্যা নিরসন করতে না পারলে আগামীতে এখানে বিনিয়োগ কার্যক্রম শ্লথ এমনকি একেবারেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিসিক সূত্র জানায়, ১৯৮৬ সালের ২৬ অক্টোবর শহরের অদূরে বিনেরপোতায় ১৫.৭৫ একর জমির উপর ৯৬টি প্লটে চালু করা হয় শিল্পনগরীটি। সে সময়কার ২৬টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে চালু আছে মাত্র ১৪টি ইউনিট। বর্তমানে এখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫শ শ্রমিক কর্মরত আছে। এসব শিল্প ইউনিটের মধ্যে ৫টি হ্যাচারি, একটি লবণ ফ্যাক্টরি, একটি ফিস ফ্রিজিং ফ্যাক্টরি, একটি গজব্যান্ডেজ ফ্যাক্টরি, একটি বেকারি, একটি তুলা তৈরি ফ্যাক্টরি, একটি দুধ ফ্যাক্টরি, একটি ব্যাটারি ফ্যাক্টরি ও একটি পাইপ ফ্যাক্টরি রয়েছে।
এছাড়া স্থায়ী জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সমস্যা, অভ্যন্তরীণ রাস্তা না থাকাসহ নানা সমস্যায় বন্ধ হয়ে গেছে একটি প্লাস্টিক ফ্যাক্টরি, একটি মুড়ি তৈরির কারখানা ও ১০টি চিংড়ি হ্যাচারি। চিংড়ি পোনা উত্পাদনকারীরা এখানকার নানাবিধ সমস্যার কারণে তাদের কারখানায় উত্পাদিত পোনা বিক্রি করতে না পারায় হ্যাচারিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান হ্যাচারির মালিকরা।
সূত্র আরো জানায়, বিসিক শিল্পনগরীর জলাবদ্ধতা, নিরসন ড্রেনেজ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ও জেলা প্রশাসক ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ে পৃথক ডিও লেটার দিয়েছেন। কিন্তু আজো তার কোনো সাড়া নেই বলে জানা গেছে। এ শিল্পনগরী থেকে প্রতিবছর সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা এবং রাজস্ব আদায় করে থাকে।
সোনারগাঁ হ্যাচারীর মহাব্যবস্থাপক শাহিদুর রহমান পরাগ বলেন, বিসিক শিল্পনগরীর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনীহার কারণে আজকে এটি মৃতপ্রায়। শিল্প মালিকরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেও নানা সমস্যায় প্রতিবছর এখানে কোন না কোন কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বেকার হয়ে যাচ্ছে অনেক শ্রমিক। সরকার যদি এখানকার উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে আরো কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
সাতক্ষীরা শিল্পনগরীর কর্মকর্তা ফারুকী নাজনিন জানান, বিসিক শিল্পনগরীর পাশেই রয়েছে বেতনা নদী। পলি পড়ে নদীর তলদেশ ভরে নদীর পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই অথবা জোয়ার এলেই পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, পানি নিষ্কাষণের জন্য বেতনা নদী থেকে বিসিক শিল্পনগরীকে উঁচু করতে হবে অথবা নদীটি ড্রেজিং করতে হবে।
সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, টাকার বরাদ্দ পেলে সেখানকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। এতে জলাবদ্ধতাসহ অনেক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।
