গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয়ধারী একব্যক্তির একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ৫টি বেঞ্চ, ১টি চেয়ার ও টেবিল এবং চারজন শিক্ষকের ওই মাদ্রাসায় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭জন হলেও ১১১ জন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কর্তব্য অবহেলার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কৈফিয়ত তলব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তরসীচা গ্রামের কাসেম মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন একটি টিনশেড দোচালা ঘরই হলো উত্তরসীচা এবতেদায়ী মাদ্রাসা। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো: নুরন্নবী সরকার এলাকায় সাংবাদিক বলে পরিচিত। তার মোটর সাইকেলের সামনে সাংবাদিকের সাইনবোর্ড থাকলেও মাদ্রাসায় কোন সাইনবোর্ড নেই। মাদ্রাসার হাজিরা খাতায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ শ’ ২০ জন।
সম্প্রতি উপবৃত্তির টাকা উঠানো হয়েছে ১১১ জনের কিন্তু গত শনিবার মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিল মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী। মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না। উপবৃত্তির টাকা ৭ শিক্ষার্থীকে দেয়ার পর ভাগ করে নেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি, প্রধান শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা, স্থানীয় কয়েকজন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। প্রধান শিক্ষক মো: নুরন্নবী সরকার জানান, ২০০১ সালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদ্রাসা তৈরি করতে দেখে তিনিও একটি মাদ্রাসার অনুমোদন নেন। বেতন-ভাতা নেই, তাই শিক্ষকরা সময়মতো আসেন না। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২০ জন হলেও তারা নিয়মিত ক্লাস করেন না। কিন্তু উপবৃত্তির টাকা নিয়ে যান।
