ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক তার চুরি রোধ করুন

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪৫
ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক তার চুরি বিদ্যুত্ সংকটের অন্যতম কারণ। ইহার কারণে বিভিন্ন এলাকায় প্রায়শ জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া এই সমস্যা চলিতে থাকিলেও ইহার কোন সুরাহা হইতেছে না। সমপ্রতি সহযোগী জাতীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হইয়াছে যে, শুধু পাবনা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি এলাকায় সংঘবদ্ধ চোরের দৌরাত্ম্যে গত দশ বত্সরে এই সমিতির ২১ কোটি টাকার ট্রান্সফরমার ও তার চুরির ঘটনা ঘটিয়াছে। ইহাতে এই এলাকায় দীর্ঘসময়ের জন্য বিদ্যুতের অভাবে কৃষি কাজের সেচযন্ত্র ও শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় ক্ষতি হয় আরও প্রায় ১৯ কোটি টাকা। এইভাবে সব মিলাইয়া এক দশকে ক্ষয়-ক্ষতি হইয়াছে ৪০ কোটি টাকা। এই ধরনের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ না করিয়া পারা যায় না। ট্রান্সফরমার ও তার চুরি বাবদ পল্লী বিদ্যুতের একটি সমিতিতে যদি দশ বত্সরে ৪০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়, তাহা হইলে বিদ্যুত্ খাতের উন্নয়ন হইবে কিভাবে? সারাদেশে পল্লী বিদ্যুতের এই ধরনের সমিতি আরও রহিয়াছে। আবার পিডিবির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। এইভাবে সামগ্রিকভাবে যে ক্ষতিসাধিত হইতেছে তাহা মোকাবিলা করা গেলে এবং লোকসান দূর করিতে পারিলে এই খাতের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। এইখানেই আমাদের নূতন করিয়া দৃষ্টি দিতে হইবে এবং সমস্যার গভীরে গিয়া তাহা যথোপযুক্ত উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করিতে হইবে। জানা যায়, পাবনা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির উপরোক্ত ঘটনায় বিভিন্ন থানায় ৪৫০টি মামলা দায়ের করা হইয়াছে। কিন্তু পুলিশ চোরদের গ্রেফতার করিতে পারিতেছে না। কদাচিত্ কাহাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হইলেও আইনের ফাঁক-ফোঁকর দিয়া তাহারা বাহির হইয়া যাইতেছে এবং পুনরায় ও দ্বিগুণ উত্সাহে চৌর্যবৃত্তিতে তাহাদের জড়াইয়া পড়ার অভিযোগ পাওয়া যাইতেছে। এমনকি একই এলাকায় একই ঘটনা বারংবার ঘটিতেছে তবু সংঘবদ্ধ চোরদের প্রতিরোধ করা যাইতেছে না। এখন প্রশ্ন হইল, পুলিশ কেন চোরদের ধরিতে পারিতেছে না? তাহারা ধরা পড়িবার পর কেন বা সহজেই ছাড়া পাইয়া যাইতেছে? দেশের জ্বালানি সংকট দূর করাকে অগ্রাধিকার দিতে হইলে এই দুই প্রশ্নের সদুত্তর প্রয়োজন। পল্লীবিদ্যুত্ সমিতি, পিডিবি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে যে একেবারেই কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না, তাহা নহে। যেমন তাহারা স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসনের সহিত যোগাযোগ রক্ষা, গ্রাহকের বাড়ি বাড়ি চিঠি প্রেরণ, লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি, মাইকিং করা, রাত্রিকালীন অভিযান, সমিতি কর্তৃক উদ্বুদ্ধকরণ সভার আয়োজন ইত্যাদি কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তাহাছাড়া স্থানীয় জনগণ অনেক সময় সারা রাত্রি জাগিয়া পাহারা দেয় এবং ট্রান্সফরমার যাহাতে চুরি হইয়া না যায়, এইজন্য টান্সফরমারের বডি ওয়েল্ডিং, লোহার খাঁচা তৈরি ও চেইন দিয়া খুঁটিসহ টান্সফরমার তালাবদ্ধ করিয়া থাকে। তাহার পরও চুরি বন্ধ হইতেছে না। অনেকে মনে করেন এইক্ষেত্রে শর্ষের মধ্যে ভূত আছে। অর্থাত্ সমিতি বা সংশ্লিষ্ট অফিসের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ থাকিতে পারে। সাধারণত নিয়ম হইল, চুরি বা বিকল হইয়া যাওয়ার পর নূতন ট্রান্সফরমার স্থাপনে ইহার সামগ্রিক দাম ও দায় পরিশোধ করিতে হয় গ্রাহকদের। এই নিয়মের কারণেও সংঘব্ধ চক্র তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নহে যাহারা দিনের পর দিন ঐ অপকর্ম করিয়া গ্রাহকদের শোষণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখিয়াছে। অনেক সময় চুরি হইয়া যাওয়া ট্রান্সফরমারই আবার বিক্রি করিয়া গ্রাহকদের নিকট গছাইয়া দেওয়া হয়। দেওয়া হয় নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রান্সফরমারও। তাহাছাড়া কখনও কখনও পথে-ঘাটে বিদ্যুতের চুরিকৃত তার সেরদরে বিক্রি হইতে দেখা যায়। তাই প্রয়োজনে ট্রান্সফরমার চুরি রোধে নূতন আইন করিতে হইবে এবং নির্দিষ্ট ডিলার ছাড়া কেহ যাহাতে তামার তার সচরাচর বিক্রয় করিতে না পারে, সেইদিকে নজর রাখিতে হইবে। তবেই এই সমস্যা কিছুটা দূর করা যাইতে পারে।